চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলায় মোবাইল চুরির সন্দেহে তারেক ঢালী (১৮) নামে এক যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই যুবক বর্তমানে মতলব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় সফিক প্রধান (৩৫) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর দক্ষিণ পাড়া প্রধানীয়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত তারেক ওই এলাকার প্রয়াত জাকির হোসেন ঢালীর ছেলে। তিনি ছোট ভাইকে নিয়ে ঢাকায় একটি ক্যান্টিনে কাজ করেন। সম্প্রতি ছুটিতে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।
আহত তারেকের মা খুকী বেগম জানান, মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে আল-আমিন, সফিক, তানিম ও মোতালেব প্রধান নামে চার ব্যক্তি তার ছেলেকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে তাদের বাড়িতে নিয়ে মোবাইল চুরির সন্দেহে তারেককে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে নারিকেল গাছের ডাল দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। এমনকি মাথায় গামছা বেঁধে গরম পানিও ঢালা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
খুকী বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘টানা ছয়–সাত ঘণ্টা নির্যাতন চালানো হলেও ভয়ে কেউ আমার ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে। অর্থাভাবে ছেলের ঠিকমতো চিকিৎসাও করাতে পারছি না।’
খবর পেয়ে বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক আহত তারেককে দেখতে তার বাড়িতে যান এবং পরিবারটিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দা নবী উল্লাহ পাটোয়ারী বলেন, খুবই অসহায় ও গরিব এই পরিবারটি পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করে। চুরির অপবাদে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।
মতলব দক্ষিণ থানার ওসি হাফিজুর রহমান মানিক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সফিক প্রধানকে বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের ধরতেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন