সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের পোশাক যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ ৩৭ দেশে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১ এএম

নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের পোশাক যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ ৩৭ দেশে
ছবি : সংগৃহীত

ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আসর। চারদিকে আলোকসজ্জা, তার মাঝে ধবধবে সাদা গাউন পরে হাজির হয়েছেন কনে। হলিউড কিংবা নেটফ্লিক্সের সিনেমায় এমন দৃশ্য আমাদের চিরচেনা। তবে অনেকেরই হয়তো অজানা, বিদেশি কনের গায়ে জড়ানো সেই স্বপ্নের রাজকীয় গাউনটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। নিপুণ কারুকাজ আর দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় আদমজী ইপিজেডের একটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব উচ্চমূল্যের পোশাক, যা এখন পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের ৩৭টি দেশে।

জার্মান বিনিয়োগে গড়ে ওঠা ‘ইউবিএফ ব্রাইডাল লিমিটেড’ ২০২২ সাল থেকে আদমজী ইপিজেডে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। মূলত স্প্যানিশ ডিজাইনারদের নকশায় এখানে তৈরি হয় ওয়েডিং গাউন, ভেইল (ঘোমটা), সাটিন ও লেসের বিশেষ পোশাক এবং গয়না। কারখানা থেকে বের হওয়া প্রতিটি পোশাকে গর্বের সঙ্গে লেগে থাকে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার মো. রবিউল হক সিদ্দিকী জানান, বিশেষায়িত এই ব্রাইডাল পোশাক তৈরির জন্য শুরুতে দক্ষ জনবল পাওয়া ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ পোশাকের চেয়ে এই কাজ অনেক বেশি সূক্ষ্ম। তাই প্রতিটি কর্মীকে তিন থেকে ছয় মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়। বর্তমানে কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে চারশ কর্মী কাজ করছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৫.২৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। চলতি অর্থবছরে তাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার। শুরুতে মাত্র একটি প্রোডাকশন লাইন থাকলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটে। আগামীতে লাইনের সংখ্যা ১৩টিতে উন্নীত করার পাশাপাশি আরও ৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। শুধু পোশাকই নয়, ভবিষ্যতে স্থানীয় ডিজাইনারদের কাজে লাগানো এবং জুতা তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কারখানায় কাজ করা খাদিজা বা রত্নাদের মতো কর্মীদের জীবনেও এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য। তারা জানান, এসি পরিবেশে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই বিশেষায়িত পোশাকগুলো তৈরি করেন তারা। একেকটি গাউন তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বেতন ও অন্যান্য সুবিধা ভালো হওয়ায় এখন অনেক শিক্ষিত তরুণীও এই পেশায় আগ্রহী হচ্ছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে বিয়ের পোশাকের বাজারের আকার ছিল ৮২.৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ১১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। নারায়ণগঞ্জের এই কারখানাটি মূলত মধ্যম সারির ক্রেতাদের জন্য ৪০০ থেকে ১,৫০০ ডলার মূল্যের গাউন তৈরি করছে। জার্মানি হয়ে এসব পোশাক ছড়িয়ে পড়ছে ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে।

আদমজী ইপিজেডের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সাধারণ টি-শার্ট বা প্যান্টের বাইরে গিয়ে এমন বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে আরও মজবুত করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬


নারায়ণগঞ্জে তৈরি বিয়ের পোশাক যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ ৩৭ দেশে

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইউরোপ বা আমেরিকার কোনো জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আসর। চারদিকে আলোকসজ্জা, তার মাঝে ধবধবে সাদা গাউন পরে হাজির হয়েছেন কনে। হলিউড কিংবা নেটফ্লিক্সের সিনেমায় এমন দৃশ্য আমাদের চিরচেনা। তবে অনেকেরই হয়তো অজানা, বিদেশি কনের গায়ে জড়ানো সেই স্বপ্নের রাজকীয় গাউনটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে। নিপুণ কারুকাজ আর দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় আদমজী ইপিজেডের একটি কারখানায় তৈরি হচ্ছে এসব উচ্চমূল্যের পোশাক, যা এখন পৌঁছে যাচ্ছে বিশ্বের ৩৭টি দেশে।

জার্মান বিনিয়োগে গড়ে ওঠা ‘ইউবিএফ ব্রাইডাল লিমিটেড’ ২০২২ সাল থেকে আদমজী ইপিজেডে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। মূলত স্প্যানিশ ডিজাইনারদের নকশায় এখানে তৈরি হয় ওয়েডিং গাউন, ভেইল (ঘোমটা), সাটিন ও লেসের বিশেষ পোশাক এবং গয়না। কারখানা থেকে বের হওয়া প্রতিটি পোশাকে গর্বের সঙ্গে লেগে থাকে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগ।

প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার মো. রবিউল হক সিদ্দিকী জানান, বিশেষায়িত এই ব্রাইডাল পোশাক তৈরির জন্য শুরুতে দক্ষ জনবল পাওয়া ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সাধারণ পোশাকের চেয়ে এই কাজ অনেক বেশি সূক্ষ্ম। তাই প্রতিটি কর্মীকে তিন থেকে ছয় মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তোলা হয়। বর্তমানে কারখানাটিতে প্রায় সাড়ে চারশ কর্মী কাজ করছেন, যাদের বড় একটি অংশ নারী।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ৫.২৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। চলতি অর্থবছরে তাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার। শুরুতে মাত্র একটি প্রোডাকশন লাইন থাকলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আটে। আগামীতে লাইনের সংখ্যা ১৩টিতে উন্নীত করার পাশাপাশি আরও ৬ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের। শুধু পোশাকই নয়, ভবিষ্যতে স্থানীয় ডিজাইনারদের কাজে লাগানো এবং জুতা তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি।

কারখানায় কাজ করা খাদিজা বা রত্নাদের মতো কর্মীদের জীবনেও এসেছে স্বাচ্ছন্দ্য। তারা জানান, এসি পরিবেশে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে এই বিশেষায়িত পোশাকগুলো তৈরি করেন তারা। একেকটি গাউন তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ১০ ঘণ্টা। বেতন ও অন্যান্য সুবিধা ভালো হওয়ায় এখন অনেক শিক্ষিত তরুণীও এই পেশায় আগ্রহী হচ্ছেন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে বিয়ের পোশাকের বাজারের আকার ছিল ৮২.৪ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ১১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। নারায়ণগঞ্জের এই কারখানাটি মূলত মধ্যম সারির ক্রেতাদের জন্য ৪০০ থেকে ১,৫০০ ডলার মূল্যের গাউন তৈরি করছে। জার্মানি হয়ে এসব পোশাক ছড়িয়ে পড়ছে ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোতে।

আদমজী ইপিজেডের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সাধারণ টি-শার্ট বা প্যান্টের বাইরে গিয়ে এমন বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে আরও মজবুত করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত