সংবাদ

নির্ধারণ হলো ডলারের নতুন দর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

নির্ধারণ হলো ডলারের নতুন দর

খোলা বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার দর নিয়ন্ত্রণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে মার্কিন ডলারের নতুন বিনিময় হার নির্ধারণ করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা এবং ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করতে হবে।

সোমবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বিনিময় হার ঘোষণা করেন এমসিএবি-এর সভাপতি এম এস জামান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া নির্দেশনার আলোকেই ডলারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডলার বাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমসিএবি সভাপতি বলেন, "ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়, ব্যাংকগুলোর। মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় খাতে বাজার ম্যানিপুলেট বাগেমকরার সুযোগ নেই।"

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, "করোনা-পরবর্তী সময়ে ডলার বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছে। অথচ বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।"

মানি চেঞ্জারদের ব্যবসার মূল উৎস সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "মানি চেঞ্জাররা কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করে। তারা কোনো ইলেকট্রনিক বা ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্সও আনতে পারে না। বিদেশফেরত যাত্রী প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার মূল উৎস।"

তিনি যুক্ত করেন, "প্রবাসীরা কষ্টের উপার্জনের নগদ অর্থ দেশে নিয়ে এলে মানি চেঞ্জাররা তা কিনে বৈধ ধারায় নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে তারা।"

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে এম এস জামান বলেন, "মানি চেঞ্জারদের মূলধন বা সক্ষমতা কতটুকু যে তারা ডলারের রেট নিয়ন্ত্রণ করবে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে। অথচ বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেই অভিযোগ তোলা হয়, মানি চেঞ্জাররা রেট বাড়াচ্ছে।"

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা করলেও এবং শিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য দর নির্ধারণ করে দিলেও মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে।

এই বৈষম্য দূর করে বৈধ লেনদেনের সুযোগ বাড়ানো এবং অবৈধ মার্কেট বন্ধে নীতি সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি অবৈধ লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


নির্ধারণ হলো ডলারের নতুন দর

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

খোলা বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার দর নিয়ন্ত্রণ বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে মার্কিন ডলারের নতুন বিনিময় হার নির্ধারণ করেছে মানি চেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমসিএবি)

নতুন দর অনুযায়ী, দেশের অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ৫০ পয়সায় কেনা এবং ১২৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করতে হবে।

সোমবার রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে নতুন বিনিময় হার ঘোষণা করেন এমসিএবি-এর সভাপতি এম এস জামান।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া নির্দেশনার আলোকেই ডলারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সংগঠনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশের সব মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী গৌতম দে-সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানের মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডলার বাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এমসিএবি সভাপতি বলেন, "ডলারের বাজারে অনৈতিক কারসাজির দায় মানি চেঞ্জারদের নয়, ব্যাংকগুলোর। মানি চেঞ্জার খাতের পরিধি অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় খাতে বাজার ম্যানিপুলেট বাগেমকরার সুযোগ নেই।"

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, "করোনা-পরবর্তী সময়ে ডলার বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে বিভিন্ন ব্যাংক বিপুল পরিমাণ মুনাফা করেছে। অথচ বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেই এর দায় মানি চেঞ্জারদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়।"

মানি চেঞ্জারদের ব্যবসার মূল উৎস সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "মানি চেঞ্জাররা কেবল নগদ বৈদেশিক মুদ্রা বা ক্যাশ কারেন্সি ক্রয়-বিক্রয় করে। তারা কোনো ইলেকট্রনিক বা ভার্চুয়াল মুদ্রা লেনদেন করে না এবং সরাসরি রেমিট্যান্সও আনতে পারে না। বিদেশফেরত যাত্রী প্রবাসী শ্রমিকদের নিয়ে আসা নগদ বৈদেশিক মুদ্রাই তাদের ব্যবসার মূল উৎস।"

তিনি যুক্ত করেন, "প্রবাসীরা কষ্টের উপার্জনের নগদ অর্থ দেশে নিয়ে এলে মানি চেঞ্জাররা তা কিনে বৈধ ধারায় নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে তারা।"

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়ে এম এস জামান বলেন, "মানি চেঞ্জারদের মূলধন বা সক্ষমতা কতটুকু যে তারা ডলারের রেট নিয়ন্ত্রণ করবে? কেন্দ্রীয় ব্যাংকই দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি এবং মুদ্রানীতি নির্ধারণ করে। অথচ বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিলেই অভিযোগ তোলা হয়, মানি চেঞ্জাররা রেট বাড়াচ্ছে।"

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলার কেনাবেচা করলেও এবং শিডিউল ব্যাংকগুলোর জন্য দর নির্ধারণ করে দিলেও মানি চেঞ্জারদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাব রয়েছে।

এই বৈষম্য দূর করে বৈধ লেনদেনের সুযোগ বাড়ানো এবং অবৈধ মার্কেট বন্ধে নীতি সহজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি অবৈধ লাইসেন্সবিহীন মানি চেঞ্জারদের একটি তালিকা ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাংবাদিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত