সংবাদ

বাবার সঙ্গে শত্রুতা, ছাত্রকে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে


প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রতিনিধি, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা)
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫০ এএম

বাবার সঙ্গে শত্রুতা, ছাত্রকে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে
ছবি : সংবাদ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাবার সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে এক শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি বিষয়ে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. আল-রিশাদ মুগ্ধ।

আল-রিশাদ ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। 

লিখিত অভিযোগে আল-রিশাদ জানান, পরীক্ষার শেষ দিকে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষক তাকে ‘ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি ফরম পূরণের সময়ও তাকে বাধা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীর দাবি, প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তার বাবার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই আক্রোশ থেকেই পরীক্ষার কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা কৌশলে তার ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র পরিবর্তন করে থাকতে পারেন।

প্রকাশিত মার্কশিট পর্যালোচনায় দেখা যায়, আল-রিশাদ বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অথচ বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলোতে তিনি অত্যন্ত ভালো ফল করেছেন। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ১৭৫ নম্বরের মধ্যে ১৪২ পেয়ে এ প্লাস, রসায়নে ১৭৫ নম্বরের মধ্যে ১৪০ পেয়ে এ প্লাস এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯০ পেয়ে এ প্লাস পেয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য সব বিষয়েই তিনি এ বা এ প্লাস গ্রেড পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীর বাবা মুকুল মিয়া অভিযোগ করেন, ‘প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে আমার বিরোধের প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে ছেলের ওপর। আমি বোর্ডে গিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতা দেখেছি, সেখানে উত্তরপত্র ফাঁকা রাখা হয়েছে। আমার ছেলের আসল খাতা বদলে অন্য খাতা জমা দেওয়া হয়েছে।

বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আল-রিশাদের শিক্ষকরাও। ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম ও গণিত শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ্র জানান, আল-রিশাদ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। গণিত ও ইংরেজিতে তার ফেল করার কথা নয়। এর পেছনে কোনো রহস্য থাকতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মোছা. মঞ্জুয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। উত্তরপত্রে কোনো কারসাজি হয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


বাবার সঙ্গে শত্রুতা, ছাত্রকে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাবার সঙ্গে পূর্বশত্রুতার জেরে এক শিক্ষার্থীকে পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি বিষয়ে ফেল করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মো. আল-রিশাদ মুগ্ধ।

আল-রিশাদ ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। 

লিখিত অভিযোগে আল-রিশাদ জানান, পরীক্ষার শেষ দিকে উত্তরপত্র জমা দেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষক তাকে ‘ফেল করিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছিলেন। এমনকি ফরম পূরণের সময়ও তাকে বাধা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীর দাবি, প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে তার বাবার দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই আক্রোশ থেকেই পরীক্ষার কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরা কৌশলে তার ওএমআর শিট বা উত্তরপত্র পরিবর্তন করে থাকতে পারেন।

প্রকাশিত মার্কশিট পর্যালোচনায় দেখা যায়, আল-রিশাদ বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন। অথচ বিজ্ঞানের কঠিন বিষয়গুলোতে তিনি অত্যন্ত ভালো ফল করেছেন। তিনি পদার্থবিজ্ঞানে ১৭৫ নম্বরের মধ্যে ১৪২ পেয়ে এ প্লাস, রসায়নে ১৭৫ নম্বরের মধ্যে ১৪০ পেয়ে এ প্লাস এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯০ পেয়ে এ প্লাস পেয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য সব বিষয়েই তিনি এ বা এ প্লাস গ্রেড পেয়েছেন।

শিক্ষার্থীর বাবা মুকুল মিয়া অভিযোগ করেন, ‘প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সঙ্গে আমার বিরোধের প্রতিশোধ নেওয়া হয়েছে ছেলের ওপর। আমি বোর্ডে গিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতা দেখেছি, সেখানে উত্তরপত্র ফাঁকা রাখা হয়েছে। আমার ছেলের আসল খাতা বদলে অন্য খাতা জমা দেওয়া হয়েছে।

বিস্ময় প্রকাশ করেছেন আল-রিশাদের শিক্ষকরাও। ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মো. রিয়াজুল ইসলাম ও গণিত শিক্ষক দীপঙ্কর চন্দ্র জানান, আল-রিশাদ অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। গণিত ও ইংরেজিতে তার ফেল করার কথা নয়। এর পেছনে কোনো রহস্য থাকতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ধর্মপুর এসআইডি ভোকেশনাল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মোছা. মঞ্জুয়ারা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. বেলাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। উত্তরপত্রে কোনো কারসাজি হয়েছে কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করবে। সত্যতা পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষার্থীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত