সংবাদ

গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব, দিশেহারা গ্রাহক


প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:১০ পিএম

গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব, দিশেহারা গ্রাহক
ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, আবাসিক সংযোগকে বাণিজ্যিক করা এবং নতুন সংযোগের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের নাজেহাল করার তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন পাড়া গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী রেহেনা খাতুন সম্প্রতি চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। রেহেনা জানান, তার মিটারে বিল কম আসার অজুহাতে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন মিটারটি খুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ‘বিদ্যুৎ চোর’ অপবাদ দিয়ে মামলার ভয় দেখানো হয়। মামলা থেকে বাঁচতে ১ লাখ টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা দিয়ে রেহাই পান তিনি। তবে এই টাকার কোনো রসিদ তাকে দেওয়া হয়নি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন দেবগ্রাম ইউনিয়নের আব্দুল জলিল ফকির। তার মিটার সঠিক থাকা সত্ত্বেও মামলার ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ছাড়া খাবারের দোকানি আবুল কালামের সঙ্গে তর্কের জেরে তার বাড়ির আবাসিক সংযোগকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাণিজ্যিক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খাম্বা থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফসলের মাঠের ভেতর দিয়ে প্রায় দুই হাজার মিটার দূরে একটি মুরগির ফার্মে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ফার্মের মালিক সুমন মোল্লা জানান, বাণিজ্যিক কাজ করলেও তার সংযোগটি দেওয়া হয়েছে আবাসিক হিসেবে, যার বিল সরাসরি অফিসের লোক এসে নিয়ে যান।

তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গোয়ালন্দে ৩৪৮টি নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ফি ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা হলেও গ্রাহক প্রতি ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অর্থ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অভিযোগের বিষয়ে গোয়ালন্দ ওজোপাডিকোর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন। রাজবাড়ী ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন অর রশিদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী খান বলেন, বিদ্যুৎ অফিস এখন গ্রাহকদের ওপর জুলুম ও ডাকাতি চালাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। রাজবাড়ী জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


গোয়ালন্দ বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম-দুর্নীতির রাজত্ব, দিশেহারা গ্রাহক

প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) কার্যালয় ঘিরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, আবাসিক সংযোগকে বাণিজ্যিক করা এবং নতুন সংযোগের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে গ্রাহকদের নাজেহাল করার তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুন পাড়া গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রী রেহেনা খাতুন সম্প্রতি চরম হয়রানির শিকার হয়েছেন। রেহেনা জানান, তার মিটারে বিল কম আসার অজুহাতে বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন মিটারটি খুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ‘বিদ্যুৎ চোর’ অপবাদ দিয়ে মামলার ভয় দেখানো হয়। মামলা থেকে বাঁচতে ১ লাখ টাকা দাবি করা হলেও শেষ পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা দিয়ে রেহাই পান তিনি। তবে এই টাকার কোনো রসিদ তাকে দেওয়া হয়নি।

একই ধরনের অভিযোগ করেন দেবগ্রাম ইউনিয়নের আব্দুল জলিল ফকির। তার মিটার সঠিক থাকা সত্ত্বেও মামলার ভয় দেখিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ছাড়া খাবারের দোকানি আবুল কালামের সঙ্গে তর্কের জেরে তার বাড়ির আবাসিক সংযোগকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাণিজ্যিক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে একটি বৈদ্যুতিক খাম্বা থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ফসলের মাঠের ভেতর দিয়ে প্রায় দুই হাজার মিটার দূরে একটি মুরগির ফার্মে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ফার্মের মালিক সুমন মোল্লা জানান, বাণিজ্যিক কাজ করলেও তার সংযোগটি দেওয়া হয়েছে আবাসিক হিসেবে, যার বিল সরাসরি অফিসের লোক এসে নিয়ে যান।

তথ্য বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গোয়ালন্দে ৩৪৮টি নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ফি ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা হলেও গ্রাহক প্রতি ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই অর্থ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

অভিযোগের বিষয়ে গোয়ালন্দ ওজোপাডিকোর ভারপ্রাপ্ত আবাসিক প্রকৌশলী মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন। রাজবাড়ী ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন অর রশিদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আইয়ুব আলী খান বলেন, বিদ্যুৎ অফিস এখন গ্রাহকদের ওপর জুলুম ও ডাকাতি চালাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। রাজবাড়ী জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি জ্যোতি শংকর ঝন্টু এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত