সংবাদ

চলে গেলেন কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৮ এএম

চলে গেলেন কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের বিবৃতিতে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। তবে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন। People-এর প্রতিবেদনে প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ক্যানসারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়েছে।

প্রায় ছয় বছর বয়সেই প্রথম গান লিখেছিলেন পার্টন - ‘লিটল টিনি ট্যাসেলটপ’। ভুট্টার খোসার চুলওয়ালা প্রিয় পুতুলকে নিয়ে লেখা সেই গানটি তার মা যত্ন করে জুতার বাক্সে রেখে দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শুরু। এরপর আর থামেনি তার গান লেখা।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে জন্ম ডলি রেবেকা পার্টনের। ১২ সন্তানের পরিবারে বেড়ে ওঠা পার্টনের শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্যে। মাত্র ১১ বছর বয়সে স্থানীয় বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওল ওপ্রি’তে গান গাওয়ার সুযোগ পান।

স্কুলের পড়া শেষ করে সংগীতের শহর ন্যাশভিলে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে কান্ট্রি সংগীতশিল্পী পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে তার দীর্ঘ সংগীত-জুটি গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে একক ক্যারিয়ারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ওয়াগনারকে বিদায় জানিয়ে লিখেছিলেন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে গানটি বিশ্বজুড়ে নতুন করে জনপ্রিয় হয়। 

‘জোলিন’, ‘কোট অব মেনি কালারস’সহ তার লেখা গানগুলো তাকে বিশ্বসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত করে। জীবনে প্রায় ৩ হাজার গান লিখেছেন তিনি, যদিও রেকর্ড করেছেন প্রায় ৪৫০টি। তার গান ১০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। ‘জোলিন’ গানটি বিয়ন্সে ও দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের মতো শিল্পীরাও গেয়েছেন।

মঞ্চের বাইরেও পার্টনের পরিচয় ছিল বহুমাত্রিক। ১৯৮০ সালে ‘৯ টু ৫’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক হয় তার। পরে ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’, ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ‘৯ টু ৫’ ও ‘ট্রাভেলিন থ্রু’ গানের জন্য অস্কার মনোনয়নও পান।

ব্যবসায়ও সফল ছিলেন পার্টন। নিজের অঙ্গরাজ্য টেনেসিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ডলিউড’ থিম পার্ক, যা পরে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়।

তবে তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ টিকার গবেষণায় ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ লাখ ডলার দেন। শিশুদের বই পড়ার সুযোগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে চালু করেন ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ কর্মসূচি। টেনেসির দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে নিজেকে কখনো শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করেননি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পার্টন ১১টি গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন। ২৫টি গান বিলবোর্ডের কান্ট্রি চার্টে এক নম্বরে উঠেছে। ২০০৭ সালে সংরাইটার্স হল অব ফেমের সর্বোচ্চ সম্মান ‘জনি মার্সার অ্যাওয়ার্ড’ পান। ২০২২ সালে তাকে ‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নিজের সংগীত-উত্তরাধিকার নিয়ে পার্টন বলেছিলেন, তিনি একজন ভালো গীতিকার হিসেবে স্মরণীয় হতে চান। তার কাছে গানই ছিল তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে গান, অভিনয়, ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিজস্ব এক জগৎ তৈরি করেছিলেন ডলি পার্টন। দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে বিশ্বখ্যাত তারকা হওয়া এই শিল্পী শেষ পর্যন্ত নিজের গল্পটিই লিখে গেছেন - গানের পর গান।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


চলে গেলেন কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মার্কিন কান্ট্রি সংগীতের কিংবদন্তি ডলি পার্টন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ৮০ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের বিবৃতিতে মৃত্যুর কারণ জানানো হয়নি। তবে তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন। People-এর প্রতিবেদনে প্রতিনিধিদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ক্যানসারের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ের পর তার মৃত্যু হয়েছে।

প্রায় ছয় বছর বয়সেই প্রথম গান লিখেছিলেন পার্টন - ‘লিটল টিনি ট্যাসেলটপ’। ভুট্টার খোসার চুলওয়ালা প্রিয় পুতুলকে নিয়ে লেখা সেই গানটি তার মা যত্ন করে জুতার বাক্সে রেখে দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শুরু। এরপর আর থামেনি তার গান লেখা।

১৯৪৬ সালের ১৯ জানুয়ারি টেনেসির পিটম্যান সেন্টারে জন্ম ডলি রেবেকা পার্টনের। ১২ সন্তানের পরিবারে বেড়ে ওঠা পার্টনের শৈশব কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্যে। মাত্র ১১ বছর বয়সে স্থানীয় বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। ১৩ বছর বয়সে ন্যাশভিলের বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওল ওপ্রি’তে গান গাওয়ার সুযোগ পান।

স্কুলের পড়া শেষ করে সংগীতের শহর ন্যাশভিলে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে কান্ট্রি সংগীতশিল্পী পোর্টার ওয়াগনারের সঙ্গে তার দীর্ঘ সংগীত-জুটি গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে একক ক্যারিয়ারে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে ওয়াগনারকে বিদায় জানিয়ে লিখেছিলেন ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। পরে হুইটনি হিউস্টনের কণ্ঠে গানটি বিশ্বজুড়ে নতুন করে জনপ্রিয় হয়। 

‘জোলিন’, ‘কোট অব মেনি কালারস’সহ তার লেখা গানগুলো তাকে বিশ্বসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পীতে পরিণত করে। জীবনে প্রায় ৩ হাজার গান লিখেছেন তিনি, যদিও রেকর্ড করেছেন প্রায় ৪৫০টি। তার গান ১০ কোটির বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। ‘জোলিন’ গানটি বিয়ন্সে ও দ্য হোয়াইট স্ট্রাইপসের মতো শিল্পীরাও গেয়েছেন।

মঞ্চের বাইরেও পার্টনের পরিচয় ছিল বহুমাত্রিক। ১৯৮০ সালে ‘৯ টু ৫’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে সিনেমায় অভিষেক হয় তার। পরে ‘দ্য বেস্ট লিটল হোরহাউস ইন টেক্সাস’, ‘স্টিল ম্যাগনোলিয়াস’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ‘৯ টু ৫’ ও ‘ট্রাভেলিন থ্রু’ গানের জন্য অস্কার মনোনয়নও পান।

ব্যবসায়ও সফল ছিলেন পার্টন। নিজের অঙ্গরাজ্য টেনেসিতে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ডলিউড’ থিম পার্ক, যা পরে অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়।

তবে তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ২০২০ সালে কোভিড-১৯ টিকার গবেষণায় ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে ১০ লাখ ডলার দেন। শিশুদের বই পড়ার সুযোগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে চালু করেন ‘ইমাজিনেশন লাইব্রেরি’ কর্মসূচি। টেনেসির দরিদ্র পরিবারের সন্তান হিসেবে নিজেকে কখনো শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করেননি।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পার্টন ১১টি গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন। ২৫টি গান বিলবোর্ডের কান্ট্রি চার্টে এক নম্বরে উঠেছে। ২০০৭ সালে সংরাইটার্স হল অব ফেমের সর্বোচ্চ সম্মান ‘জনি মার্সার অ্যাওয়ার্ড’ পান। ২০২২ সালে তাকে ‘রক অ্যান্ড রোল হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

নিজের সংগীত-উত্তরাধিকার নিয়ে পার্টন বলেছিলেন, তিনি একজন ভালো গীতিকার হিসেবে স্মরণীয় হতে চান। তার কাছে গানই ছিল তার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।

ছয় দশকের বেশি সময় ধরে গান, অভিনয়, ব্যবসা ও সমাজসেবায় নিজস্ব এক জগৎ তৈরি করেছিলেন ডলি পার্টন। দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে বিশ্বখ্যাত তারকা হওয়া এই শিল্পী শেষ পর্যন্ত নিজের গল্পটিই লিখে গেছেন - গানের পর গান।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত