চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১৪ আগস্ট ওই শিপ ইয়ার্ডের একটি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্য হয়। দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের শুনানিতে ডাকা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাহাজ কাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর বিভিন্ন ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ গত ১২ আগস্ট শেষ হয়। এরপরও প্রতিষ্ঠানটির ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ চলছিল।
শুনানি শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এনভায়রনমেন্টাল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতিতে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত অর্থ সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ‘এমটি রাসি’র কাটিং বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন শ্রমিকেরা। পরে একে একে ৯ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট এলাকায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল।
গেল ফেব্রুয়ারিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শনে ফেরদৌস স্টিলে নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছিল। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না করা, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করিয়েও ওভারটাইমের টাকা না দেওয়ার অভিযোগও ছিল।
এসব অনিয়ম সংশোধনে একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও যথাযথ জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করে অধিদপ্তর।

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাহাজ কাটার কাজ চালিয়ে যাওয়ায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত ১৪ আগস্ট ওই শিপ ইয়ার্ডের একটি জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে ৯ জনের মৃত্য হয়। দুর্ঘটনার পর ইয়ার্ডটি পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদের শুনানিতে ডাকা হয়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও জাহাজ কাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর বিভিন্ন ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ গত ১২ আগস্ট শেষ হয়। এরপরও প্রতিষ্ঠানটির ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি পুরোনো জাহাজ কাটার কাজ চলছিল।
শুনানি শেষে পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এনভায়রনমেন্টাল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট পদ্ধতিতে পাঁচ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত অর্থ সাত কর্মদিবসের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ‘এমটি রাসি’র কাটিং বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে ভাটিয়ারীর স্টেশন রোড এলাকায় ফেরদৌস স্টিলের ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজে কাজ করার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন শ্রমিকেরা। পরে একে একে ৯ জনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, জাহাজের ব্যালাস্ট এলাকায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস ছড়িয়ে পড়েছিল।
গেল ফেব্রুয়ারিতে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শনে ফেরদৌস স্টিলে নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধাসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়েছিল। শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন না করা, ঝুঁকি মূল্যায়নের প্রতিবেদন না দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করিয়েও ওভারটাইমের টাকা না দেওয়ার অভিযোগও ছিল।
এসব অনিয়ম সংশোধনে একাধিকবার নোটিশ দেওয়ার পরও যথাযথ জবাব না পাওয়ায় গত জুলাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করে অধিদপ্তর।

আপনার মতামত লিখুন