চলতি আমন মৌসুমের ভরা সময়ে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের দাবি অনুযায়ী সারের কোনো ঘাটতি নেই। তবে ডিলার পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না সাধারণ কৃষকেরা। অভিযোগ উঠেছে, ডিলার ও ফড়িয়াদের যোগসাজশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই কেবল মিলছে কাঙ্ক্ষিত সার।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আগস্ট মাসের জন্য উপজেলায় ইউরিয়া ৩৭৫ মেট্রিক টন, টিএসপি ৭০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৭০ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১০৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ রয়েছে। বিসিআইসির ১০ জন এবং বিএডিসির ১৩ জন ডিলারের মাধ্যমে এসব সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করার কথা।
তবে সরেজমিনে উপজেলার জানিপুর, শিমুলিয়া, খোকসা ও ওসমানপুর ইউনিয়নের ডিলার পয়েন্টগুলো ঘুরে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা গোপনে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সার ফড়িয়া ও খুচরা বিক্রেতাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে এই অসাধু চক্র অতিরিক্ত দামে কৃষকদের সার কিনতে বাধ্য করছে।
একতারপুর হাটে সার কিনতে আসা কৃষক বিমল সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ডিলার পয়েন্টে গেলে বলা হয় সার নেই। কিন্তু পাশের ফড়িয়ার দোকানে অতিরিক্ত টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকি না থাকায় ডিলাররা খোলাবাজারে সার না দিয়ে ব্ল্যাকে বিক্রি করছে।’
একই অভিযোগ শিমুলিয়া ইউনিয়নের বেলজানি বাজারের সার ডিলার পয়েন্টেও। শিমুলিয়া পশ্চিমপাড়ার কৃষক মোতাহার হোসেন জানান, সরকারের বেঁধে দেওয়া রেটে সার মিলছে না। বেশি দাম দিলেই সার পাওয়া যায়। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকি না থাকায় তারা ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে গড়াই নদীর ওপারে ওসমানপুর ইউনিয়নের সার পয়েন্টগুলোতেও একই পরিস্থিতি। কৃষক মঞ্জের আলী বলেন, ‘চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। মাঠে ধান ভালো হলেও ঠিক সময়ে সার দিতে পারছি না। ছোটখাটো দোকানগুলো থেকে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। এভাবে চললে এবার বড় ধরনের ফলন বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হবে।’
কৃষকদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে খোকসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল নোমান জানান, আমন মৌসুমে আগস্ট মাসে উপজেলায় সারের কোনো ঘাটতি নেই। উপজেলার ২৮টি কৃষি ব্লকে ২৩ জন ডিলারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ করা হয়েছে। ডিলাররা সরকারি মূল্যেই সার বিক্রি করতে বাধ্য। তবে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের শিথিল তদারকির কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে মাঠ পর্যায়ের সাধারণ কৃষকেরা অবিলম্বে ডিলার পয়েন্টগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন