ঝিনাইদহের সীমান্তবর্তী উপজেলা মহেশপুরে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার কোনোভাবেই রোধ করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযান, বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ এবং শত শত মামলা সত্ত্বেও প্রতিনিয়ত শক্তিশালী ও কৌশলী হয়ে উঠছে মাদক সিন্ডিকেটগুলো। ফলে এলাকার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ চরম হুমকির মুখে পড়ছে বলে স্থানীয় ব্যক্তিরা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক কারবারিরা এখন অত্যন্ত আধুনিক ও কৌশলী পথ বেছে নিচ্ছে। তারা বড় চালানের পরিবর্তে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে এবং পণ্যবাহী বা গণপরিবহনের আড়ালে সীমান্ত পেরিয়ে গ্রামে গ্রামে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। মূল হোতারা আড়ালে থেকে খুচরা বিক্রেতা ও বেকার তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাহায্যে ব্যবহার করছে। মাদকের অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অনেক কিশোর ও তরুণ চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছত্রচ্ছায়ায় এই কারবার চলায় অনেকেই প্রতিবাদ করার সাহস পান না।
ঝিনাইদহ জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘শুধু অভিযান চালিয়ে মাদকের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরিবহন ব্যবস্থা ও অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও বাড়াতে হবে।’
৫৮ বিজিবি ঝিনাইদহ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল মো. রফিকুল আলম জানান, সীমান্তপথে মাদক পাচার রোধে বিজিবি সদস্যরা দিনরাত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, পুলিশি অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হাসেম আলী মনে করেন, মাদকের বিস্তার রোধে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।
ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মো. আশিষ বিন হাসান বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। তবে আইনি ফাঁকফোকর ও সহজে জামিন পাওয়ার সুযোগ থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে অপরাধীদের শনাক্ত করতে ডোপ টেস্টসহ বিশেষ গোয়েন্দা তৎপরতা চালানো হচ্ছে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে জেলা পুলিশ, র্যাব, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিজিবি পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে জেলা পুলিশ ৪০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের মাদকসহ ৪১৩ জনকে এবং র্যাব ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা মূল্যের মাদকসহ ৩১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও বিজিবিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদক ও কারবারিকে আইনের আওতায় এনেছে।
আপনার মতামত লিখুন