সংবাদ

দূতকে ডেকে মিয়ানমারকে কড়া বার্তা দিল বাংলাদেশ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

দূতকে ডেকে মিয়ানমারকে কড়া বার্তা দিল বাংলাদেশ
ছবি : সংগৃহীত

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে দাবি করে নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।

বৈঠকে মিয়ানমারের নতুন বিবৃতির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয় এবং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। তারা নিজস্ব জাতিগত পরিচয়সম্পন্ন একটি জনগোষ্ঠী, যা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত স্বীকার করে এসেছে।

বৈঠকে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোহিঙ্গা বিষয়ক বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বিবৃতির অনেক তথ্যই ভুল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্য সঠিক নয়।

জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে বলেও জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতার আলোকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গা এবং ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্যও যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলেও জানানো হয়।

বর্তমানে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার হিসাবের পর অতিরিক্ত নিবন্ধিতদের তথ্য বাংলাদেশ যথাসময়ে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করবে বলেও জানানো হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ নিজ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রাখাইনে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬


দূতকে ডেকে মিয়ানমারকে কড়া বার্তা দিল বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে দাবি করে নতুন করে বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।

বৈঠকে মিয়ানমারের নতুন বিবৃতির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয় এবং রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়। তারা নিজস্ব জাতিগত পরিচয়সম্পন্ন একটি জনগোষ্ঠী, যা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত স্বীকার করে এসেছে।

বৈঠকে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোহিঙ্গা বিষয়ক বিবৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই বিবৃতির অনেক তথ্যই ভুল পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্য সঠিক নয়।

জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে বলেও জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতার আলোকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়। ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা নতুন রোহিঙ্গা এবং ক্যাম্পে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্যও যাচাই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে বলেও জানানো হয়।

বর্তমানে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার হিসাবের পর অতিরিক্ত নিবন্ধিতদের তথ্য বাংলাদেশ যথাসময়ে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করবে বলেও জানানো হয়।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ নিজ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি জানান, যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরুর বিষয়ে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে পুনর্ব্যক্ত করা হয়, রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো রাখাইনে তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত