সংবাদ

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০২ পিএম

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

ইসরায়েলি বিমান হামলা ও বেপরোয়া সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এবং সর্বগ্রাসী আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সিরিয়া।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি এই চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে এই অঞ্চল থেকে কেউ রেহাই পাবে না এবং এর পরিণতি পুরো বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার কৌশলগত আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে মাত্র স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আটবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুধু বিমান হামলা নয়, সিরিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক অনুপ্রবেশ, সাধারণ নাগরিকদের অপহরণ, এবং নির্বিচারে গোলাবর্ষণসহ নানা ধরণের আগ্রাসী হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সিরিয়ার বর্তমান করুণ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জর্জরিত দেশটিতে এখনো ৫৫ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এর মধ্যে ৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি অসহায় মানুষ ১ হাজার ২০০টিরও বেশি শরণার্থী শিবিরে অত্যন্ত দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত কেবল স্থলমাইন ও বিভিন্ন বিস্ফোরকের আঘাতে হতাহতের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬৫ জন সাধারণ মানুষ।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইব্রাহিম ওলাবি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও রক্তপাত কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সিরিয়া অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে ইসরায়েল যদি তাদের বেপরোয়া বিমান হামলা, সীমান্ত লঙ্ঘন ও সামরিক অনুপ্রবেশ অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে এই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে, সিরিয়ায় জাতিসংঘের উপ-দূত ক্লদিও কর্দোনে বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে এর পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটিতে এখনও চরম দারিদ্র্য ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, যার কারণে সাধারণ অধিকাংশ সিরিয়াবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত স্থল অভিযান, সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে আকস্মিক তল্লাশি এবং ব্যক্তিগত ও কৃষিজ সম্পত্তি ধ্বংস করার ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলি বিমান হামলা ও বেপরোয়া সামরিক অভিযান পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ বিপর্যয় এবং সর্বগ্রাসী আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সিরিয়া।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া এক বক্তব্যে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ইব্রাহিম ওলাবি এই চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলের এই আগ্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে এই অঞ্চল থেকে কেউ রেহাই পাবে না এবং এর পরিণতি পুরো বিশ্বের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।

সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়ার কৌশলগত আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে মাত্র স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আটবার বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। শুধু বিমান হামলা নয়, সিরিয়ার সার্বভৌম ভূখণ্ডে সরাসরি সামরিক অনুপ্রবেশ, সাধারণ নাগরিকদের অপহরণ, এবং নির্বিচারে গোলাবর্ষণসহ নানা ধরণের আগ্রাসী হামলা অব্যাহত রেখেছে দেশটি।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সিরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও সিরিয়ার বর্তমান করুণ মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে জর্জরিত দেশটিতে এখনো ৫৫ লাখের বেশি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এর মধ্যে ৮ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি অসহায় মানুষ ১ হাজার ২০০টিরও বেশি শরণার্থী শিবিরে অত্যন্ত দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত কেবল স্থলমাইন ও বিভিন্ন বিস্ফোরকের আঘাতে হতাহতের সংখ্যা ২ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৬৫ জন সাধারণ মানুষ।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইব্রাহিম ওলাবি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও রক্তপাত কমাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় সিরিয়া অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অংশ নিচ্ছে। তবে ইসরায়েল যদি তাদের বেপরোয়া বিমান হামলা, সীমান্ত লঙ্ঘন ও সামরিক অনুপ্রবেশ অবিলম্বে বন্ধ না করে, তবে এই সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে, সিরিয়ায় জাতিসংঘের উপ-দূত ক্লদিও কর্দোনে বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সিরিয়াকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক দেশের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্তকে তিনি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে এর পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেছেন, দেশটিতে এখনও চরম দারিদ্র্য ও অসহনীয় মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, যার কারণে সাধারণ অধিকাংশ সিরিয়াবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত স্থল অভিযান, সাধারণ মানুষের বাড়িঘরে আকস্মিক তল্লাশি এবং ব্যক্তিগত ও কৃষিজ সম্পত্তি ধ্বংস করার ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও বেশি অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত