জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা যাবে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যশোরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘কৌশল থেকে বাস্তবায়ন: জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ও জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা জানান। গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন-পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ প্রকল্প এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের বিপুলসংখ্যক সরকারি-বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের ছাদ রয়েছে। এসব ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের সুযোগ কাজে লাগানো গেলে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। এরপর যে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে, তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। বিদ্যুৎ বিভাগের নেট মিটারিং ব্যবস্থাতেও গ্রাহকের নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে একদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাপ কমবে, অন্যদিকে বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা নিজেদের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। ফলে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা ও নেট মিটারিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরাফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগের সমন্বয়ক স্টোয়ানকা স্টিচ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করা যাবে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) যশোরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘কৌশল থেকে বাস্তবায়ন: জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ও জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা জানান। গ্রিন এনার্জি ট্রানজিশন-পলিসি অ্যাডভাইজরি পার্টনারশিপ প্রকল্প এ কর্মশালার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ এবং জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎকে গুরুত্ব দিতে হবে। দেশের বিপুলসংখ্যক সরকারি-বেসরকারি ভবন ও প্রতিষ্ঠানের ছাদ রয়েছে। এসব ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের সুযোগ কাজে লাগানো গেলে একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে।
তিনি জানান, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। এরপর যে বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকবে, তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। বিদ্যুৎ বিভাগের নেট মিটারিং ব্যবস্থাতেও গ্রাহকের নিজস্ব ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ গ্রিডে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে একদিকে জাতীয় গ্রিডের ওপর বিদ্যুতের চাপ কমবে, অন্যদিকে বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা নিজেদের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে পারবেন। ফলে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্যও নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।
কর্মশালায় জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬-২০৩০ বাস্তবায়ন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, অর্থায়ন, কার্বন ক্রেডিট, প্রণোদনা, নীতিগত সহায়তা ও নেট মিটারিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ইতোমধ্যে জাতীয় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ কর্মসূচির পাশাপাশি ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র প্রকাশ করেছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ বিভাগের যুগ্ম সচিব আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরাফিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জার্মান উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জিআইজেড বাংলাদেশের জ্বালানি বিভাগের সমন্বয়ক স্টোয়ানকা স্টিচ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ।
যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খানসহ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন