ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই সেবায় ফি বসানোর আইনি তোড়জোড় শুরু হতেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লোকসভায় ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাসের পর বহু বছর ধরে নিখরচায় চলে আসা এই সেবা এবার সাশ্রয়ী থাকবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ
করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে ও মার্কিন
বহুজাতিক কার্ড সংস্থাগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সিদ্ধান্ত
নিচ্ছেন কি না, তা
নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন
চলছে।
নতুন
পাসের মাধ্যমে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭’-এর ধারা ১০এ
পরিবর্তনের পথ তৈরি হওয়ায়
সরকার এখন যেকোনো সময়
বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে চার্জ ধার্য করতে পারবে। এর
আগে জিরো-এমডিআর নীতির
কারণে পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর ব্যাংকগুলোর লাভ
আসছিল না।
তবে
বিরোধীদের দাবি, মার্কিন বাণিজ্য সংস্থা ভিসা ও মাস্টারকার্ডের
বাজার ধরে রাখতে ট্রাম্পের
অব্যাহত শুল্ক হুমকির কাছে নতিস্বীকার করেছে
মোদী সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অসন্তোষ
মেটাতে এবং ওয়াশিংটনের সাথে
বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতেই এই আইনি তোড়জোড়।
তবে
সমস্ত অভিযোগ কড়া ভাষায় খারিজ
করে দিয়েছে দিল্লির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়। চাপের
মুখে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ স্পষ্ট করে বলেন, "ইউপিআই
পরিকাঠামো বিশ্বের বৃহত্তম রিয়াল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেম
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শুধু ২০২৬ সালের
জুলাই মাসেই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৩৬৬
কোটি লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য
ছিল প্রায় ২৯ দশমিক ৯
লাখ কোটি রুপি। এত
বিশাল নেটওয়ার্কের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিকাঠামো বজায়
রাখা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার
আর্থিক স্থায়িত্বের জন্য বিপুল খরচের
প্রয়োজন হয়।"
সরকার
সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের পার্সন-টু-পার্সন লেনদেনে
কোনো ফি দিতে হবে
না। যদি মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট
রেট চালুও হয়, তবে তা
কেবল বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের
ক্ষেত্রে দুই হাজার রুপির
ওপরের লেনদেনে সামান্য হারে প্রযোজ্য হতে
পারে। তবুও ট্রাম্প তোষণ
নাকি অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা; কোন উদ্দেশ্যে মোদী
সরকার এই সিদ্ধান্ত নিল,
তা নিয়ে ভারতের রাজনীতি
এখন তোলপাড়।

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬
ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই সেবায় ফি বসানোর আইনি তোড়জোড় শুরু হতেই দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। লোকসভায় ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাসের পর বহু বছর ধরে নিখরচায় চলে আসা এই সেবা এবার সাশ্রয়ী থাকবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ
করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে ও মার্কিন
বহুজাতিক কার্ড সংস্থাগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সিদ্ধান্ত
নিচ্ছেন কি না, তা
নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন
চলছে।
নতুন
পাসের মাধ্যমে ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০০৭’-এর ধারা ১০এ
পরিবর্তনের পথ তৈরি হওয়ায়
সরকার এখন যেকোনো সময়
বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেনে চার্জ ধার্য করতে পারবে। এর
আগে জিরো-এমডিআর নীতির
কারণে পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর ব্যাংকগুলোর লাভ
আসছিল না।
তবে
বিরোধীদের দাবি, মার্কিন বাণিজ্য সংস্থা ভিসা ও মাস্টারকার্ডের
বাজার ধরে রাখতে ট্রাম্পের
অব্যাহত শুল্ক হুমকির কাছে নতিস্বীকার করেছে
মোদী সরকার। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের অসন্তোষ
মেটাতে এবং ওয়াশিংটনের সাথে
বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতেই এই আইনি তোড়জোড়।
তবে
সমস্ত অভিযোগ কড়া ভাষায় খারিজ
করে দিয়েছে দিল্লির কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়। চাপের
মুখে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ স্পষ্ট করে বলেন, "ইউপিআই
পরিকাঠামো বিশ্বের বৃহত্তম রিয়াল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেম
হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শুধু ২০২৬ সালের
জুলাই মাসেই ইউপিআইয়ের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৩৬৬
কোটি লেনদেন হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য
ছিল প্রায় ২৯ দশমিক ৯
লাখ কোটি রুপি। এত
বিশাল নেটওয়ার্কের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পরিকাঠামো বজায়
রাখা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থার
আর্থিক স্থায়িত্বের জন্য বিপুল খরচের
প্রয়োজন হয়।"
সরকার
সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সাধারণ গ্রাহকদের পার্সন-টু-পার্সন লেনদেনে
কোনো ফি দিতে হবে
না। যদি মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট
রেট চালুও হয়, তবে তা
কেবল বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের
ক্ষেত্রে দুই হাজার রুপির
ওপরের লেনদেনে সামান্য হারে প্রযোজ্য হতে
পারে। তবুও ট্রাম্প তোষণ
নাকি অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা; কোন উদ্দেশ্যে মোদী
সরকার এই সিদ্ধান্ত নিল,
তা নিয়ে ভারতের রাজনীতি
এখন তোলপাড়।

আপনার মতামত লিখুন