সংবাদ

ট্রাম্পের মুখে ভারতের ভোটার আইডি, কটাক্ষ পবন খেরার


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

ট্রাম্পের মুখে ভারতের ভোটার আইডি, কটাক্ষ পবন খেরার
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটার পরিচয় যাচাই আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টানলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই মন্তব্যের পরই তাঁকে পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিল কংগ্রেস।

সোমবার Truth Social-এ ট্রাম্প ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র ছাড়া কীভাবে নির্বাচন হয়—এই প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার এবং ভোটদানের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন ট্রাম্প।

এই মন্তব্যের পর মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা পবন খেরা তার X-এ ব্যঙ্গাত্মক সুরে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখেন, জ্ঞানেশ কুমারকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে সেখানেই রেখে দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রয়োজনে ভারতের EVM-ও পরবর্তী বিমানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি আমেরিকার সাম্প্রতিক ‘insults and bullying’-এর প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্যটিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দেন খেরা।

কেন ভারতের প্রসঙ্গ টানলেন ট্রাম্প?

ট্রাম্পের মন্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে SAVE America Act—Safeguard American Voter Eligibility Act। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য মার্কিন ফেডারেল নির্বাচনে ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই আরও কঠোর করা। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে নথিভুক্তির সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং নির্বাচনের সময় বৈধ পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা। মেইল-ইন ভোটের (ডাক যোগে)ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার প্রস্তাব রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের যুক্তি, মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকদেরই নিশ্চিত করতে হবে। এই যুক্তির সমর্থনে প্রশাসন ভারত ও ব্রাজিলের ভোটার পরিচয় ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছে।

ভারতের নির্বাচন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

ট্রাম্পের মন্তব্যে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার একটি দিক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এলেও, দেশে বিষয়টি ভিন্ন রাজনৈতিক অর্থ বহন করছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে কমিশনের টানাপোড়েনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

ফলে একদিকে ভারতের ভোটার পরিচয় ব্যবস্থাকে মার্কিন নির্বাচনী সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে কংগ্রেস সেই মন্তব্যকেই ব্যবহার করছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো করতে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ঘটনাটি সরাসরি ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন কোনও সংকেত দিচ্ছে—এমনটা বলার অবকাশ এখনও নেই। বরং এটি আপাতত মার্কিন অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার ব্যবহার এবং তার পাল্টা ভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রতিনিধির বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের বক্তব্যে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উল্লেখ নিছক প্রশংসা হিসেবে দেখলে বিষয়টির কূটনৈতিক তাৎপর্য কিছুটা আড়ালে থেকে যায়। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সংস্কারের বিতর্কে ভারতের ভোটার পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা আসলে ভারতের নির্বাচন কাঠামোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি দিক সামনে আনে। কিন্তু একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার পাল্টা মন্তব্য দেখিয়ে দিল, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এখন কীভাবে আন্তর্জাতিক বক্তব্যের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে।

ফলে এই ঘটনাকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে কোনও নতুন টানাপোড়েন হিসেবে দেখার চেয়ে বরং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার নজির হিসেবে ব্যবহার এবং তার পাল্টা ভারতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—এই দুই স্তরে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত। কূটনৈতিকভাবে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিদেশি রাজনৈতিক বিতর্কে ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার উল্লেখ যতই বাড়ুক, তার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের সমাধান শেষ পর্যন্ত দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যেই হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


ট্রাম্পের মুখে ভারতের ভোটার আইডি, কটাক্ষ পবন খেরার

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মার্কিন নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভোটার পরিচয় যাচাই আরও কঠোর করার পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উদাহরণ টানলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সেই মন্তব্যের পরই তাঁকে পাল্টা রাজনৈতিক বার্তা দিল কংগ্রেস।

সোমবার Truth Social-এ ট্রাম্প ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাম্প্রতিক কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ছবি-সহ পরিচয়পত্র ছাড়া কীভাবে নির্বাচন হয়—এই প্রশ্ন তুলেছিলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। ভারতের সাম্প্রতিক লোকসভা নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক ভোটার এবং ভোটদানের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরেন ট্রাম্প।

এই মন্তব্যের পর মঙ্গলবার কংগ্রেস নেতা পবন খেরা তার X-এ ব্যঙ্গাত্মক সুরে ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে লেখেন, জ্ঞানেশ কুমারকে আমেরিকায় নিয়ে গিয়ে সেখানেই রেখে দিতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রয়োজনে ভারতের EVM-ও পরবর্তী বিমানে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। একই সঙ্গে ভারতের প্রতি আমেরিকার সাম্প্রতিক ‘insults and bullying’-এর প্রসঙ্গ তুলে মন্তব্যটিকে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দেন খেরা।

কেন ভারতের প্রসঙ্গ টানলেন ট্রাম্প?

ট্রাম্পের মন্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে SAVE America Act—Safeguard American Voter Eligibility Act। প্রস্তাবিত এই আইনের লক্ষ্য মার্কিন ফেডারেল নির্বাচনে ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই আরও কঠোর করা। এর মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে নথিভুক্তির সময় নাগরিকত্বের প্রমাণ এবং নির্বাচনের সময় বৈধ পরিচয়পত্রের প্রয়োজনীয়তা। মেইল-ইন ভোটের (ডাক যোগে)ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আনার প্রস্তাব রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের যুক্তি, মার্কিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকদেরই নিশ্চিত করতে হবে। এই যুক্তির সমর্থনে প্রশাসন ভারত ও ব্রাজিলের ভোটার পরিচয় ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেছে।

ভারতের নির্বাচন নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক

ট্রাম্পের মন্তব্যে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার একটি দিক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এলেও, দেশে বিষয়টি ভিন্ন রাজনৈতিক অর্থ বহন করছে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে কমিশনের টানাপোড়েনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।

ফলে একদিকে ভারতের ভোটার পরিচয় ব্যবস্থাকে মার্কিন নির্বাচনী সংস্কারের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন ট্রাম্প, অন্যদিকে কংগ্রেস সেই মন্তব্যকেই ব্যবহার করছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান আরও জোরালো করতে।

কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, ঘটনাটি সরাসরি ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন কোনও সংকেত দিচ্ছে—এমনটা বলার অবকাশ এখনও নেই। বরং এটি আপাতত মার্কিন অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার ব্যবহার এবং তার পাল্টা ভারতীয় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

প্রতিনিধির বিশ্লেষণ: ট্রাম্পের বক্তব্যে ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থার উল্লেখ নিছক প্রশংসা হিসেবে দেখলে বিষয়টির কূটনৈতিক তাৎপর্য কিছুটা আড়ালে থেকে যায়। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী সংস্কারের বিতর্কে ভারতের ভোটার পরিচয় যাচাই ব্যবস্থাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা আসলে ভারতের নির্বাচন কাঠামোর আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি দিক সামনে আনে। কিন্তু একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতা পবন খেরার পাল্টা মন্তব্য দেখিয়ে দিল, ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এখন কীভাবে আন্তর্জাতিক বক্তব্যের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে।

ফলে এই ঘটনাকে ভারত-মার্কিন সম্পর্কে কোনও নতুন টানাপোড়েন হিসেবে দেখার চেয়ে বরং আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার নজির হিসেবে ব্যবহার এবং তার পাল্টা ভারতের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—এই দুই স্তরে দেখা বেশি যুক্তিসঙ্গত। কূটনৈতিকভাবে ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিদেশি রাজনৈতিক বিতর্কে ভারতীয় নির্বাচন ব্যবস্থার উল্লেখ যতই বাড়ুক, তার গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ বিতর্কের সমাধান শেষ পর্যন্ত দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যেই হতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত