নরসিংদীর মনোহরদীতে ভুল চিকিৎসায় আকলিমা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাইপাস এলাকায় ‘মনোহরদী ল্যাবএইড আই অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে’ এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্থানীয় প্রশাসন হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।
নিহত আকলিমা বেগম উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের বীর মাইজদিয়া গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের জন্য আকলিমাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন সকালে ডা. রাহাত বিন কাশেম তার অস্ত্রোপচার করেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ১৯ আগস্ট তাকে ঢাকার পপুলার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে তিনি মারা যান।
ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে-এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ জনতা হাসপাতালে হামলা চালায়। তারা তিন তলা ভবনের রিসেপশন, ল্যাবরেটরি ও চিকিৎসকদের চেম্বারে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তবে স্বজনদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে নিহতের ভাই নাসির বলেন, ‘আমরা রোগীর চিকিৎসা ও লাশ নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কে বা কারা ভাঙচুর চালিয়েছে, তা জানি না।’
হাসপাতালের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুল ইসলাম দাবি করেন, অভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়েই নিয়ম মেনে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। পরে আইসিইউর প্রয়োজনে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় হঠাৎ একদল লোক হামলা চালিয়ে হাসপাতাল ভাঙচুর ও কর্মীদের মারধর করেছে।
মনোহরদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সজিব মিয়া বলেন, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে হাসপাতালটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভর্তি থাকা অন্য রোগীদের বিকল্প হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নরসিংদীর জেলা সিভিল সার্জন ডা. বুলবুল কবির শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন