ভরা মৌসুমে মৌলভীবাজারের চা-বাগানগুলোতে ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। কিন্তু কারখানায় কাঁচা পাতা পৌঁছানোর পরই শুরু হচ্ছে নতুন সংকট - বিদ্যুতের লুকোচুরি। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ে জেলার চা-কারখানাগুলোতে পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চায়ের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় ছোট-বড় ৯৩টি চা-বাগান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বাগান থেকে পাতা সংগ্রহের পর দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা না গেলে চায়ের স্বাভাবিক গুণাগুণ নষ্ট হয়। চা তৈরির প্রতিটি ধাপ - শুকানো, রোলিং, জারণ ও পুনরায় শুকানো - সম্পূর্ণ যন্ত্রনির্ভর। ফলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখানে অপরিহার্য। বর্তমানে বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, এতে জ্বালানি বাবদ খরচ বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে।
ফিনলে চা কোম্পানির চিফ অপারেটিং অফিসার তাহসিন আহমদ চৌধুরীসহ একাধিক বাগান ব্যবস্থাপক জানান, অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। ক্লোনেল চা-বাগানের ব্যবস্থাপক রনি ভৌমিক বলেন, জেনারেটর দিয়ে কারখানা সচল রাখায় উৎপাদন ব্যয় যেমন বাড়ছে, তেমনি বাগান পরিচালনায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জিএম শিবলীও চায়ের মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাতটি উপজেলায় চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী সুজিত কুমার বিশ্বাস জানান, ৫ লাখ গ্রাহকের জন্য চাহিদা ১১২ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৭০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট। ঘাটতি সামাল দিতে এলাকাভেদে সমহারে লোডশেডিং করা হচ্ছে। মৌলভীবাজার বিউবো’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ইন্দ্রোজিৎ দেবনাথ অবশ্য আশা করছেন, দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মিসআহউদ্দিন আহমদ বলেন, সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। ২০২৬ সালে দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং বিশ্ববাজারে চায়ের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বাগান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সুযোগ নিয়ে শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন