রংপুরের বিদ্যুৎ আদালতের পেশকার আরিফুর রহমান জুয়েলের বিরুদ্ধে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আদালত পাড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইনজীবী ও ভুক্তভোগীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ তলায় বিদ্যুৎ আদালত অবস্থিত। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নেসকো ও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক যারা বিল বকেয়া বা অবৈধ ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত হন, তাদের জামিন পাইয়ে দেওয়া বা মামলা নিষ্পত্তির নাম করে পেশকার জুয়েল মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। ১ হাজার টাকা থেকে শুরু করে মামলার ধরন অনুযায়ী ১০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থেকে আসা মোসলেম উদ্দিন নামে এক বিচারপ্রার্থী অভিযোগ করেন, জামিন করিয়ে দেওয়ার কথা বলে পেশকার জুয়েল তার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পেশকার আরিফুর রহমান জুয়েল ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে এটি করা হয়েছে। দুই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ভিডিওর বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে তিনি সংবাদ প্রচার না করার জন্য এই প্রতিবেদককে অনুরোধ জানান।
রংপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহ ইবনে কামাল খতিব বলেন, ‘আদালতের ভেতরে প্রকাশ্যে ঘুষ নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ভিডিওটি আমি দেখেছি। ঘটনাটি তদন্ত করে ওই কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পলাশ কান্তি নাগ ও মানবাধিকারকর্মী রোকনুজ্জামান পৃথক বক্তব্যে বলেন, আদালতের কর্মচারীদের এমন কর্মকাণ্ডে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হচ্ছে। অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে তার শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন