নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘরের ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি রক্ষা ও দ্রুত সংস্কারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা।
সম্প্রতি বাণিজ্যিক শুটিংয়ের জন্য ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি কোক স্টুডিওর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে শুটিং শেষে অস্থায়ী স্থাপনাগুলো খুলে নেওয়ার সময় প্রাচীন মুঘল স্থাপত্যের এই ভবনের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক, বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহেদ কায়েস বলেন, সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘরের প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বড় সরদার বাড়িটি আমাদের দেশের মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম এক অনন্য নিদর্শন। সম্প্রতি শুটিংয়ের জন্য এটি কোক স্টুডিওর কাছে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, শুটিং শেষ হওয়ার পর যখন অস্থায়ী সেট ও স্থাপনাগুলো খুলে নেওয়া হচ্ছিল, তখন মূল ভবনের বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে আমাদের এই অমূল্য ঐতিহাসিক ভবনটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ হিসেবে সরদার বাড়ির এই ক্ষতি দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংগঠনটির অন্যান্য নেতারাও এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরদার বাড়ির এই ক্ষতি একেবারেই অপূরণীয়। সময়মতো দ্রুত সংস্কার করা না হলে প্রাচীন এই ভবনটির আরও মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানান তারা।
পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে সংস্কার করে সরদার বাড়িকে তার আগের রূপ ও নকশায় ফিরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানান বক্তারা। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে আরও অধিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে কর্মরত চারু ও কারুশিল্পীরা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় তাদের যথাযথ মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি এবং নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলসহ স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংস্কৃতিক নেতারা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘরের ঐতিহাসিক বড় সরদার বাড়ি রক্ষা ও দ্রুত সংস্কারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা।
সম্প্রতি বাণিজ্যিক শুটিংয়ের জন্য ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি কোক স্টুডিওর কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। তবে শুটিং শেষে অস্থায়ী স্থাপনাগুলো খুলে নেওয়ার সময় প্রাচীন মুঘল স্থাপত্যের এই ভবনের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের আহ্বায়ক, বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েস।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শাহেদ কায়েস বলেন, সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন জাদুঘরের প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো বড় সরদার বাড়িটি আমাদের দেশের মুঘল স্থাপত্যের অন্যতম এক অনন্য নিদর্শন। সম্প্রতি শুটিংয়ের জন্য এটি কোক স্টুডিওর কাছে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, শুটিং শেষ হওয়ার পর যখন অস্থায়ী সেট ও স্থাপনাগুলো খুলে নেওয়া হচ্ছিল, তখন মূল ভবনের বেশ কয়েকটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে আমাদের এই অমূল্য ঐতিহাসিক ভবনটি উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নসম্পদ হিসেবে সরদার বাড়ির এই ক্ষতি দ্রুত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংগঠনটির অন্যান্য নেতারাও এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরদার বাড়ির এই ক্ষতি একেবারেই অপূরণীয়। সময়মতো দ্রুত সংস্কার করা না হলে প্রাচীন এই ভবনটির আরও মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করার দাবি জানান তারা।
পাশাপাশি, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে সংস্কার করে সরদার বাড়িকে তার আগের রূপ ও নকশায় ফিরিয়ে নেওয়ার জোর দাবি জানান বক্তারা। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে আরও অধিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে কর্মরত চারু ও কারুশিল্পীরা নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। দেশের ঐতিহ্য রক্ষায় তাদের যথাযথ মর্যাদা ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন আয়োজক সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক কবি রহমান মুজিব, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি এবং নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলসহ স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংস্কৃতিক নেতারা।

আপনার মতামত লিখুন