সংবাদ

চোর ধরা শেষ, এখন থানায় বাছুর লালন-পালন


প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রতিনিধি, রাণীনগর (নওগাঁ)
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম

চোর ধরা শেষ, এখন থানায় বাছুর লালন-পালন
ছবি : সংবাদ

থানা চত্বরে গেলেই এখন চোখে পড়ে সারিবদ্ধ পাঁচটি গরু। পুলিশের নিয়মিত কাজের ভিড়ে এই অবলা প্রাণীদের দেখাশোনা এখন প্রাত্যহিক রুটিনে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া একটি গরু বাছুর প্রসব করার পর রাণীনগর থানার এই ব্যতিক্রমী চিত্র এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা, গত জুলাই মাসে উপজেলার গোনা গ্রামের এক কৃষকের তিনটি গরু চুরি হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৪ জুলাই নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে আসলাম নামে এক কুখ্যাত চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে নাটোরের সিংড়া এলাকার অন্য এক চোরের গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত গরুগুলোর মধ্যে একটি পূর্ণগর্ভ ছিল। আদালতের নির্দেশে মালিক না পাওয়া পর্যন্ত গরুগুলো রাণীনগর থানা হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে থানা চত্বরেই একজন চুক্তিভিত্তিক লোক দিয়ে গরুগুলোর লালন-পালন করা হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল নিজের খরচে এই গরুগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করছেন। গত কয়েক দিন আগে ওই গর্ভবতী গরুটি একটি সুস্থ এঁড়ে বাছুর প্রসব করেছে।

থানায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশি পাহারার পাশাপাশি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে বাছুর ও গরুগুলোর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী থানা চত্বরে এগুলোর যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাছুরটির জন্মের পর থেকে বাড়তি যত্ন দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


চোর ধরা শেষ, এখন থানায় বাছুর লালন-পালন

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

থানা চত্বরে গেলেই এখন চোখে পড়ে সারিবদ্ধ পাঁচটি গরু। পুলিশের নিয়মিত কাজের ভিড়ে এই অবলা প্রাণীদের দেখাশোনা এখন প্রাত্যহিক রুটিনে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া একটি গরু বাছুর প্রসব করার পর রাণীনগর থানার এই ব্যতিক্রমী চিত্র এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা, গত জুলাই মাসে উপজেলার গোনা গ্রামের এক কৃষকের তিনটি গরু চুরি হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার পর পুলিশ তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১৪ জুলাই নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে আসলাম নামে এক কুখ্যাত চোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যে নাটোরের সিংড়া এলাকার অন্য এক চোরের গোয়ালঘর থেকে পাঁচটি চোরাই গরু উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধারকৃত গরুগুলোর মধ্যে একটি পূর্ণগর্ভ ছিল। আদালতের নির্দেশে মালিক না পাওয়া পর্যন্ত গরুগুলো রাণীনগর থানা হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর থেকে থানা চত্বরেই একজন চুক্তিভিত্তিক লোক দিয়ে গরুগুলোর লালন-পালন করা হচ্ছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকারিয়া মন্ডল নিজের খরচে এই গরুগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করছেন। গত কয়েক দিন আগে ওই গর্ভবতী গরুটি একটি সুস্থ এঁড়ে বাছুর প্রসব করেছে।

থানায় গিয়ে দেখা যায়, পুলিশি পাহারার পাশাপাশি উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরামর্শে বাছুর ও গরুগুলোর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিককে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী থানা চত্বরে এগুলোর যত্ন নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে বাছুরটির জন্মের পর থেকে বাড়তি যত্ন দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত