সংবাদ

ঢাকা-দিল্লির নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে যে আভাস এলো


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

ঢাকা-দিল্লির নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে যে আভাস এলো

  • বাণিজ্য ফেরাতে গতি
  • দূরত্ব মিটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিকতার আশাবাদ

বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জোর আভাস পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।"

ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাত্রীদের ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, "চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য কয়েক মাস পরপর নতুন ভিসার আবেদন বাস্তবসম্মত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।"

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, আয়তন ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের অবস্থান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে পারস্পরিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে বৈঠকে অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় শিল্পসংগঠন সিআইআই।

বাংলাদেশে সাবান, হোম কেয়ার ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে একটি অত্যাধুনিক সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনতে ৪০-৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমবে।"

উভয় পক্ষই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সংযোগ এবং সমন্বিত ভাবমূর্তির মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ঢাকা-দিল্লির নীতিনির্ধারকদের বৈঠকে যে আভাস এলো

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

  • বাণিজ্য ফেরাতে গতি
  • দূরত্ব মিটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিকতার আশাবাদ

বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ দূর করে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জোর আভাস পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে ভৌগোলিক নৈকট্যকে অর্থনৈতিক সুবিধায় রূপান্তরের তাগিদ দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা দূর করে স্বাভাবিক বাণিজ্য পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে।"

ব্যবসায়ী ও নিয়মিত যাত্রীদের ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, "চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য কয়েক মাস পরপর নতুন ভিসার আবেদন বাস্তবসম্মত নয়। দীর্ঘমেয়াদি ভিসা ব্যবস্থার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।"

দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, আয়তন ও অর্থনীতির আকারে পার্থক্য থাকলেও বাংলাদেশের অবস্থান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ঘিরে পারস্পরিক বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সংযোগ বাড়ানো গেলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

অন্যদিকে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে বৈঠকে অবকাঠামো ও উচ্চপ্রযুক্তি খাতে দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে ভারতীয় শিল্পসংগঠন সিআইআই।

বাংলাদেশে সাবান, হোম কেয়ার ও অন্যান্য পণ্য উৎপাদনে একটি অত্যাধুনিক সমন্বিত কারখানা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে সিআইআই প্রতিনিধিরা জানান, স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে।

ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যৌথ উদ্যোগে উৎপাদন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক পণ্য আমদানি করতে হয়। স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আনতে ৪০-৪৫ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। স্থানীয় শিল্প পুনরুজ্জীবিত হলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমবে।"

উভয় পক্ষই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ, ব্যবসায়ী পর্যায়ের সংযোগ এবং সমন্বিত ভাবমূর্তির মাধ্যমে এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত