সংবাদ

সাতক্ষীরার ২৫০ স্কুলে জরাজীর্ণ দশা, ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান


মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা
মীর খায়রুল আলম, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

সাতক্ষীরার ২৫০ স্কুলে জরাজীর্ণ দশা, ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান
ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরা জেলার ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে চলছে শিশুদের পাঠদান। কোথাও পলেস্তারা খসা পুরোনো ভবন, আবার কোথাও টিনের আধাপাকা বা কাঁচা ঘরে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে শিশুদের অনিয়মিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় মোট ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি উপজেলার ২৫০টি বিদ্যালয়কে জরাজীর্ণ ও অবকাঠামোহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখায় পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে আশাশুনি উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কোনো ভবনের ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পাকা ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে গোলপাতা বা টিনের ছাউনি দেওয়া অস্থায়ী ঘরে পাঠদান চলছে।

নবীননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকুল রানী সরকার সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের কোনো পাকা ভবন নেই। আধাপাকা গোলপাতার ছাউনির নিচে শিশুদের বসাতে হয়। বৃষ্টি হলে ক্লাসের ভেতর পানি পড়ে। এমন পরিবেশে শিশুদের স্কুলে ধরে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।’

অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে তারা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিরাপদ ভবন ও আনন্দময় পরিবেশ অপরিহার্য। ভবনগুলো দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা না গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন সংবাদকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা জেলার ২৫০টি জরাজীর্ণ স্কুলের তালিকা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি, পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সাতক্ষীরার ২৫০ স্কুলে জরাজীর্ণ দশা, ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরা জেলার ২৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে চলছে শিশুদের পাঠদান। কোথাও পলেস্তারা খসা পুরোনো ভবন, আবার কোথাও টিনের আধাপাকা বা কাঁচা ঘরে বসতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি যেমন বাড়ছে, তেমনি বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে শিশুদের অনিয়মিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরায় মোট ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে সাতটি উপজেলার ২৫০টি বিদ্যালয়কে জরাজীর্ণ ও অবকাঠামোহীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই তালিকা ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখায় পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিনে আশাশুনি উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, কোনো কোনো ভবনের ছাদ ও দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পাকা ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে গোলপাতা বা টিনের ছাউনি দেওয়া অস্থায়ী ঘরে পাঠদান চলছে।

নবীননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুকুল রানী সরকার সংবাদকে বলেন, ‘আমাদের কোনো পাকা ভবন নেই। আধাপাকা গোলপাতার ছাউনির নিচে শিশুদের বসাতে হয়। বৃষ্টি হলে ক্লাসের ভেতর পানি পড়ে। এমন পরিবেশে শিশুদের স্কুলে ধরে রাখা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে।’

অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে তারা সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার জন্য নিরাপদ ভবন ও আনন্দময় পরিবেশ অপরিহার্য। ভবনগুলো দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা না গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন সংবাদকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করছে। আমরা জেলার ২৫০টি জরাজীর্ণ স্কুলের তালিকা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি, পিইডিপি-৫ প্রকল্পের আওতায় এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। এতে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত