সংবাদ

বিয়ের সাজে ঘর ছেড়ে আমবাগানে লাশ হলেন মেরিনা


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম

বিয়ের সাজে ঘর ছেড়ে আমবাগানে লাশ হলেন মেরিনা
ছবি : সংবাদ

১৬ তারিখে বিয়ে হবে–এই স্বপ্নে বিভোর ছিলেন মেরিনা বেগম (৪৬)। নতুন জুতা ও জামা কিনেছিলেন, গুছিয়ে নিয়েছিলেন সাজগোজের প্রসাধন সামগ্রী। এমনকি নতুন সংসার শুরুর আশায় সঙ্গে নিয়েছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্রও। কিন্তু সেই বিয়ে যে তার জীবনের শেষ পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনাকে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার রোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাটের একটি আমবাগানে এক নারীর দগ্ধ লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক সেই সময়েই মেরিনার ছেলে কাউসার আলী থানায় আসছিলেন মায়ের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করতে। বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে পড়ে ছিল মধ্যবয়সী এক নারীর ঝলসানো দেহ। পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লিপস্টিক, চিরুনি ও প্রসাধনী। পড়ে থাকা এনআইডি কার্ড দেখেই নিজের মাকে শনাক্ত করেন কাউসার।

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনের সঙ্গে দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মেরিনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের টানাপোড়েনে মেরিনা বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাবুল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট রাতে বিয়ের কথা বলে মেরিনাকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। এরপর সহযোগীদের নিয়ে তাকে শাহাপুর থেকে একটি নির্জন আমবাগানে নিয়ে যান বাবুল।

পুলিশ সুপার জানান, বাগানের ভেতরে নিয়ে মেরিনাকে গলার বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পরিচয় গোপন করতে লাশের মুখে ও শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬


বিয়ের সাজে ঘর ছেড়ে আমবাগানে লাশ হলেন মেরিনা

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

১৬ তারিখে বিয়ে হবে–এই স্বপ্নে বিভোর ছিলেন মেরিনা বেগম (৪৬)। নতুন জুতা ও জামা কিনেছিলেন, গুছিয়ে নিয়েছিলেন সাজগোজের প্রসাধন সামগ্রী। এমনকি নতুন সংসার শুরুর আশায় সঙ্গে নিয়েছিলেন জাতীয় পরিচয়পত্রও। কিন্তু সেই বিয়ে যে তার জীবনের শেষ পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি। নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনাকে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার রোমহর্ষক ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন (৪৯) ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাটের একটি আমবাগানে এক নারীর দগ্ধ লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। কাকতালীয়ভাবে, ঠিক সেই সময়েই মেরিনার ছেলে কাউসার আলী থানায় আসছিলেন মায়ের নিখোঁজ হওয়ার জিডি করতে। বৃষ্টির মধ্যে পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে পড়ে ছিল মধ্যবয়সী এক নারীর ঝলসানো দেহ। পাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লিপস্টিক, চিরুনি ও প্রসাধনী। পড়ে থাকা এনআইডি কার্ড দেখেই নিজের মাকে শনাক্ত করেন কাউসার।

তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত সাবেক মেম্বার বাবুল হোসেনের সঙ্গে দুধ কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে মেরিনার পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের টানাপোড়েনে মেরিনা বিয়ের জন্য চাপ দিলে বাবুল তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট রাতে বিয়ের কথা বলে মেরিনাকে বাড়ি থেকে বের করে আনা হয়। এরপর সহযোগীদের নিয়ে তাকে শাহাপুর থেকে একটি নির্জন আমবাগানে নিয়ে যান বাবুল।

পুলিশ সুপার জানান, বাগানের ভেতরে নিয়ে মেরিনাকে গলার বেল্ট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর পরিচয় গোপন করতে লাশের মুখে ও শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত