সংবাদ

ইউএনও কার্যালয়ে হামলায় ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি


প্রতিনিধি, নাটোর
প্রতিনিধি, নাটোর
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০৬:২২ পিএম

ইউএনও কার্যালয়ে হামলায় ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি
নাটোরের ডিসি আসমা শাহীন ও লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহ। ছবি : সংগৃহীত

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা দায়েরের এক দিন পরই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার এবং লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দুটি আদেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মামলা দায়ের এবং পর দিনই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বদলিকে ঘিরে নাটোরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অপর আদেশে লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।

এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন।

এজাহারে লালপুরে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। অন্যদিকে বাগাতিপাড়ার এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর দিনই জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে বদলির আদেশ আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের বদলির সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে তাদের আপত্তি নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম ঢালাওভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তাঁরা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কার্যালয়ে হামলা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পরই ডিসি ও ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণেই যদি কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। এমন সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে নাটোরের প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬


ইউএনও কার্যালয়ে হামলায় ডিসি প্রত্যাহার, ইউএনও বদলি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নাটোরের লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার ঘটনায় মামলা দায়েরের এক দিন পরই নাটোরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার এবং লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে বদলি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই দুটি আদেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় মামলা দায়ের এবং পর দিনই দুই শীর্ষ কর্মকর্তার বদলিকে ঘিরে নাটোরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসমা শাহীনকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। অপর আদেশে লালপুরের ইউএনও মো. বরকত উল্লাহকে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়।

এর আগে গত ১২ আগস্ট ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ফলাফলকে কেন্দ্র করে লালপুর ও বাগাতিপাড়া ইউএনও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পাঁচ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আবু মাসুদ রানা এবং বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শুকুর আলী নিজ নিজ থানায় পৃথক দুটি এজাহার দায়ের করেন।

এজাহারে লালপুরে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। অন্যদিকে বাগাতিপাড়ার এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর দিনই জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে বদলির আদেশ আসায় বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের বদলির সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি আদেশে কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

নাটোর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ থাকলে মামলা করতে তাদের আপত্তি নেই। তবে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নাম ঢালাওভাবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তাঁরা ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি কার্যালয়ে হামলা বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্টের ঘটনায় যারা প্রকৃতভাবে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নাটোর জেলা শাখার আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ শিশির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে কর্মকর্তাদের বদলি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, ইউএনও কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় মামলা হওয়ার পরই ডিসি ও ইউএনওকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বুলবুল আহমেদ বলেন, সরকারি দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার কারণেই যদি কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়ে থাকে, তাহলে তা আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক। এমন সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে নাটোরের প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সচেতন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত