সংবাদ

পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছরেও হয়নি প্রজ্ঞাপন


আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৭ পিএম

পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছরেও হয়নি প্রজ্ঞাপন
ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাতগাঁও চা বাগানের চা কন্যা ভাস্কর্যে পর্যটকদের ভিড়। - সংবাদ।

হাওড়-নদী-পাহাড়ের মিতালীর জেলা মৌলভীবাজার। পুরোটাই পর্যটন এলাকা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আবহাওয়া ও স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা পুরো জেলাকে পর্যটকদের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

মৌলভীবাজারের প্রকৃতি ঋতুভেদে তার রূপ বদলায়। কখনো সবুজে শ্যামলে সতেজ প্রকৃতি গ্রীষ্মের তাপদাহকে যেন শুষে নিয়ে পর্যটকদের প্রশান্তি দেয়। আবার বর্ষার ভারি বৃষ্টি চা বাগানে, বনে বনে চোখজুড়ানো সবুজের গালিচা বিছিয়ে দেয়। হাওরের টুইটুম্বুর জলরাশি দিগন্তজোড়া ঢেউ খেলে। 

ভারি বৃষ্টিতে নদীগুলো অশান্ত হয়ে ওঠে, কূল ভেঙে প্লাবিত করে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো। হাওরের শান্ত জলে নৌকায় ভাসতে কার না মন চায়। শীত আরও ভিন্ন রূপ নিয়ে আসে মৌলভীবাজারের প্রকৃতিতে। হিমশীতল আবহাওয়া, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা কখনো কখনো দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।

মৌলভীবাজারে পর্যটনের আগমন যেমন বাড়ছে, তেমনি জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বহু তরুণ এসব ব্যবসায় জড়িত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতের আয় দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মৌলভীবাজার জেলার আয়তন প্রায় ২ হাজার ৭৯৯ বর্গকিলোমিটার। জেলায় দেশের সর্বোচ্চ ৯৩টি চা বাগান রয়েছে। এজন্য এ জেলাকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ হাওড় হাকালুকির অবস্থান মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ছয়টি উপজেলা এলাকা জুড়ে। হাকালুকি হাওড়ের ১৮১ বর্গকিলোমিটারের বেশি আয়তনের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় ৭০ ভাগ আর সিলেট জেলায় ৩০ ভাগ। হাকালুকি হাওড় দিন দিন হাওড়কেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। 

জেলার ১৫টি নদীর মধ্যে এখন সচল আছে ৯টি। এর মধ্যে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা, ফানাই, জুড়ী, সোনাই নদীকে ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মনু নদীর মাতারকাপনের বেরেজ (সুইস গেইট) অতি পরিচিত পর্যটন স্পট। দেশের তিনটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত এই মৌলভীবাজারে। 

এর মধ্যে বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড়ে পাশাপাশি অবস্থানে মাধবকুণ্ড ও পরীকুণ্ড এবং কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি পাহাড়ে হামহাম জলপ্রপাত। তবে জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশ সবচেয়ে বেশি ঘটেছে মৌলভীবাজারের প্রবেশমুখ উপজেলা শ্রীমঙ্গলকে কেন্দ্র করে।

পর্যটকদের আবাসনের জন্য ইতিমধ্যে এ জেলায় উন্নতমানের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। শ্রীমঙ্গলের চা গবেষণা কেন্দ্রের রেস্টহাউস, চা বোর্ডের চা জাদুঘর ও রিসোর্ট দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থেকে সেবা দিচ্ছে। এরপর উন্নত সেবা ও নান্দনিক পরিবেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে পাঁচ তারকা মানের হোটেল শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান অ্যান্ড টি রিসোর্ট এবং মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্ট। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই শতাধিক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্তত দেড় শতাধিক শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অরণ্যের মধ্যে।

মৌলভীবাজারের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কমলগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, ডানকান চা বাগানের ক্যামেলিয়া লেইক, শমসেরনগর বিমানবন্দর (সংরক্ষিত এলাকা), কুলাউড়ার নবাব বাড়ি, শ্রীমঙ্গলের ডিনস্টন সিমেট্রি, কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের ঐতিহাসিক সিমেট্রি, কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান (রেইন ফরেস্ট), রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্ট, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চা বাগানের চা কন্যার ভাস্কর্য, চা জাদুঘর, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, হাইল হাওড়, বাইক্কাবিল ও বিলাশছড়া লেইক। 

পাশাপাশি রয়েছে, কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর লেইক, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরী পল্লী ও মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, খাসিয়া পুঞ্জি, গারো পল্লিসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পল্লি, বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড়ের মাধবকুণ্ড ও পরীকুণ্ড, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘী হাওর, কাশিমপুর পাম্প হাউজ, কমলা রানীর দিঘি, জলের গ্রাম অন্তেহরি, মৌলভীবাজার সদরের বর্ষিজোড়া ইকো-পার্ক, মনু ব্যারেজ, রাঙাউটি রিসোর্ট, বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ, কুলাউড়ার আমানীপুর ইকো পার্ক এবং বড়লেখার আগর-আতর শিল্প।

ধর্মীয় দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজারের সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর মাজার, মোগল আমলের খোজার মসজিদ এবং শ্রীমঙ্গলের মসজিদুল আউলিয়া খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.)। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গা মন্দির, তারাপাশার বিষ্ণুপদ ধাম ও কুলাউড়ার কাদিপুরের শিববাড়ি উল্লেখযোগ্য। দেশের মধ্যে একমাত্র পাঁচগাঁও দুর্গা মন্দিরে লাল বর্ণের দুর্গা প্রতিমায় পূজা হয়।

শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু ও পর্যটকদের জন্য ট্রেনে বিশেষ বগির দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএইচএ) সভাপতি এম নাসের রহমান। তিনি জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করছে বলে প্রতিউত্তরে জানানো হয়েছে।

মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণা করা হয় ২০০৮ সালে। ঘোষণাতেই শেষ। আজও এ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ২০০৮ সালের ১ জুলাই ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ রোড শো উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদী মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ‘মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন জেলা হিসেবে উন্নীতকরণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে মৌলভীবাজার জেলা পর্যটন শিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

আকাশের নীলে নীল জলরাশি। হাওরের শান্ত জলে ঘুরে বেড়ানো এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। ছবিটি মৌলভীবাজারের কাউয়াদীর্ঘি হাওরে ধারণকৃত। - সংবাদ।

প্রতিবছর বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক এ জেলা ভ্রমণে আসেন। কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আবাসন, বিনোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় তারা অনেক ক্ষেত্রে নিরাশ হন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকালে গত ১৭ জুন শ্রীমঙ্গলের জনসভায় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী তার বক্তব্যে মৌলভীবাজার পর্যটনের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে মৌলভীবাজার পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবিও ছিল।

বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন ২০১০-এর ৪ ধারা অনুসারে পর্যটন শিল্প রয়েছে অথবা পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে এমন কোনো এলাকাকে চিহ্নিতকরণ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন হলে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা উক্ত এলাকাকে পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। একই আইনের ৫ ধারা অনুসারে সরকার সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা পর্যটন সংরক্ষিত এলাকায় বিশেষ পর্যটন অঞ্চল ঘোষণা করতে পারবেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পর্যটন জেলা ঘোষণার ১৮ বছরেও হয়নি প্রজ্ঞাপন

প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

হাওড়-নদী-পাহাড়ের মিতালীর জেলা মৌলভীবাজার। পুরোটাই পর্যটন এলাকা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আবহাওয়া ও স্থানীয় মানুষের আতিথেয়তা পুরো জেলাকে পর্যটকদের নিরাপদ বিচরণক্ষেত্রে পরিণত করেছে।

মৌলভীবাজারের প্রকৃতি ঋতুভেদে তার রূপ বদলায়। কখনো সবুজে শ্যামলে সতেজ প্রকৃতি গ্রীষ্মের তাপদাহকে যেন শুষে নিয়ে পর্যটকদের প্রশান্তি দেয়। আবার বর্ষার ভারি বৃষ্টি চা বাগানে, বনে বনে চোখজুড়ানো সবুজের গালিচা বিছিয়ে দেয়। হাওরের টুইটুম্বুর জলরাশি দিগন্তজোড়া ঢেউ খেলে। 

ভারি বৃষ্টিতে নদীগুলো অশান্ত হয়ে ওঠে, কূল ভেঙে প্লাবিত করে নদীতীরবর্তী গ্রামগুলো। হাওরের শান্ত জলে নৌকায় ভাসতে কার না মন চায়। শীত আরও ভিন্ন রূপ নিয়ে আসে মৌলভীবাজারের প্রকৃতিতে। হিমশীতল আবহাওয়া, কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা কখনো কখনো দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।

মৌলভীবাজারে পর্যটনের আগমন যেমন বাড়ছে, তেমনি জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বহু তরুণ এসব ব্যবসায় জড়িত হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট খাতের আয় দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

মৌলভীবাজার জেলার আয়তন প্রায় ২ হাজার ৭৯৯ বর্গকিলোমিটার। জেলায় দেশের সর্বোচ্চ ৯৩টি চা বাগান রয়েছে। এজন্য এ জেলাকে চায়ের রাজধানী বলা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ হাওড় হাকালুকির অবস্থান মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ছয়টি উপজেলা এলাকা জুড়ে। হাকালুকি হাওড়ের ১৮১ বর্গকিলোমিটারের বেশি আয়তনের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলায় ৭০ ভাগ আর সিলেট জেলায় ৩০ ভাগ। হাকালুকি হাওড় দিন দিন হাওড়কেন্দ্রিক পর্যটনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। 

জেলার ১৫টি নদীর মধ্যে এখন সচল আছে ৯টি। এর মধ্যে মনু, ধলাই, কুশিয়ারা, ফানাই, জুড়ী, সোনাই নদীকে ঘিরে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মনু নদীর মাতারকাপনের বেরেজ (সুইস গেইট) অতি পরিচিত পর্যটন স্পট। দেশের তিনটি প্রাকৃতিক জলপ্রপাত এই মৌলভীবাজারে। 

এর মধ্যে বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড়ে পাশাপাশি অবস্থানে মাধবকুণ্ড ও পরীকুণ্ড এবং কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি পাহাড়ে হামহাম জলপ্রপাত। তবে জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশ সবচেয়ে বেশি ঘটেছে মৌলভীবাজারের প্রবেশমুখ উপজেলা শ্রীমঙ্গলকে কেন্দ্র করে।

পর্যটকদের আবাসনের জন্য ইতিমধ্যে এ জেলায় উন্নতমানের হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। শ্রীমঙ্গলের চা গবেষণা কেন্দ্রের রেস্টহাউস, চা বোর্ডের চা জাদুঘর ও রিসোর্ট দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে থেকে সেবা দিচ্ছে। এরপর উন্নত সেবা ও নান্দনিক পরিবেশ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে পাঁচ তারকা মানের হোটেল শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড সুলতান অ্যান্ড টি রিসোর্ট এবং মৌলভীবাজারের দুসাই রিসোর্ট। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই শতাধিক রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে অন্তত দেড় শতাধিক শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার পাহাড়ি অরণ্যের মধ্যে।

মৌলভীবাজারের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—কমলগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, ডানকান চা বাগানের ক্যামেলিয়া লেইক, শমসেরনগর বিমানবন্দর (সংরক্ষিত এলাকা), কুলাউড়ার নবাব বাড়ি, শ্রীমঙ্গলের ডিনস্টন সিমেট্রি, কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের ঐতিহাসিক সিমেট্রি, কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান (রেইন ফরেস্ট), রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্ট, শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চা বাগানের চা কন্যার ভাস্কর্য, চা জাদুঘর, সীতেশ বাবুর চিড়িয়াখানা, হাইল হাওড়, বাইক্কাবিল ও বিলাশছড়া লেইক। 

পাশাপাশি রয়েছে, কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর লেইক, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরী পল্লী ও মণিপুরী ললিতকলা একাডেমি, খাসিয়া পুঞ্জি, গারো পল্লিসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পল্লি, বড়লেখার পাথারিয়া পাহাড়ের মাধবকুণ্ড ও পরীকুণ্ড, রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘী হাওর, কাশিমপুর পাম্প হাউজ, কমলা রানীর দিঘি, জলের গ্রাম অন্তেহরি, মৌলভীবাজার সদরের বর্ষিজোড়া ইকো-পার্ক, মনু ব্যারেজ, রাঙাউটি রিসোর্ট, বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ, কুলাউড়ার আমানীপুর ইকো পার্ক এবং বড়লেখার আগর-আতর শিল্প।

ধর্মীয় দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে মৌলভীবাজারের সৈয়দ শাহ মোস্তফা (রহ.)-এর মাজার, মোগল আমলের খোজার মসজিদ এবং শ্রীমঙ্গলের মসজিদুল আউলিয়া খাজা মোজাম্মেল হক (রহ.)। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে রাজনগরের পাঁচগাঁওয়ের লাল দুর্গা মন্দির, তারাপাশার বিষ্ণুপদ ধাম ও কুলাউড়ার কাদিপুরের শিববাড়ি উল্লেখযোগ্য। দেশের মধ্যে একমাত্র পাঁচগাঁও দুর্গা মন্দিরে লাল বর্ণের দুর্গা প্রতিমায় পূজা হয়।

শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু ও পর্যটকদের জন্য ট্রেনে বিশেষ বগির দাবি জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএইচএ) সভাপতি এম নাসের রহমান। তিনি জাতীয় সংসদে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে কাজ করছে বলে প্রতিউত্তরে জানানো হয়েছে।

মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা ঘোষণা করা হয় ২০০৮ সালে। ঘোষণাতেই শেষ। আজও এ সংক্রান্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ২০০৮ সালের ১ জুলাই ‘এসো বাংলাদেশ গড়ি’ রোড শো উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান শফিক আলম মেহেদী মৌলভীবাজারকে পর্যটন জেলা হিসেবে ঘোষণা করেন।

মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ‘মৌলভীবাজার জেলাকে পর্যটন জেলা হিসেবে উন্নীতকরণ’ নামে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে মৌলভীবাজার জেলা পর্যটন শিল্পের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

আকাশের নীলে নীল জলরাশি। হাওরের শান্ত জলে ঘুরে বেড়ানো এখন পর্যটকদের নতুন আকর্ষণ। ছবিটি মৌলভীবাজারের কাউয়াদীর্ঘি হাওরে ধারণকৃত। - সংবাদ।

প্রতিবছর বহু দেশি-বিদেশি পর্যটক এ জেলা ভ্রমণে আসেন। কিন্তু পর্যটকদের চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, আবাসন, বিনোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় তারা অনেক ক্ষেত্রে নিরাশ হন।

প্রধানমন্ত্রীর শ্রীমঙ্গল সফরকালে গত ১৭ জুন শ্রীমঙ্গলের জনসভায় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী তার বক্তব্যে মৌলভীবাজার পর্যটনের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। এর মধ্যে মৌলভীবাজার পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবিও ছিল।

বাংলাদেশ পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা ও বিশেষ পর্যটন অঞ্চল আইন ২০১০-এর ৪ ধারা অনুসারে পর্যটন শিল্প রয়েছে অথবা পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে এমন কোনো এলাকাকে চিহ্নিতকরণ ও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন হলে সরকার, সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা উক্ত এলাকাকে পর্যটন সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন। একই আইনের ৫ ধারা অনুসারে সরকার সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা পর্যটন সংরক্ষিত এলাকায় বিশেষ পর্যটন অঞ্চল ঘোষণা করতে পারবেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত