সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় প্রশাসনের তৎপরতায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিয়ের আয়োজন পণ্ড করে দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে দেবেন না মর্মে মা-বাবার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বারাত-মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীর বিয়ের জন্য সোমবার (১০ আগস্ট) পাইকগাছার কপিলমুনি এলাকা থেকে পাত্রপক্ষ তাকে দেখতে আসে। মেয়ের মা ও মামার পছন্দে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে গোপনে বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নেটজ বাংলাদেশ ও রিইব-এর হোপ প্রকল্পের উপজেলা সিএসও কমিটির নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কার্যালয়ের একটি দল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালেই মনোহরপুর গ্রামে মেয়ের মামার বাড়িতে হাজির হয়। ঘটনার সত্যতা পেয়ে দুপুরে শিক্ষার্থী ও তার মা-বাবাকে ইউএনওর কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ বলেন, ‘মেয়েটি অত্যন্ত মেধাবী। তার পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিয়ের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁদের সতর্ক করা হয়েছে।’ পরে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান এবং মেয়েকে বিয়ে দেবেন না মর্মে মুচলেকা দেন অভিভাবকেরা।
উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা নাজমুন নাহার জানান, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সিএসও সদস্যরা পুনরায় বারাত গ্রামে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীর খোঁজখবর নিয়েছেন যাতে গোপনে আবার বিয়ের আয়োজন করা না হয়।
আপনার মতামত লিখুন