যশোরের শার্শা উপজেলায় একটি বৃহৎ মৎস্য খামারে বিপুল পরিমাণ মাছের মৃত্যুর ঘটনায় মালিকপক্ষের দাবির সঙ্গে বাস্তব তথ্যের অমিল পেয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে মাছ মারা গেছে বলে মালিকপক্ষ যে দাবি করেছিল, সরকারি অনুসন্ধানে তার সত্যতা মেলেনি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, ‘এত বড় ও ব্যয়বহুল প্রকল্পে বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা বা জেনারেটর থাকা আবশ্যক ছিল। তদন্তে দেখা গেছে, ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাট মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ নয়। বরং মাছের অতিরিক্ত ঘনত্ব, পর্যাপ্ত এয়ারেশন (কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ) না থাকা এবং ঘেরের ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণেই মূলত এই বিপর্যয় ঘটেছে।’
শার্শার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলসংলগ্ন ‘এ এফ মৎস্য খামারে’ মাছের মৃত্যুর পর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ২৫ আগস্ট স্থানটি পরিদর্শন করে তদন্তকারী দল। খামারটির যৌথ মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। তারা দাবি করেছিলেন, লোডশেডিং ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অক্সিজেন সংকটে তাঁদের প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা গেছে।
যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড অনুযায়ী ২২ আগস্ট রাতে মাত্র ৪৪ মিনিট (রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত) বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। বাকি সময় সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। এমনকি লোডশেডিং শুরু হওয়ার আগেই খামারে মাছ মরতে শুরু করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে পুকুরে মাছের অতিরিক্ত ঘনত্ব, উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাবারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ এবং ফাইটোপ্ল্যাংকটনের আধিক্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পানিতে পিএইচ (pH), অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় তীব্র অসামঞ্জস্যের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও খামারে বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না রাখা মালিকপক্ষের চরম অবহেলা। তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিদ্যুৎ-বিভ্রাট নয়, বরং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি ত্রুটিই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। এ ধরনের ঘটনায় তথ্যের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
আপনার মতামত লিখুন