সংবাদ

নাম বিভ্রাটে সাজা ভোগ করছেন নির্দোষ ব্যক্তি


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, কক্সবাজার
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০৬ পিএম

নাম বিভ্রাটে সাজা ভোগ করছেন নির্দোষ ব্যক্তি
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। মামলার মূল আসামি অন্য একজনের পরিচয় ব্যবহার করে আত্মগোপন করলেও সেই নামের মিল থাকায় এখন মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে কারাগারে দিন কাটছে সোনা মিয়া নামের এক নির্দোষ ব্যক্তির। পুলিশের সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে এই ভয়ংকর ভুলের কথা উঠে এসেছে।

ঘটনার শুরু ২০২০ সালে। তখন ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ব্যক্তি নিজের নাম ‘সোনা মিয়া’ পরিচয় দিয়ে অন্যের জন্মনিবন্ধন কার্ড জমা দেন। পুলিশ তখন তদন্তে উল্লেখ করেছিল যে আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক নয়। তবুও ওই পরিচয় ব্যবহার করেই মামলা চলে। ২০২২ সালে ওই ব্যক্তি জামিন পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত ওই ‘সোনা মিয়া’সহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

গত ২৩ জুন র‍্যাব রামু থেকে সোনা মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি জেল সুপারের মাধ্যমে জানান, তিনি এই মামলার প্রকৃত সোনা মিয়া নন। আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে গত ২ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এবং বর্তমানের সোনা মিয়া এক নন।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান। তিনি সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে প্রতারণা করেছিলেন। রমজান ও সোনা মিয়া আগে একই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং পরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়াপাড়ায় একই ঘরে থাকতেন। সেই সুযোগেই সোনা মিয়ার তথ্য হাতিয়ে নেন রমজান।

পুলিশের নথিতে থাকা ২০২০ সালের আসামির ছবি, স্ত্রী-সন্তানের নাম এবং শারীরিক চিহ্নের সঙ্গে বর্তমানে কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান বলেন, 'তদন্তকারী কর্মকর্তা শুরুতেই নাম-ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পরও প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত না হওয়াটা বড় গাফিলতি। এই সুযোগে আসল অপরাধী পালিয়ে গেছে এবং একজন নির্দোষ মানুষ ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে জেল খাটছে।'

কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আমার স্বামী আগে কোনোদিন জেল খাটেনি, তার নামে কোনো মামলাও নেই। রমজান নামের একজনের সাথে তার পরিচয় ছিল, ওই লোকই ইয়াবাসহ ধরা পড়েছিল। আমার স্বামীকে ভুল করে এই সাজা দেওয়া হচ্ছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।'

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যেখানে দুই ব্যক্তির ভিন্নতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


নাম বিভ্রাটে সাজা ভোগ করছেন নির্দোষ ব্যক্তি

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। মামলার মূল আসামি অন্য একজনের পরিচয় ব্যবহার করে আত্মগোপন করলেও সেই নামের মিল থাকায় এখন মৃত্যুদণ্ডের সাজা মাথায় নিয়ে কারাগারে দিন কাটছে সোনা মিয়া নামের এক নির্দোষ ব্যক্তির। পুলিশের সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদনে এই ভয়ংকর ভুলের কথা উঠে এসেছে।

ঘটনার শুরু ২০২০ সালে। তখন ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবাসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই ব্যক্তি নিজের নাম ‘সোনা মিয়া’ পরিচয় দিয়ে অন্যের জন্মনিবন্ধন কার্ড জমা দেন। পুলিশ তখন তদন্তে উল্লেখ করেছিল যে আসামির নাম-ঠিকানা সঠিক নয়। তবুও ওই পরিচয় ব্যবহার করেই মামলা চলে। ২০২২ সালে ওই ব্যক্তি জামিন পেয়ে আত্মগোপনে চলে যান। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত ওই ‘সোনা মিয়া’সহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

গত ২৩ জুন র‍্যাব রামু থেকে সোনা মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। কারাগারে যাওয়ার পর তিনি জেল সুপারের মাধ্যমে জানান, তিনি এই মামলার প্রকৃত সোনা মিয়া নন। আদালতের নির্দেশে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে গত ২ জুলাই প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি এবং বর্তমানের সোনা মিয়া এক নন।

তদন্তে জানা গেছে, ২০২০ সালে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির প্রকৃত নাম রমজান। তিনি সোনা মিয়ার জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে প্রতারণা করেছিলেন। রমজান ও সোনা মিয়া আগে একই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং পরে কক্সবাজারের কুতুবদিয়াপাড়ায় একই ঘরে থাকতেন। সেই সুযোগেই সোনা মিয়ার তথ্য হাতিয়ে নেন রমজান।

পুলিশের নথিতে থাকা ২০২০ সালের আসামির ছবি, স্ত্রী-সন্তানের নাম এবং শারীরিক চিহ্নের সঙ্গে বর্তমানে কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মান্নান বলেন, 'তদন্তকারী কর্মকর্তা শুরুতেই নাম-ঠিকানা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার পরও প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত না হওয়াটা বড় গাফিলতি। এই সুযোগে আসল অপরাধী পালিয়ে গেছে এবং একজন নির্দোষ মানুষ ফাঁসির রায় মাথায় নিয়ে জেল খাটছে।'

কারাগারে থাকা সোনা মিয়ার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, 'আমার স্বামী আগে কোনোদিন জেল খাটেনি, তার নামে কোনো মামলাও নেই। রমজান নামের একজনের সাথে তার পরিচয় ছিল, ওই লোকই ইয়াবাসহ ধরা পড়েছিল। আমার স্বামীকে ভুল করে এই সাজা দেওয়া হচ্ছে। আমি ন্যায়বিচার চাই।'

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, যেখানে দুই ব্যক্তির ভিন্নতার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত