সংবাদ

ভয়ংকর এক ফাঁদের গল্প : লিফট দেওয়ার নামে অপহরণ


প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ এএম

ভয়ংকর এক ফাঁদের গল্প : লিফট দেওয়ার নামে অপহরণ
পিবিআইয়ের হাতে ধরা পড়ল আন্তজেলা অপহরণ চক্রের সদস্যরা। ছবি : সংবাদ

বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রাইভেটকারে তুলতেন তারা। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে চলত নির্যাতন। হাতিয়ে নেওয়া হতো সর্বস্ব। নরসিংদীতে যাত্রীবেশে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–মো. ওমর ফারুক (৩৪), নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান (৩০) এবং মো. সাইফুল ইসলাম ফকির (৩২)। তাদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ও ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় শিবপুরের চৈতন্য বাসস্ট্যান্ডে ঢাকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশীদ। এ সময় একটি প্রাইভেটকার তার সামনে এসে থামে। চালক তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড হয়ে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বাসের সমান ভাড়া নেওয়ার কথা জানান। বিশ্বাস করে গাড়িতে ওঠেন মামুনুর। সেখানে আগে থেকেই যাত্রীবেশে আরও তিনজন বসে ছিলেন।

গাড়িটি কিছু দূর যাওয়ার পরই মামুনুরের ওপর শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন। রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার ব্যক্তিগত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এরপর রাতে তাকে রায়পুরার মরজাল এলাকায় মহাসড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।

ঘটনার পর ১ আগস্ট শিবপুর থানায় মামলা হলে প্রথমে থানা-পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে ২৭ আগস্ট তদন্তভার হাতে নেয় পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গত দুই দিনে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই নরসিংদীর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কৌশলে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ৩০ আগস্ট ২০২৬


ভয়ংকর এক ফাঁদের গল্প : লিফট দেওয়ার নামে অপহরণ

প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে প্রাইভেটকারে তুলতেন তারা। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে চলত নির্যাতন। হাতিয়ে নেওয়া হতো সর্বস্ব। নরসিংদীতে যাত্রীবেশে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের এমন একটি সংঘবদ্ধ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন–মো. ওমর ফারুক (৩৪), নিজাম উদ্দিন ওরফে মিজান (৩০) এবং মো. সাইফুল ইসলাম ফকির (৩২)। তাদের কাছ থেকে অপহরণে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার, নগদ ৫০ হাজার ২৫০ টাকা ও ছয়টি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

পিবিআই জানায়, গত ৩০ জুলাই সন্ধ্যায় শিবপুরের চৈতন্য বাসস্ট্যান্ডে ঢাকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মামুনুর রশীদ। এ সময় একটি প্রাইভেটকার তার সামনে এসে থামে। চালক তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড হয়ে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বাসের সমান ভাড়া নেওয়ার কথা জানান। বিশ্বাস করে গাড়িতে ওঠেন মামুনুর। সেখানে আগে থেকেই যাত্রীবেশে আরও তিনজন বসে ছিলেন।

গাড়িটি কিছু দূর যাওয়ার পরই মামুনুরের ওপর শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন। রড ও পাইপ দিয়ে পিটিয়ে তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তার ব্যক্তিগত বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ৪ লাখ ২৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এরপর রাতে তাকে রায়পুরার মরজাল এলাকায় মহাসড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় অপহরণকারীরা।

ঘটনার পর ১ আগস্ট শিবপুর থানায় মামলা হলে প্রথমে থানা-পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরে ২৭ আগস্ট তদন্তভার হাতে নেয় পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গত দুই দিনে ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই নরসিংদীর জেলা ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই কৌশলে অপহরণের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত