বৃহত্তর পাবনা জেলায় (পাবনা ও সিরাজগঞ্জ) চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৭৪ কোটি টাকার প্রায় চার লাখ ৬৪ হাজার টন পাটখড়ি (পাটশোলা) উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ পাটখড়ি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চারকোল পাটখড়ি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার শুরু হওয়ায় এর চাহিদা ও কদর বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে তাতে উৎপাদন খরচ উঠছে না। চাষিরা লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটখড়ি বিক্রি করছেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাবনায় ৪৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে দুই দশমিক ৮০ টন হিসাবে পাট উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টন। পাবনা জেলার হাট-বাজারে প্রতি মণ পাটখড়ি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মণ পাট থেকে দুই মণ পাটখড়ি পাওয়া যায়। সেই হিসাবে এক লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টন পাট থেকে দুই লাখ ৪৪ হাজার টন পাটখড়ি উৎপাদন হয়েছে। প্রতিটন পাটখড়ি ১০ হাজার টাকা হিসাবে এ বছর ২৪৪ কোটি টাকার পাটখড়ি থেকে আয় হবে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার হাণ্ডিয়াল গ্রামের কৃষক বচের খাঁ জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে লোকসান দিতে হয়েছে। তিনি জানান, এবার পাটের ফলন হয়েছে ভাল। দুই বিঘা জমিতে পাট পেয়েছেন ১৯ মণ। উৎপাদন ব্যয় বড় হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৬০০ টাকা। এ বছর পাট উৎপাদন বাবদ তার লোকসান হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা। তবে ঐ পরিমাণ জমির পাটশোলা বিক্রি করে তিনি এ বছর পেয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ২০০ টাকা। শুধু বচের খাঁ নয়, পাট আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার পাটচাষি।
সোমবার বোয়াইলমারী হাটে পাট বিক্রি করতে আসা চাষি জহির উদ্দিন প্রামাণিক, সাত্তার মোল্লা, জহির শেখ, ইসহাক আলী জানান, পাট উৎপাদনে প্রতি বিঘা জমিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া গেছে আট থেকে নয় মণ। হাট-বাজারে গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণ পাট এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমান হাট-বাজারে প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৩০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ বছর পাটের দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের ভালোমানের প্রতি মণ পাট গড়ে তিন হাজার ২০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন বাবদ চাষিদের লোকসান দিতে হচ্ছে প্রায় তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। চাষিরা লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটশোলা বিক্রি করছেন।
পাবনার বোয়াইলমারী হাটের পাট ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তার সরকার জানান, আমরা পাবনার বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনে খুলনা নারায়ণগঞ্জের বড় বড় আড়তদার, বেলার ও রপ্তানিকারকদের কাছে পাইকারি বিক্রি করি। একটি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ফলে বড় বড় সিন্ডিকেট পাটের দর নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কারণে দাম ওঠানামা করে। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে কৃষকরা পাটের দাম কম পাচ্ছে, সেটা ঠিক আছে তবে সরকারের পক্ষ থেকে বাজার দর ঠিক করা দরকার বলে তিনি জানিয়েছেন।
পাট ব্যবসায়ী (বেলার) সাহস আহমেদ চৌধুরী জানান, হাট-বাজারে পাটের দাম কম গড়ে প্রতি মণ তিন হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে উন্নতমানের প্রতি মণ পাট ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ রপ্তানিমানের পাট ব্যবসায়ীরা কমদামে কিনে গুদামজাত করছে। চলতি পাট মৌসুমে অর্থাভাবে রপ্তানিকারক ও বেসরকারি জুট মিলগুলোর পাট ক্রয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
পাবনার সুজানগর উপজেলার বনকোলা গ্রামের আব্বাস আলী, কালাম মণ্ডল, ইদ্রিস আলী, সাঁথিয়া উপজেলার ভবানিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল, কালাইচারা গ্রামের রজব আলী, ঘুঘুদহ গ্রামের গহের আলীসহ শতাধিক পাট চাষি জানান, এ বছর তারা পাট চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাটের ফলন ভালো হলেও, হাট-বাজারে গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণ পাট এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাট বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ ওঠানো দূরের কথা প্রতি মণ পাটে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।
এদিকে পাটশোলার চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কের দু’পাশে পাটশোলা ছড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। তারা সেই পাটশোলা বিক্রি করে পাটের লোকসান অনেকটাই পুষিয়ে নিচ্ছেন।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, পাট বিক্রি করে চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে এ তথ্যের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে তিনি বলেন, চাষিরা যে পাট বিক্রয়ে মূল্য হিসাব করে তার সঙ্গে কি পাটখড়ির (শোলার) দাম ধরে না। সেই পাটখড়িও অনেক দামি। এক মণ পাটের সঙ্গে প্রায় দুই মণ পাটখড়ি পাওয়া যায়। প্রতি মণ গড়ে ৪০০ টাকা হিসাবে এক বিঘা জমির পাট থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকার পাটখড়ি পাওয়া যায়। চারকোল পাটশোলা পুড়িয়ে কার্বন তৈরি করে বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। এদিকে পাটশোলার বহুমুখী ব্যবহার শুরু হওয়ায় পাটশোলার চাহিদা ও কদর বহুগুণ বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বেড়া উপজেলার কোটালিয়া ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে অবস্থিত চারকোল মালিক জুলিয়াস বলেন, পাটকাঠির ছাই থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। চীনসহ বিভিন্ন দেশ পাটকাঠির ছাই থেকে কার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারের কালি, আতশবাজি, ফেসওয়াশের উপকরণ, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি, প্রসাধনপণ্য ও সার তৈরি হচ্ছে। কয়েক বছর হলো তিনি চারকোল পাটকাঠির ছাই উৎপাদন করে চীনে রপ্তানি করছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পাটকাঠির ছাই রপ্তানি বাড়লে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
বৃহত্তর পাবনা জেলায় (পাবনা ও সিরাজগঞ্জ) চলতি মৌসুমে প্রায় ৪৭৪ কোটি টাকার প্রায় চার লাখ ৬৪ হাজার টন পাটখড়ি (পাটশোলা) উৎপাদন হয়েছে। প্রতি মণ পাটখড়ি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চারকোল পাটখড়ি পুড়িয়ে উৎপাদিত ছাই বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। পাটখড়ির বহুমুখী ব্যবহার শুরু হওয়ায় এর চাহিদা ও কদর বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে যে দামে পাট বিক্রি হচ্ছে তাতে উৎপাদন খরচ উঠছে না। চাষিরা লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটখড়ি বিক্রি করছেন।
পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে পাবনায় ৪৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে দুই দশমিক ৮০ টন হিসাবে পাট উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টন। পাবনা জেলার হাট-বাজারে প্রতি মণ পাটখড়ি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মণ পাট থেকে দুই মণ পাটখড়ি পাওয়া যায়। সেই হিসাবে এক লাখ ২১ হাজার ৫৬২ টন পাট থেকে দুই লাখ ৪৪ হাজার টন পাটখড়ি উৎপাদন হয়েছে। প্রতিটন পাটখড়ি ১০ হাজার টাকা হিসাবে এ বছর ২৪৪ কোটি টাকার পাটখড়ি থেকে আয় হবে।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার হাণ্ডিয়াল গ্রামের কৃষক বচের খাঁ জানান, এ বছর দুই বিঘা জমিতে পাট আবাদ করে লোকসান দিতে হয়েছে। তিনি জানান, এবার পাটের ফলন হয়েছে ভাল। দুই বিঘা জমিতে পাট পেয়েছেন ১৯ মণ। উৎপাদন ব্যয় বড় হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৬০০ টাকা। এ বছর পাট উৎপাদন বাবদ তার লোকসান হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা। তবে ঐ পরিমাণ জমির পাটশোলা বিক্রি করে তিনি এ বছর পেয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার ২০০ টাকা। শুধু বচের খাঁ নয়, পাট আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন পাবনা জেলার ৯টি উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার পাটচাষি।
সোমবার বোয়াইলমারী হাটে পাট বিক্রি করতে আসা চাষি জহির উদ্দিন প্রামাণিক, সাত্তার মোল্লা, জহির শেখ, ইসহাক আলী জানান, পাট উৎপাদনে প্রতি বিঘা জমিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। প্রতি বিঘায় ফলন পাওয়া গেছে আট থেকে নয় মণ। হাট-বাজারে গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণ পাট এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমান হাট-বাজারে প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৩০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ বছর পাটের দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের ভালোমানের প্রতি মণ পাট গড়ে তিন হাজার ২০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রতি বিঘা জমিতে পাট উৎপাদন বাবদ চাষিদের লোকসান দিতে হচ্ছে প্রায় তিন হাজার থেকে চার হাজার টাকা। চাষিরা লোকসান পুষিয়ে নিতে পাটশোলা বিক্রি করছেন।
পাবনার বোয়াইলমারী হাটের পাট ব্যবসায়ী আব্দুস ছাত্তার সরকার জানান, আমরা পাবনার বিভিন্ন হাট থেকে পাট কিনে খুলনা নারায়ণগঞ্জের বড় বড় আড়তদার, বেলার ও রপ্তানিকারকদের কাছে পাইকারি বিক্রি করি। একটি সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। ফলে বড় বড় সিন্ডিকেট পাটের দর নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের কারণে দাম ওঠানামা করে। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে কৃষকরা পাটের দাম কম পাচ্ছে, সেটা ঠিক আছে তবে সরকারের পক্ষ থেকে বাজার দর ঠিক করা দরকার বলে তিনি জানিয়েছেন।
পাট ব্যবসায়ী (বেলার) সাহস আহমেদ চৌধুরী জানান, হাট-বাজারে পাটের দাম কম গড়ে প্রতি মণ তিন হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে উন্নতমানের প্রতি মণ পাট ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ রপ্তানিমানের পাট ব্যবসায়ীরা কমদামে কিনে গুদামজাত করছে। চলতি পাট মৌসুমে অর্থাভাবে রপ্তানিকারক ও বেসরকারি জুট মিলগুলোর পাট ক্রয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
পাবনার সুজানগর উপজেলার বনকোলা গ্রামের আব্বাস আলী, কালাম মণ্ডল, ইদ্রিস আলী, সাঁথিয়া উপজেলার ভবানিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল, কালাইচারা গ্রামের রজব আলী, ঘুঘুদহ গ্রামের গহের আলীসহ শতাধিক পাট চাষি জানান, এ বছর তারা পাট চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাটের ফলন ভালো হলেও, হাট-বাজারে গত বছরের চেয়ে এবার প্রতি মণ পাট এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। পাট বিক্রি করে তাদের উৎপাদন খরচ ওঠানো দূরের কথা প্রতি মণ পাটে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে।
এদিকে পাটশোলার চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় চাষিরা মহাসড়ক, আঞ্চলিক মহাসড়ক ও গ্রামীণ সড়কের দু’পাশে পাটশোলা ছড়িয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। তারা সেই পাটশোলা বিক্রি করে পাটের লোকসান অনেকটাই পুষিয়ে নিচ্ছেন।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, পাট বিক্রি করে চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে এ তথ্যের সাথে ভিন্নমত পোষণ করে তিনি বলেন, চাষিরা যে পাট বিক্রয়ে মূল্য হিসাব করে তার সঙ্গে কি পাটখড়ির (শোলার) দাম ধরে না। সেই পাটখড়িও অনেক দামি। এক মণ পাটের সঙ্গে প্রায় দুই মণ পাটখড়ি পাওয়া যায়। প্রতি মণ গড়ে ৪০০ টাকা হিসাবে এক বিঘা জমির পাট থেকে ৭ হাজার ২০০ টাকার পাটখড়ি পাওয়া যায়। চারকোল পাটশোলা পুড়িয়ে কার্বন তৈরি করে বিদেশে রফতানি করা হচ্ছে। এদিকে পাটশোলার বহুমুখী ব্যবহার শুরু হওয়ায় পাটশোলার চাহিদা ও কদর বহুগুণ বেড়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
বেড়া উপজেলার কোটালিয়া ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে অবস্থিত চারকোল মালিক জুলিয়াস বলেন, পাটকাঠির ছাই থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। চীনসহ বিভিন্ন দেশ পাটকাঠির ছাই থেকে কার্বন পেপার, কম্পিউটার ও ফটোকপিয়ারের কালি, আতশবাজি, ফেসওয়াশের উপকরণ, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি, প্রসাধনপণ্য ও সার তৈরি হচ্ছে। কয়েক বছর হলো তিনি চারকোল পাটকাঠির ছাই উৎপাদন করে চীনে রপ্তানি করছেন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পাটকাঠির ছাই রপ্তানি বাড়লে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন