সংবাদ

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কেরানীগঞ্জে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কেরানীগঞ্জে

ঢাকা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হওয়ায়, আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাস ও আন্তজেলা যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাবতলী বাস টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে এর পেছনের অংশ সম্প্রসারণ এবং কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটটি গাবতলীতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যানজট কমাতে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ইটিসি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি আধুনিক অ্যাপ উন্নয়নের কাজ আগামী চার মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সচিবালয়ের আশপাশের সড়কে যানজট কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিকল্প পার্কিংয়ের স্থান অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে অটোরিকশা চলাচলের জন্য একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া চলাচলাকারী ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্পিত দায়িত্বগুলো সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল যাচ্ছে কেরানীগঞ্জে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকা শহরের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বৈঠকে ঢাকা মহানগরীর চলমান যানজট পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফ্লাইওভারে যানবাহনের চাপ কমানো, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

পরিবহন খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তবে স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হওয়ায়, আগামী চার মাসের মধ্যে ঝিলমিল প্রকল্পের ১৫ একর জমিতে একটি অস্থায়ী বাস টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে বাস ও আন্তজেলা যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গাবতলী বাস টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে এর পেছনের অংশ সম্প্রসারণ এবং কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটটি গাবতলীতে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যানজট কমাতে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের টোল প্লাজাগুলোতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ইটিসি ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি আধুনিক অ্যাপ উন্নয়নের কাজ আগামী চার মাসের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া যাত্রাবাড়ী-গুলিস্তান ফ্লাইওভারের আশপাশের যানজট নিরসনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের আগের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে নতুন প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সচিবালয়ের আশপাশের সড়কে যানজট কমাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি বিকল্প পার্কিংয়ের স্থান অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করতে অটোরিকশা চলাচলের জন্য একটি পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন এবং কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া চলাচলাকারী ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে রাজধানীর যানজট নিরসনে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্পিত দায়িত্বগুলো সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত