সংবাদ

যে শিক্ষিকা ছুটি নিতেন না, তাকে নিতে হলো চিরবিদায়!


প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রতিনিধি, বগুড়া
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২২ পিএম

যে শিক্ষিকা ছুটি নিতেন না, তাকে নিতে হলো চিরবিদায়!
রনজিনা পারভীন

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন। বয়স ৫৫ বছর। চোখের সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভুগছিলেন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও কাজ হয়নি।

শেষমেষ ডাক্তারের পরামর্শে শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় এলেন চোখ দেখাতে। পরিকল্পনা ছিল চিকিৎসা শেষ করে রাতেই বগুড়ায় ফিরে যাবেন। কারণ স্কুলে ছুটি নেননি তিনি।

শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ- এই দুই দিন কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা শেষ করে রোববার (৩০ আগস্ট) আবার স্কুলে যেতে হবে। স্কুলের প্রতি তার ছিল অগাধ দায়বদ্ধতা। খুব প্রয়োজন ছাড়া তিনি কখনো ছুটি নিতেন না।

কিন্তু ভাগ্য আর কোনো দিন তাকে স্কুলে যেতে দিল না। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে বগুড়া থেকে রওনা হয়ে ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছান রনজিনা। সঙ্গে ছিলেন স্বামী আব্দুল মতিন। সেখান থেকে রিকশায় করে খামারবাড়ি এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তারা।

ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের রাস্তায় পৌঁছান। সেখানেই মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রিকশা থেকে পড়ে যান রনজিনা।

স্বামী আব্দুল মতিনের চোখের সামনেই ঘটে গেল এই ঘটনা। দ্রুত আহত অবস্থায় তাকে নিয়ে যান শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখনও রনজিনা জীবিত ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

কিন্তু ঢামেকে নেওয়ার আগেই সোহরাওয়ার্দীতেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্বামী আব্দুল মতিন এখন একেবারে ভেঙে পড়েছেন। তার চোখের সামনে স্ত্রীকে হারিয়ে তিনি যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে।

শেরেবাংলার নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, রনজিনার ব্যাগে নগদ ১০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও জরুরি কাগজপত্র ছিল। ছিনতাইকারীরা ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। স্বামী আব্দুল মতিন অজ্ঞাত দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে শেরেবাংলার নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রনজিনা পারভীনের ফুফাত ভাই পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে তাদের গোছানো সংসার ছিল। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে তাকে প্রাণ হারাতে হলো।’

একমাত্র মেয়েটি এখন নবম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা আব্দুল মতিন গাবতলী উপজেলায় ব্যবসা করেন, একটি দোকান আছে। আজকের ঘটনার পর পুরো পরিবার যেন একাকার।

রনজিনার চাচাত ভাই নাসের সরকার বলেন, ‘আপা স্কুলের ব্যাপারে খুব সতর্ক ছিলেন। চিকিৎসা শেষে রাতে বাড়ি ফিরে রোববার আবার স্কুলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অথচ আজ এমন নির্মম পরিস্থিতির মুখে চিরতরে তিনি চলে গেলেন।’

এক নিমেষে শেষ হয়ে গেল সব স্বপ্ন, সব পরিকল্পনা। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকার মৃত্যুতে নেমে এলো শোকের ছায়া।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


যে শিক্ষিকা ছুটি নিতেন না, তাকে নিতে হলো চিরবিদায়!

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন। বয়স ৫৫ বছর। চোখের সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভুগছিলেন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও কাজ হয়নি।

শেষমেষ ডাক্তারের পরামর্শে শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোরে ঢাকায় এলেন চোখ দেখাতে। পরিকল্পনা ছিল চিকিৎসা শেষ করে রাতেই বগুড়ায় ফিরে যাবেন। কারণ স্কুলে ছুটি নেননি তিনি।

শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ- এই দুই দিন কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা শেষ করে রোববার (৩০ আগস্ট) আবার স্কুলে যেতে হবে। স্কুলের প্রতি তার ছিল অগাধ দায়বদ্ধতা। খুব প্রয়োজন ছাড়া তিনি কখনো ছুটি নিতেন না।

কিন্তু ভাগ্য আর কোনো দিন তাকে স্কুলে যেতে দিল না। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে বগুড়া থেকে রওনা হয়ে ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছান রনজিনা। সঙ্গে ছিলেন স্বামী আব্দুল মতিন। সেখান থেকে রিকশায় করে খামারবাড়ি এলাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে যাচ্ছিলেন তারা।

ভোর সাড়ে ৬টার দিকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের রাস্তায় পৌঁছান। সেখানেই মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে রিকশা থেকে পড়ে যান রনজিনা।

স্বামী আব্দুল মতিনের চোখের সামনেই ঘটে গেল এই ঘটনা। দ্রুত আহত অবস্থায় তাকে নিয়ে যান শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তখনও রনজিনা জীবিত ছিলেন। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

কিন্তু ঢামেকে নেওয়ার আগেই সোহরাওয়ার্দীতেই চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্বামী আব্দুল মতিন এখন একেবারে ভেঙে পড়েছেন। তার চোখের সামনে স্ত্রীকে হারিয়ে তিনি যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে।

শেরেবাংলার নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, রনজিনার ব্যাগে নগদ ১০ হাজার টাকা, মোবাইল ফোন ও জরুরি কাগজপত্র ছিল। ছিনতাইকারীরা ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়। স্বামী আব্দুল মতিন অজ্ঞাত দুই ছিনতাইকারীকে আসামি করে শেরেবাংলার নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রনজিনা পারভীনের ফুফাত ভাই পারভেজ আহমেদ বলেন, ‘স্বামী ও মেয়েকে নিয়ে তাদের গোছানো সংসার ছিল। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে তাকে প্রাণ হারাতে হলো।’

একমাত্র মেয়েটি এখন নবম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা আব্দুল মতিন গাবতলী উপজেলায় ব্যবসা করেন, একটি দোকান আছে। আজকের ঘটনার পর পুরো পরিবার যেন একাকার।

রনজিনার চাচাত ভাই নাসের সরকার বলেন, ‘আপা স্কুলের ব্যাপারে খুব সতর্ক ছিলেন। চিকিৎসা শেষে রাতে বাড়ি ফিরে রোববার আবার স্কুলে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। অথচ আজ এমন নির্মম পরিস্থিতির মুখে চিরতরে তিনি চলে গেলেন।’

এক নিমেষে শেষ হয়ে গেল সব স্বপ্ন, সব পরিকল্পনা। একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষিকার মৃত্যুতে নেমে এলো শোকের ছায়া।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত