কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া ও একদিনে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত পৌর শহরের বঙ্গবন্ধু সরণির আইস কোং বেকারি এলাকায় এই কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয়রা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার কারণে পৌর এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বুধবার একই এলাকার জিদনী সিহাম (৪০) ও সৈয়দা বানু (৬৫) নামে দুই ব্যক্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করলে বঙ্গবন্ধু সরণি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা জি এম ইস্পাহানি মিয়ার ছেলে জিদনী সিহাম তিন দিন আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। তার শরীরে প্লাটিলেট দ্রুত কমে গেলে তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, একই এলাকার সৈয়দা বানু ভৈরবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রায় ৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত। মশা নিধনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।’ তৌকির আহমেদ নামে আরেকজন বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সরণি ও জিল্লুর রহমান রোডের পাশে ময়লার ভাগাড় রয়েছে। সেখানে পলিথিনে জমে থাকা পানিতে মশা বংশবিস্তার করছে। আমরা দ্রুত এই ভাগাড় অপসারণ চাই।’
অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশিদ। তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে শহরে মশা নিধনে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন।
এ বিষয়ে ইউএনও কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, ‘ভৈরবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়াটা দুঃখজনক। পৌরসভা থেকে মশা নিধনে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ময়লা ডাম্পিং স্টেশনের বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতিও চলছে।’
আপনার মতামত লিখুন