শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীর ভাঙার প্রতিবাদে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় সময় টিভির জেলা প্রতিনিধি বিএম ইসরাফিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ওই সাংবাদিকের ডান হাতের কব্জি ভেঙে গেছে। তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সীমানা প্রাচীরের তিনটি অংশ ভেঙে ফেলার অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে প্রেসক্লাব চত্বরেই বিএম ইসরাফিলের ওপর এই হামলা চালানো হয়।
আহত সাংবাদিক বিএম ইসরাফিলের অভিযোগ, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদারের নেতৃত্বে ৮-১০ জন তার ওপর হামলা চালায়। তবে ঘটনার পর থেকে পলাশ সরদার পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমিনবাগ এলাকায় ১৯৯৮ সালে জেলা প্রশাসন প্রেসক্লাবের জন্য ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেয়। সম্প্রতি প্রেসক্লাবের পাশে ‘শরীয়তপুর পার্ক’-এর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ওই জমিটি নিতে চায় জেলা প্রশাসন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই শনিবার রাতে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়। বিএম ইসরাফিল তার ফেসবুক পোস্টে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসক্লাব সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের ছবি প্রকাশ করেছিলেন।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আকরাম এলাহী জানান, ইসরাফিলের ডান হাতের কব্জি ভেঙে গেছে। এ ছাড়া কপাল, বুক ও হাঁটুতে জখম রয়েছে। তার সুস্থ হতে সময় লাগবে।
প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, ‘ফেসবুকে সমালোচনা করায় পলাশ ও তার অনুসারীরা ক্ষুব্ধ ছিল। আমি জানতাম না যে এমন হামলা হবে। আমি নিজেও বিব্রত। ছেলেকে বিচারের মুখোমুখি করব।’
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, ওই জমিটি অর্পিত (ভিপি) সম্পত্তি হওয়ায় সেখানে স্থায়ী স্থাপনা করা যাবে না। পার্কের জন্য জমিটি নিতে চেয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতিকে জানানো হয়েছিল। তবে সাংবাদিকেরা জমি ছাড়তে রাজি না হওয়ায় প্রাচীরটি আবার পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন শরীয়তপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা। পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন