সংবাদ

অবৈধ ‘ড্রাগন হাটে’ দিনে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, নীরব প্রশাসন


প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রতিনিধি, মহেশপুর (ঝিনাইদহ)
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম

অবৈধ ‘ড্রাগন হাটে’ দিনে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, নীরব প্রশাসন
ছবি : সংবাদ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরিনাথপুরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ‘ড্রাগন হাট’ বসিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র গত তিন বছর ধরে এই কর্মকাণ্ড চালালেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরিনাথপুর সাধারণ হাটের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে এই অবৈধ ড্রাগন হাট। জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন না থাকলেও একটি চক্র এখানে প্রকাশ্যেই টাকা আদায় করছে। হাটে আসা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ড্রাগন ফলে ২ টাকা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৫ টাকাও আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরেও প্রতি চালানে ‘ধলতা’র নামে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ কেজি করে ফল জোরপূর্বক নিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ঈসমাইল হোসেন, যুবদল নেতা সোহাগ সরকার, ফারুক হোসেন এবং জামায়াত নেতা মসিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন।

গৌরিনাথপুর সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে আমি হাট ইজারা নিলেও এই প্রভাবশালী চক্রটি আমাকে ড্রাগন হাটে ইজারা তুলতে দিচ্ছে না। একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, প্রতিদিন এই হাট থেকে অন্তত ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ ও পরিবহনের পর হাটে এসে এই বাড়তি চাঁদা দিতে গিয়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে যুবদল নেতা সোহাগ সরকার বলেন, ‘আমরা কোনো খাজনা নিচ্ছি না, বরং ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছি।’ তবে সরকারি অনুমোদন ছাড়া এই কমিশনের আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘গৌরিনাথপুর ড্রাগন হাটটি সম্পূর্ণ অবৈধ। জেলা বা উপজেলা প্রশাসন থেকে এর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। দ্রুতই সেখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ টাকা তোলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


অবৈধ ‘ড্রাগন হাটে’ দিনে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি, নীরব প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরিনাথপুরে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ‘ড্রাগন হাট’ বসিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র গত তিন বছর ধরে এই কর্মকাণ্ড চালালেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে।

সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গৌরিনাথপুর সাধারণ হাটের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে এই অবৈধ ড্রাগন হাট। জেলা প্রশাসনের কোনো অনুমোদন না থাকলেও একটি চক্র এখানে প্রকাশ্যেই টাকা আদায় করছে। হাটে আসা কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কেজি ড্রাগন ফলে ২ টাকা এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৩ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ৫ টাকাও আদায় করা হচ্ছে। এর বাইরেও প্রতি চালানে ‘ধলতা’র নামে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫ কেজি করে ফল জোরপূর্বক নিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ঈসমাইল হোসেন, যুবদল নেতা সোহাগ সরকার, ফারুক হোসেন এবং জামায়াত নেতা মসিউর রহমানসহ আরও কয়েকজন।

গৌরিনাথপুর সাধারণ হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান লেন্টু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি নিয়ম মেনে আমি হাট ইজারা নিলেও এই প্রভাবশালী চক্রটি আমাকে ড্রাগন হাটে ইজারা তুলতে দিচ্ছে না। একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।’

স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, প্রতিদিন এই হাট থেকে অন্তত ৫ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। উৎপাদন খরচ ও পরিবহনের পর হাটে এসে এই বাড়তি চাঁদা দিতে গিয়ে কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে যুবদল নেতা সোহাগ সরকার বলেন, ‘আমরা কোনো খাজনা নিচ্ছি না, বরং ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কাছ থেকে কমিশন নিচ্ছি।’ তবে সরকারি অনুমোদন ছাড়া এই কমিশনের আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘গৌরিনাথপুর ড্রাগন হাটটি সম্পূর্ণ অবৈধ। জেলা বা উপজেলা প্রশাসন থেকে এর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। দ্রুতই সেখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ টাকা তোলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত