মেঘনার ভাঙন-গড়ার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা জনপদ চাঁদপুরের হাইমচর। এই জনপদে দীর্ঘ চার দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজস্ব ঠিকানা পেল হাইমচর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। মেঘনাপাড়ের এই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর স্থায়ী জায়গার অভাব দূর হওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রাণের স্পন্দন।
বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের চতুর্থ তলায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে একাডেমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে এর শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মশতবর্ষ স্মরণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় খুদে শিল্পীদের পরিবেশিত নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে থানা এবং ১৯৮৪ সালে হাইমচর পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত হয়। তবে দীর্ঘ ৪০ বছর পার হলেও নানা প্রতিকূলতায় এখানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলেও এখানকার শিল্পীরা থেমে থাকেননি; নিজ প্রতিভা ও সাধনায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কুড়িয়েছেন অজস্র সম্মাননা। অবশেষে নিজস্ব একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, 'সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির চর্চার কোনো বিকল্প নেই। হাইমচরের এই শিল্পকলা একাডেমি কেবল একটি ভবন নয়, এটি হবে তরুণ প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের কেন্দ্র। এখান থেকেই আগামীর শিল্পীরা জাতীয় ও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরবে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, মেঘনাপারের এই নতুন যাত্রা অন্ধকার দূর করে একটি সুস্থ সমাজ গঠন এবং নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।

শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ আগস্ট ২০২৬
মেঘনার ভাঙন-গড়ার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা জনপদ চাঁদপুরের হাইমচর। এই জনপদে দীর্ঘ চার দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজস্ব ঠিকানা পেল হাইমচর উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি। মেঘনাপাড়ের এই সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অবহেলা আর স্থায়ী জায়গার অভাব দূর হওয়ায় তৈরি হয়েছে নতুন এক প্রাণের স্পন্দন।
বুধবার (১২ আগস্ট) উপজেলা পরিষদের চতুর্থ তলায় বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে একাডেমিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে এর শুভ উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মশতবর্ষ স্মরণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় খুদে শিল্পীদের পরিবেশিত নজরুলসংগীত, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৭৬ সালে থানা এবং ১৯৮৪ সালে হাইমচর পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীত হয়। তবে দীর্ঘ ৪০ বছর পার হলেও নানা প্রতিকূলতায় এখানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলেও এখানকার শিল্পীরা থেমে থাকেননি; নিজ প্রতিভা ও সাধনায় জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে কুড়িয়েছেন অজস্র সম্মাননা। অবশেষে নিজস্ব একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়ে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. জিয়াউদ্দিন বলেন, 'সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে ও হিংসা-বিদ্বেষ দূর করতে সংস্কৃতির চর্চার কোনো বিকল্প নেই। হাইমচরের এই শিল্পকলা একাডেমি কেবল একটি ভবন নয়, এটি হবে তরুণ প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের কেন্দ্র। এখান থেকেই আগামীর শিল্পীরা জাতীয় ও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মেলে ধরবে।'
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উজালা রানী চাকমা। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রত্যাশা, মেঘনাপারের এই নতুন যাত্রা অন্ধকার দূর করে একটি সুস্থ সমাজ গঠন এবং নতুন প্রজন্মের মেধা বিকাশে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করবে।

আপনার মতামত লিখুন