চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার সংযোগস্থল ধনাগোদা নদীতে দীর্ঘ সাত বছর পর ফিরল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে সমাগম ঘটে হাজার হাজার মানুষের। উৎসবমুখর পরিবেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আয়োজন রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
বৈঠার তালে মাঝি-মাল্লাদের সারি গান আর শেয়ানে শেয়ানে লড়াইয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নদীর তীর। ঘাটে তিল ধারণের জায়গা না পেয়ে অনেক দর্শককে দেখা যায় পাশের ভবনের ছাদ কিংবা গাছের ডালে চড়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে। শিশু থেকে বৃদ্ধ–সব বয়সী মানুষের সরব উপস্থিতিতে ধনাগোদা নদী যেন প্রাণ ফিরে পায়।
‘নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে’–এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মতলবের দুই উপজেলার ৯টি নৌকা অংশ নেয়। কয়েক ধাপের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ৬টি দল চূড়ান্ত পর্বে (ফাইনাল রাউন্ড) উত্তীর্ণ হয়।
চূড়ান্ত লড়াইয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে মতলব দক্ষিণ উপজেলার জিলানী প্রধানের ‘বাংলাদেশ লাল সবুজ দল’। চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ঘরে তোলে একটি ফ্রিজ। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ছিডু প্রধানের দল এবং তৃতীয় হয় কামাল সওদাগরের দল। পুরস্কার হিসেবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে যথাক্রমে ৩২ ও ২৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মেজু। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নূরে আলম মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস সরকার মুন্না ও ছাত্রদল নেতা রাজা ফয়সালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার সংযোগস্থল ধনাগোদা নদীতে দীর্ঘ সাত বছর পর ফিরল গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে নদীর দুই পাড়ে সমাগম ঘটে হাজার হাজার মানুষের। উৎসবমুখর পরিবেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই আয়োজন রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
বৈঠার তালে মাঝি-মাল্লাদের সারি গান আর শেয়ানে শেয়ানে লড়াইয়ে মুখর হয়ে ওঠে পুরো নদীর তীর। ঘাটে তিল ধারণের জায়গা না পেয়ে অনেক দর্শককে দেখা যায় পাশের ভবনের ছাদ কিংবা গাছের ডালে চড়ে প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে। শিশু থেকে বৃদ্ধ–সব বয়সী মানুষের সরব উপস্থিতিতে ধনাগোদা নদী যেন প্রাণ ফিরে পায়।
‘নদী বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে’–এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় মতলবের দুই উপজেলার ৯টি নৌকা অংশ নেয়। কয়েক ধাপের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ৬টি দল চূড়ান্ত পর্বে (ফাইনাল রাউন্ড) উত্তীর্ণ হয়।
চূড়ান্ত লড়াইয়ে সবাইকে ছাড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে মতলব দক্ষিণ উপজেলার জিলানী প্রধানের ‘বাংলাদেশ লাল সবুজ দল’। চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ঘরে তোলে একটি ফ্রিজ। প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ছিডু প্রধানের দল এবং তৃতীয় হয় কামাল সওদাগরের দল। পুরস্কার হিসেবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে যথাক্রমে ৩২ ও ২৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন প্রদান করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম। প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-ক্রীড়া সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মেজু। উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নূরে আলম মিয়াজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইদ্রিস সরকার মুন্না ও ছাত্রদল নেতা রাজা ফয়সালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুবসমাজকে মাদক, কিশোর গ্যাং ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের কাছে লোকজ সংস্কৃতি তুলে ধরতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন