সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা বিএনপির রাজনীতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী পারভীন আক্তারের মামলা এবং তার সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকের পাল্টা অবস্থান-দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত এক মাস ধরে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যক্রম আলাদাভাবে চলছে। পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, যৌথ সভা, অব্যাহতির সুপারিশ ও পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সম্প্রতি তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
গত ৬ আগস্ট নাছির উদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বিশাল শোডাউন হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন, ফারুক সর্দার, হুমায়ুন কবির তালুকদার, শাহ আলম, মজিবুর রহমানসহ অন্য নেতারা। নাছির চৌধুরী বলেন, ‘যারা আলাদা সভা করবে তারা বিএনপির কেউ নয়। তারা দলে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।’
অন্যদিকে, গত ৮ আগস্ট মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকের ডাকা শোডাউন দিরাই বাগানবাড়ি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মাসুক চৌধুরীসহ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল চৌধুরী ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা। মাসুক চৌধুরী দাবি করেন, লন্ডন প্রবাসী বিএনপি নেতা ও বিএনপির মনোনয়ন প্রতিযোগী তাহির চৌধুরী পাভেল তাদের সঙ্গে রয়েছেন।
এদিকে গত ১০ আগস্ট দিরাই আদালতে নাছির চৌধুরীর সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পারভীন আক্তার। আদালত মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পারভীন আক্তারের অভিযোগ, ‘২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল স্বামী অসুস্থ থাকাকালীন ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক তাকে ও তার দুই মেয়ে নাজিয়া চৌধুরী ও নাদিয়া চৌধুরীকে মারধর করে গভীর রাতে বৃষ্টির মধ্যে বের করে দেন। তিনি শ্লীলতাহানিও করেন। পাশাপাশি টাকা ও মূল্যবান জিনিস আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।'
অভিযোগের জবাবে মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, ‘২০০১ সালে নাছির উদ্দিন চৌধুরী পরিবারের অজান্তেই পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন। পরে জানতে পারি তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। উত্তরা থানায় নাছির চৌধুরী একটি জিডিও করেছিলেন।’
সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুক বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রেশন করেছেন সাব-রেজিস্টার। আমার বোন এবং নাছির চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী শেলী চৌধুরী (মৃত) উপস্থিত ছিলেন। পারভীন আক্তার সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি ও লুটপাট শুরু করেছেন।’
দলীয় একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী পারভীন আক্তার কিছু পছন্দের নেতাকর্মী নিয়ে দল পরিচালনা করতে চান। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
গেল ৬ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রে দুই পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে কর্মসূচি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু কোনো পক্ষই তা আমলে নেয়নি।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’
পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি ও রাজনীতির উত্তরাধিকার নিতে আমার সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক ষড়যন্ত্র করছেন। তার সঙ্গে কিছু মানুষ যোগ দিয়েছেন, কিন্তু এতে কাজ হবে না।’
নেতাকর্মীরা বলছেন, দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব দিরাই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি বিভক্তি তৈরি করতে পারে। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের পরবর্তী কর্মসূচি ও জেলা কমিটির ভূমিকা এখন দেখার বিষয়।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা বিএনপির রাজনীতি এখন নতুন মোড় নিয়েছে। সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী পারভীন আক্তারের মামলা এবং তার সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকের পাল্টা অবস্থান-দুই পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গত এক মাস ধরে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির কার্যক্রম আলাদাভাবে চলছে। পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন, যৌথ সভা, অব্যাহতির সুপারিশ ও পৃথক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত। সম্প্রতি তা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
গত ৬ আগস্ট নাছির উদ্দীন চৌধুরীর নেতৃত্বে দিরাই উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বিশাল শোডাউন হয়। এতে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমির হোসেন, ফারুক সর্দার, হুমায়ুন কবির তালুকদার, শাহ আলম, মজিবুর রহমানসহ অন্য নেতারা। নাছির চৌধুরী বলেন, ‘যারা আলাদা সভা করবে তারা বিএনপির কেউ নয়। তারা দলে বিভক্তি সৃষ্টি করতে চায়। এদের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।’
অন্যদিকে, গত ৮ আগস্ট মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকের ডাকা শোডাউন দিরাই বাগানবাড়ি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন মাসুক চৌধুরীসহ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট ইকবাল চৌধুরী ও দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা। মাসুক চৌধুরী দাবি করেন, লন্ডন প্রবাসী বিএনপি নেতা ও বিএনপির মনোনয়ন প্রতিযোগী তাহির চৌধুরী পাভেল তাদের সঙ্গে রয়েছেন।
এদিকে গত ১০ আগস্ট দিরাই আদালতে নাছির চৌধুরীর সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুকসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পারভীন আক্তার। আদালত মামলা আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
পারভীন আক্তারের অভিযোগ, ‘২০২৫ সালের ১৮ এপ্রিল স্বামী অসুস্থ থাকাকালীন ঢাকা থেকে বাড়িতে এলে সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক তাকে ও তার দুই মেয়ে নাজিয়া চৌধুরী ও নাদিয়া চৌধুরীকে মারধর করে গভীর রাতে বৃষ্টির মধ্যে বের করে দেন। তিনি শ্লীলতাহানিও করেন। পাশাপাশি টাকা ও মূল্যবান জিনিস আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।'
অভিযোগের জবাবে মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, ‘২০০১ সালে নাছির উদ্দিন চৌধুরী পরিবারের অজান্তেই পারভীন আক্তারকে বিয়ে করেন। পরে জানতে পারি তাদের ডিভোর্স হয়ে গেছে। উত্তরা থানায় নাছির চৌধুরী একটি জিডিও করেছিলেন।’
সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে মাসুক বলেন, ‘দলিল রেজিস্ট্রেশন করেছেন সাব-রেজিস্টার। আমার বোন এবং নাছির চৌধুরীর প্রথম স্ত্রী শেলী চৌধুরী (মৃত) উপস্থিত ছিলেন। পারভীন আক্তার সিন্ডিকেট করে দুর্নীতি ও লুটপাট শুরু করেছেন।’
দলীয় একাংশের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর স্ত্রী পারভীন আক্তার কিছু পছন্দের নেতাকর্মী নিয়ে দল পরিচালনা করতে চান। ত্যাগীদের মূল্যায়ন না করায় দলে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
গেল ৬ আগস্ট সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক স্বাক্ষরিত এক পত্রে দুই পক্ষকে সমঝোতার মাধ্যমে কর্মসূচি করার নির্দেশ দেন। কিন্তু কোনো পক্ষই তা আমলে নেয়নি।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হক বলেন, ‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে পরামর্শ করে দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।’
পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামীর অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে সম্পত্তি ও রাজনীতির উত্তরাধিকার নিতে আমার সৎ ভাই মাইনুদ্দিন চৌধুরী মাসুক ষড়যন্ত্র করছেন। তার সঙ্গে কিছু মানুষ যোগ দিয়েছেন, কিন্তু এতে কাজ হবে না।’
নেতাকর্মীরা বলছেন, দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব দিরাই বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি বিভক্তি তৈরি করতে পারে। চলমান উত্তেজনার মধ্যেই দুই পক্ষের পরবর্তী কর্মসূচি ও জেলা কমিটির ভূমিকা এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন