সংবাদ

বাবার নিখোঁজ সংবাদ জানে না মারিফুল আর মোয়াজ


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম

বাবার নিখোঁজ সংবাদ জানে না মারিফুল আর মোয়াজ
ছবি : সংবাদ

সকাল হোক বা রাত, ঘরের কোণে মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলেই দুই ভাই-বোন মারিফুল আর মোয়াজের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পাঁচ বছরের মারিফুল জান্নাত আর তিন বছরের ছোট ভাই মোয়াজ আব্দুল্লাহর ধারণা–এই বুঝি সমুদ্র থেকে বাবা ভিডিও কল দিলেন। তারা জানে না, বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে তাদের বাবার জাহাজটি ডুবে গেছে কয়েক দিন আগে। তারা শুধু বোঝে, কাজের চাপে বাবা হয়তো ফোন দিতে দেরি করছেন।

ভারতের উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ২২ আগস্ট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডুবে যায় পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’। সেই জাহাজে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার আমতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। জাহাজডুবির পর থেকেই তিনি নিখোঁজ।

নিখোঁজ মামুনের বাবা ডক্টর আব্দুর রহিম জানান, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) শেষবারের মতো ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সেদিনও সন্তানদের সঙ্গে খুনসুটি করেছিলেন মামুন। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পরিচিতদের মাধ্যমে জাহাজডুবির খবর পান তারা। বাড়িতে এখন স্বজন আর প্রতিবেশীদের ভিড়। সবার চোখেমুখে দুশ্চিন্তা থাকলেও অবুঝ শিশু দুটি এখনো বাবার কলের অপেক্ষায়। মারিফুল মাঝে মাঝেই মাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘মা, বাবা কেন ফোন দিচ্ছে না?’ সন্তানদের এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না মা।

ডক্টর আব্দুর রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটা মাসের পর মাস সমুদ্রে কাটায়। ফোন কলটাই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। চার দিন পার হলো, অথচ আমার কলিজার টুকরা বেঁচে আছে কি না, তা-ও জানতে পারলাম না। ফোন বাজলেই নাতি-নাতনিরা দৌড়ে যায়। সরকারের কাছে আকুতি, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের উদ্ধারকারী দল ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই কোনো তথ্য পাওয়া যাবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


বাবার নিখোঁজ সংবাদ জানে না মারিফুল আর মোয়াজ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সকাল হোক বা রাত, ঘরের কোণে মোবাইল ফোনটি বেজে উঠলেই দুই ভাই-বোন মারিফুল আর মোয়াজের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। পাঁচ বছরের মারিফুল জান্নাত আর তিন বছরের ছোট ভাই মোয়াজ আব্দুল্লাহর ধারণা–এই বুঝি সমুদ্র থেকে বাবা ভিডিও কল দিলেন। তারা জানে না, বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশিতে তাদের বাবার জাহাজটি ডুবে গেছে কয়েক দিন আগে। তারা শুধু বোঝে, কাজের চাপে বাবা হয়তো ফোন দিতে দেরি করছেন।

ভারতের উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে ২২ আগস্ট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ডুবে যায় পানামার পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ ‘এমভি ওশান উইনার’। সেই জাহাজে মেরিন ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার আমতলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন। জাহাজডুবির পর থেকেই তিনি নিখোঁজ।

নিখোঁজ মামুনের বাবা ডক্টর আব্দুর রহিম জানান, গত বুধবার (১৯ আগস্ট) শেষবারের মতো ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। সেদিনও সন্তানদের সঙ্গে খুনসুটি করেছিলেন মামুন। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে পরিচিতদের মাধ্যমে জাহাজডুবির খবর পান তারা। বাড়িতে এখন স্বজন আর প্রতিবেশীদের ভিড়। সবার চোখেমুখে দুশ্চিন্তা থাকলেও অবুঝ শিশু দুটি এখনো বাবার কলের অপেক্ষায়। মারিফুল মাঝে মাঝেই মাকে জিজ্ঞেস করছে, ‘মা, বাবা কেন ফোন দিচ্ছে না?’ সন্তানদের এমন প্রশ্নে কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না মা।

ডক্টর আব্দুর রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ছেলেটা মাসের পর মাস সমুদ্রে কাটায়। ফোন কলটাই ছিল আমাদের একমাত্র ভরসা। চার দিন পার হলো, অথচ আমার কলিজার টুকরা বেঁচে আছে কি না, তা-ও জানতে পারলাম না। ফোন বাজলেই নাতি-নাতনিরা দৌড়ে যায়। সরকারের কাছে আকুতি, আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন।’

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ বলেন, ‘আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের উদ্ধারকারী দল ও কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করছি দ্রুতই কোনো তথ্য পাওয়া যাবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত