সংবাদ

নেপালের ধ্বংসলীলা স্যাটেলাইটে, গায়েব গ্রাম-বিদ্যুৎকেন্দ্র


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

নেপালের ধ্বংসলীলা স্যাটেলাইটে, গায়েব গ্রাম-বিদ্যুৎকেন্দ্র
স্যাটেলাইট ছবিতে নেপাল-তিব্বতের ধ্বংসলীলা।

নেপালের ত্রিশূলি নদী উপত্যকায় হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের প্রকাশিত পূর্ব-পশ্চাৎ ছবিতে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ের গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৫৫০ জনের বেশি মারা গেছেন এবং আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই যে চারটি স্থানের ছবি বিশ্লেষণ করেছে, সেগুলোই প্রকোপের তীব্রতার সাক্ষী।

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত ফাঁড়ি: নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে প্রবেশের প্রধান পথটি প্রায় পুরোপুরি ভেসে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পানির তোড়ে মানুষ যখন পালানোর চেষ্টা করছিল, তখনই সেটি ভবনগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ ও কাদা প্রথম আঘাতের স্থান থেকে ২.৫ কিলোমিটার উজান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যা ১০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

টিমুরে গ্রাম: সীমান্তের কয়েক মাইল দক্ষিণে টিমুরে গ্রামটি এখন প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। এখানে উপত্যকার দেয়াল এতটাই খাড়া যে নদীপথ থেকে ৫০ মিটার ওপরে থাকা বাড়িগুলোর বেশিরভাগই ধ্বংস হয়েছে বা কাদায় চাপা পড়েছে।

সিয়াপ্রু

সিয়াপ্রু বেসি: ত্রিশূলি নদী সিয়াপ্রু বেসির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ১০ কিলোমিটার নিচের দিকের এই গ্রামটিও কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে। এখানে বাড়ি, সেতু ও একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

ত্রিশূলি শহর: সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তুলনামূলক বড় এই শহরের একটি পুরো এলাকা ভেসে গেছে। যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীর তোড়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি সেতু ভেঙে পড়ছে এবং বাসের ভেতর থেকে মানুষ চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা করছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর জাতীয় দূরসংবেদন কেন্দ্রের (এনআরএসসি) বিশ্লেষণ বলছে, নেপালের উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি হিমবাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশ ধসে পড়ে। 

এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহের সঙ্গে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। এই বিশাল বরফ-পাথর ধস খালি পথে নিচে নেমে আসে এবং নদীতে বাঁধ সৃষ্টি করে, যা পরে ভেঙে গেলে প্রচণ্ড বন্যা ও ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ তৈরি হয়। 

ভারত টুডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোতে কোশি-ত্রিশূলি করিডোরের ১৬টি ব্রিজ দৃশ্যমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে সিয়াপ্রু বেসির কাছের তিনটি পুরোপুরি ভেসে গেছে। এছাড়া ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিড থেকে ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরিয়ে নিয়েছে। নেপালের প্রাথমিকভাবে অবকাঠামো ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি। 

স্যাটেলাইট ছবিতে ধসের নিচের দিকে একটি বাধাপ্রাপ্ত হ্রদ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছে। 

তবে গ্লাসিওলজিস্ট অর্ঘ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে হ্রদের আয়তনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নেই এবং একটি নিষ্কাশন চ্যানেলও দৃশ্যমান, যা থেকে বোঝা যায় পানি ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে।. তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: বিবিসি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নেপালের ধ্বংসলীলা স্যাটেলাইটে, গায়েব গ্রাম-বিদ্যুৎকেন্দ্র

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেপালের ত্রিশূলি নদী উপত্যকায় হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় যে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, তার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে নতুন স্যাটেলাইট ছবিতে। মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ভ্যান্টরের প্রকাশিত পূর্ব-পশ্চাৎ ছবিতে দেখা গেছে, নদীর দুই পাড়ের গ্রাম, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে গেছে।

নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত ৫৫০ জনের বেশি মারা গেছেন এবং আরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই যে চারটি স্থানের ছবি বিশ্লেষণ করেছে, সেগুলোই প্রকোপের তীব্রতার সাক্ষী।

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত ফাঁড়ি: নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে প্রবেশের প্রধান পথটি প্রায় পুরোপুরি ভেসে গেছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পানির তোড়ে মানুষ যখন পালানোর চেষ্টা করছিল, তখনই সেটি ভবনগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ ও কাদা প্রথম আঘাতের স্থান থেকে ২.৫ কিলোমিটার উজান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যা ১০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

টিমুরে গ্রাম: সীমান্তের কয়েক মাইল দক্ষিণে টিমুরে গ্রামটি এখন প্রায় পুরোপুরি হারিয়ে গেছে। এখানে উপত্যকার দেয়াল এতটাই খাড়া যে নদীপথ থেকে ৫০ মিটার ওপরে থাকা বাড়িগুলোর বেশিরভাগই ধ্বংস হয়েছে বা কাদায় চাপা পড়েছে।

সিয়াপ্রু

সিয়াপ্রু বেসি: ত্রিশূলি নদী সিয়াপ্রু বেসির মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ১০ কিলোমিটার নিচের দিকের এই গ্রামটিও কাদা, পাথর ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গেছে। এখানে বাড়ি, সেতু ও একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়েছে।

ত্রিশূলি শহর: সীমান্ত থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তুলনামূলক বড় এই শহরের একটি পুরো এলাকা ভেসে গেছে। যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা গেছে, নদীর তোড়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি সেতু ভেঙে পড়ছে এবং বাসের ভেতর থেকে মানুষ চিৎকার করে পালানোর চেষ্টা করছে।

নেপাল-তিব্বত সীমান্ত

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর জাতীয় দূরসংবেদন কেন্দ্রের (এনআরএসসি) বিশ্লেষণ বলছে, নেপালের উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত একটি হিমবাহের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশ ধসে পড়ে। 

এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, হিমবাহের সঙ্গে পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। এই বিশাল বরফ-পাথর ধস খালি পথে নিচে নেমে আসে এবং নদীতে বাঁধ সৃষ্টি করে, যা পরে ভেঙে গেলে প্রচণ্ড বন্যা ও ধ্বংসস্তূপের প্রবাহ তৈরি হয়। 

ভারত টুডের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোতে কোশি-ত্রিশূলি করিডোরের ১৬টি ব্রিজ দৃশ্যমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে সিয়াপ্রু বেসির কাছের তিনটি পুরোপুরি ভেসে গেছে। এছাড়া ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিড থেকে ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরিয়ে নিয়েছে। নেপালের প্রাথমিকভাবে অবকাঠামো ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি রুপি। 

স্যাটেলাইট ছবিতে ধসের নিচের দিকে একটি বাধাপ্রাপ্ত হ্রদ তৈরি হয়েছে, যা নিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষ নতুন করে বন্যার আশঙ্কা করছে। 

তবে গ্লাসিওলজিস্ট অর্ঘ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে হ্রদের আয়তনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নেই এবং একটি নিষ্কাশন চ্যানেলও দৃশ্যমান, যা থেকে বোঝা যায় পানি ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে।. তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: বিবিসি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত