ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বিরুদ্ধে এবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুরক্ষিত করতে উপকূলীয় এলাকায় সীমিত আক্রমণ অথবা ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলার দুটি আলাদা পরিকল্পনা সামনে রেখে এগোচ্ছে রিয়াদ। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। রিয়াদের সরাসরি বিমান সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী মূলত এই স্থল অভিযান পরিচালনা করবে। মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহযোগিতা দিচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তান, তুরস্ক ও ফ্রান্সের মতো আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো সৌদিকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম এবং উপদেষ্টাসংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করলেও মিত্ররা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে জানা গেছে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করলেও ২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক যুদ্ধের প্রভাবে হুতি গোষ্ঠীটি সৌদি জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো শুরু করে। এর পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
রিয়াদের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগত ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালিতে হুতির দ্রুত অগ্রযাত্রা ঠেকানো ও অঞ্চলটিকে তাদের দখলমুক্ত করা। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত এই প্রণালিটি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রধান পথ। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সৌদি আরব এই মুহূর্তে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে:
প্রথমটি: বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর আশেপাশের উপকূলীয় অঞ্চলে সীমিত সামরিক অভিযান।
দ্বিতীয়টি: আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশসহ সমগ্র ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে বড় আকারের সমন্বিত হামলা।
অভিযানের মাত্রা ও পরিধির ওপর ভিত্তি করে প্রায় ১ লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে মাঠে নামানো হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদিকে সরাসরি বিমান সহায়তা না দিলেও লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সরবরাহ করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনাকে সৌদি সীমান্ত সুরক্ষায় মোতায়েন করেছে এবং প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। ফ্রান্সও লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও আকাশ সুরক্ষা প্রযুক্তি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে।
লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানপন্থি অক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠেছে হুতি। ফলে ইয়েমেনি বাহিনীকে নিয়ে রিয়াদের এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে আরেকটি বড় মাপের স্থায়ী সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
\

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির বিরুদ্ধে এবার বড় ধরনের সামরিক অভিযানে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুরক্ষিত করতে উপকূলীয় এলাকায় সীমিত আক্রমণ অথবা ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে একযোগে হামলার দুটি আলাদা পরিকল্পনা সামনে রেখে এগোচ্ছে রিয়াদ। আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাতে শনিবার (৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শুরু হতে পারে। রিয়াদের সরাসরি বিমান সহায়তা ও তত্ত্বাবধানে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী মূলত এই স্থল অভিযান পরিচালনা করবে। মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সহযোগিতা দিচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তান, তুরস্ক ও ফ্রান্সের মতো আঞ্চলিক ও পশ্চিমা দেশগুলো সৌদিকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম এবং উপদেষ্টাসংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করলেও মিত্ররা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না বলে জানা গেছে।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করলেও ২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক যুদ্ধের প্রভাবে হুতি গোষ্ঠীটি সৌদি জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর পুনরায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো শুরু করে। এর পর থেকেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
রিয়াদের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো কৌশলগত ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালিতে হুতির দ্রুত অগ্রযাত্রা ঠেকানো ও অঞ্চলটিকে তাদের দখলমুক্ত করা। লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত এই প্রণালিটি ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রধান পথ। সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে।
সৌদি আরব এই মুহূর্তে দুটি বিকল্প পরিকল্পনা বিবেচনা করছে:
প্রথমটি: বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও এর আশেপাশের উপকূলীয় অঞ্চলে সীমিত সামরিক অভিযান।
দ্বিতীয়টি: আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশসহ সমগ্র ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টে একযোগে বড় আকারের সমন্বিত হামলা।
অভিযানের মাত্রা ও পরিধির ওপর ভিত্তি করে প্রায় ১ লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনাকে মাঠে নামানো হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সৌদিকে সরাসরি বিমান সহায়তা না দিলেও লক্ষ্যবস্তুর তথ্য সরবরাহ করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার সেনাকে সৌদি সীমান্ত সুরক্ষায় মোতায়েন করেছে এবং প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। ফ্রান্সও লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর সুরক্ষায় সেনা ও আকাশ সুরক্ষা প্রযুক্তি পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে।
লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানপন্থি অক্ষের সবচেয়ে শক্তিশালী স্তম্ভ হয়ে উঠেছে হুতি। ফলে ইয়েমেনি বাহিনীকে নিয়ে রিয়াদের এই নতুন সামরিক পদক্ষেপ অঞ্চলটিতে আরেকটি বড় মাপের স্থায়ী সংঘাতের জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
\

আপনার মতামত লিখুন