সংবাদ

কেরামের আড়ালে জুয়া, ধ্বংসের পথে তরুণরা


প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

কেরামের আড়ালে জুয়া, ধ্বংসের পথে তরুণরা
ছবি : সংবাদ

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিনোদনের আড়ালে জেঁকে বসেছে জুয়ার নেশা। উপজেলার চার ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন দিন-রাত চলছে কেরাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, অভিযোগ উঠেছে এই খেলার আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয় সচেতন মহলকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের প্রায় এক হাজারেরও বেশি চায়ের দোকানে কেরাম বোর্ড বসানো হয়েছে। আমড়াগাছিয়া, রায়েন্দা বাজার, তাফালবাড়ীসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই আসর। খেলা প্রতি বাজির টাকা হার-জিতের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে কিশোর ও যুবকরা। অনেক ক্ষেত্রে কেরামের পাশাপাশি স্মার্টফোনে অনলাইন ক্যাসিনো গেমের দিকেও ঝুঁকছে তারা।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।

শরণখোলা উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, 'শরণখোলায় কেরামের নামে কোনো জুয়া চলতে দেওয়া হবে না। আমরা প্রশাসনকে বলেছি এই অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।'

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খাতুন জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদক ও অপরাধ দমনে কাজ করছেন। তিনি বলেন, 'কেরাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি আমি অবগত আছি। খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে এসব বোর্ড জব্দ করা হবে। জুয়া ও মাদকের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্থিতা হাওলাদার বলেন, 'এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজ ও পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়াড়ি ও তাদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শরণখোলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬


কেরামের আড়ালে জুয়া, ধ্বংসের পথে তরুণরা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাগেরহাটের শরণখোলায় বিনোদনের আড়ালে জেঁকে বসেছে জুয়ার নেশা। উপজেলার চার ইউনিয়নের বিভিন্ন হাট-বাজার ও গ্রামগঞ্জের চায়ের দোকানে এখন দিন-রাত চলছে কেরাম খেলা। তবে এটি কেবল খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, অভিযোগ উঠেছে এই খেলার আড়ালে চলছে রমরমা জুয়ার আসর। এতে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা ভাবিয়ে তুলছে স্থানীয় সচেতন মহলকে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নের প্রায় এক হাজারেরও বেশি চায়ের দোকানে কেরাম বোর্ড বসানো হয়েছে। আমড়াগাছিয়া, রায়েন্দা বাজার, তাফালবাড়ীসহ বিভিন্ন ছোট-বড় বাজারে সকাল থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই আসর। খেলা প্রতি বাজির টাকা হার-জিতের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকছে কিশোর ও যুবকরা। অনেক ক্ষেত্রে কেরামের পাশাপাশি স্মার্টফোনে অনলাইন ক্যাসিনো গেমের দিকেও ঝুঁকছে তারা।

স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি এই জুয়ার আসরগুলো যুবসমাজকে পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সামাজিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।

শরণখোলা উপজেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক মো. বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, 'শরণখোলায় কেরামের নামে কোনো জুয়া চলতে দেওয়া হবে না। আমরা প্রশাসনকে বলেছি এই অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।'

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খাতুন জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাদক ও অপরাধ দমনে কাজ করছেন। তিনি বলেন, 'কেরাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসার বিষয়টি আমি অবগত আছি। খুব দ্রুতই অভিযান চালিয়ে এসব বোর্ড জব্দ করা হবে। জুয়া ও মাদকের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) অর্থিতা হাওলাদার বলেন, 'এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজ ও পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়াড়ি ও তাদের মদদদাতাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শরণখোলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত