গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে চরাঞ্চলে আমন ধান রোপণের ধুম পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সময় পুষিয়ে নিতে দিন-রাত কঠোর পরিশ্রম করে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিকাবাসিয়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর পানি নেমে যাওয়ায় জেগে ওঠা পলিমাটিতে এখন সবুজের সমারোহ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই কাদা মাড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে আমন ধানের চারা রোপণ করছেন। কেউ জমি চাষ করছেন, কেউবা চারা নিয়ে মাঠে ছুটছেন।
স্থানীয় কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ‘তিস্তার পানি নেমে যাওয়ার পরপরই জমি চাষ শুরু করেছি। এবার আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। এই আমন ধানই আমাদের সারা বছরের ভাতের জোগান দেয়।’
একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, বন্যার কারণে তাদের চাষাবাদ প্রায় দুই সপ্তাহ পিছিয়ে গেছে। এখন দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছেন তারা। তবে সার ও বীজে সরকারি ভর্তুকি পেলে তাদের জন্য আরও সুবিধা হতো বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সুন্দরগঞ্জে ৩০ হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কাইয়ুম চৌধরী বলেন, ‘চরাঞ্চলের কৃষকরা সময়মতো ধান রোপণ করছেন। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে গিয়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। বালাইনাশক ও সারের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এবার ফলন ভালো হবে।’
তবে নদীভাঙন ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা কৃষকদের মনে দুশ্চিন্তা জাগিয়ে রাখলেও সোনালি ফসলের আশায় তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
আপনার মতামত লিখুন