সংবাদ

শেরপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররাও পারে না ইংরেজি


প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রতিনিধি, শেরপুর (বগুড়া)
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১১:০০ এএম

শেরপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররাও পারে না ইংরেজি
শেরপুরে ৫৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। ছবি : সংবাদ

বিনা মূল্যে পড়াশোনা, বছরের শুরুতেই নতুন বই, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও উন্নত অবকাঠামো–সবই আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। নানা সংকটে আস্থা হারিয়ে অভিভাবকেরা বাড়তি খরচ দিয়েও সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে পাঠাচ্ছেন। এর বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলায় মোট ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ বিদ্যালয় চলছে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন, যা পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ২০১২ ও ২০১৮ সালে কিছু নিয়োগ হলেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান শেরপুরের গাড়িদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, চতুর্থ শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী এমনকি সাধারণ ইংরেজিও পড়তে পারছে না। এ সময় তিনি শিক্ষকদের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সরকারি স্কুলে পড়াশোনা ও নজরদারির ঘাটতি নিয়ে সহকারী শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সরকারি স্কুলে একেকটি শ্রেণিতে ৫০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকে। এত বেশি শিক্ষার্থীর ওপর একজনের পক্ষে আলাদাভাবে নজর দেওয়া কঠিন। অন্যদিকে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় সেখানে ব্যক্তিগত তদারকি বেশি হয়।’

তবে অভিভাবকদের অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলছেন, কিন্ডারগার্টেনে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব থাকলেও সেখানে জবাবদিহি ও ইংরেজি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়মিত পরীক্ষা ও অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকায় তারা বাড়তি খরচ মেনে নিয়ে সেদিকেই ঝুঁকছেন। অভিভাবকেরা জানান, সরকারি স্কুলে মানসম্মত পাঠদান ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে তাদের আস্থা ফিরবে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, ‘নিয়োগসংক্রান্ত আইনি জটিলতা কেটে গেছে। খুব দ্রুতই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান ও তদারকি বাড়াতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


শেরপুরে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররাও পারে না ইংরেজি

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিনা মূল্যে পড়াশোনা, বছরের শুরুতেই নতুন বই, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও উন্নত অবকাঠামো–সবই আছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে এর উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। নানা সংকটে আস্থা হারিয়ে অভিভাবকেরা বাড়তি খরচ দিয়েও সন্তানদের কিন্ডারগার্টেনে পাঠাচ্ছেন। এর বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলায় মোট ১৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি স্কুলেই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। অর্থাৎ প্রায় ৪১ শতাংশ বিদ্যালয় চলছে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই। দীর্ঘদিন নিয়োগ না হওয়ায় সহকারী শিক্ষকেরা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে বাড়তি দায়িত্ব পালন করছেন, যা পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। ২০১২ ও ২০১৮ সালে কিছু নিয়োগ হলেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সম্প্রতি জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান শেরপুরের গাড়িদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, চতুর্থ শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী এমনকি সাধারণ ইংরেজিও পড়তে পারছে না। এ সময় তিনি শিক্ষকদের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

সরকারি স্কুলে পড়াশোনা ও নজরদারির ঘাটতি নিয়ে সহকারী শিক্ষক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সরকারি স্কুলে একেকটি শ্রেণিতে ৫০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী থাকে। এত বেশি শিক্ষার্থীর ওপর একজনের পক্ষে আলাদাভাবে নজর দেওয়া কঠিন। অন্যদিকে কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় সেখানে ব্যক্তিগত তদারকি বেশি হয়।’

তবে অভিভাবকদের অভিযোগ ভিন্ন। তারা বলছেন, কিন্ডারগার্টেনে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব থাকলেও সেখানে জবাবদিহি ও ইংরেজি শিক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়মিত পরীক্ষা ও অভিভাবকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকায় তারা বাড়তি খরচ মেনে নিয়ে সেদিকেই ঝুঁকছেন। অভিভাবকেরা জানান, সরকারি স্কুলে মানসম্মত পাঠদান ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে তাদের আস্থা ফিরবে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, শূন্য পদের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজোয়ান হোসেন বলেন, ‘নিয়োগসংক্রান্ত আইনি জটিলতা কেটে গেছে। খুব দ্রুতই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। পাশাপাশি সরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান ও তদারকি বাড়াতে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত