কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাবেক পৌর কাউন্সিলর আল আমিন সৈকতকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বাদী হয়ে ভৈরব থানায় এই হত্যা মামলা করেন। মামলায় নিহতের আপন চাচা ও তিন চাচাতো ভাইসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন - নিহতের চাচা ও ভৈরব বাজারের তেল ব্যবসায়ী মগেন মিয়া এবং তার তিন ছেলে বাবু (২৯), জুম্মান (২৪) ও হাসান (২২)। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘হোটেল রিভার ভিউ’ থেকে বাসায় ফিরছিলেন আল আমিন সৈকত। পথে তিন বাজার গোপাল জিউ মন্দিরের কাছে রমজান মিয়ার হাওলির ভেতরে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, রাত ১১টা ৪২ মিনিটে সৈকত মোটরসাইকেলে ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় দুর্বৃত্তরা তার গতি রোধ করে। মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাত ১১টা ৪৬ মিনিটে একটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় ঘাতকরা। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে দাবি পরিবারের। সৈকতের বাবা জসিম উদ্দিন ও দুই চাচা নজরুল ইসলাম ও মগেন মিয়া। নজরুল ও জসিম মারা যাওয়ার পর পৈতৃক সম্পত্তি ‘ফকির মার্কেট’ এবং ফুফুদের ভাগের অংশ নিয়ে মগেন মিয়ার পরিবারের সঙ্গে সৈকতের বিরোধ চলছিল।
সৈকতের মা মিনারা বেগম বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আমার দেবরের ছেলেরা সৈকতকে কুপিয়ে মারার হুমকি দিত। এখন সেই হুমকিই সত্যি হলো।’ নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, ‘পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বারবার সালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি। আপন চাচাতো ভাইয়েরাই পরিকল্পিতভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে। আমি অপরাধীদের ফাঁসি চাই।’
ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ফুটেজের সঙ্গে পরিবারের দেওয়া বর্ণনার অনেক মিল পাওয়া গেছে। আসামিরা বর্তমানে পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহত আল আমিন সৈকত ভৈরব পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি ভৈরব চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক এবং জেলা সার সংগঠন বিএফএর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন