সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি, বাড়ছে ডেমারেজ ও লোকসান


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪২ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি, বাড়ছে ডেমারেজ ও লোকসান
ছবি : সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বৈরী আবহাওয়া ও লাইটারেজ জাহাজসংকটে পণ্য খালাসে তীব্র ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চাহিদামতো লাইটার জাহাজ না পাওয়ায় বহির্নোঙরে বড় জাহাজ বা মাদার ভেসেলগুলো দিনের পর দিন অলস বসে থাকছে। এতে আমদানিকারক ও শিপিং এজেন্টদের মোটা অঙ্কের বাড়তি মাসুল বা ‘ডেমারেজ’ গুনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাব্যতা-সংকটের কারণে বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে এসব জাহাজের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পণ্য বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস করতে হয়। ৫০ হাজার টন পণ্যবাহী একটি মাদার ভেসেলের জন্য প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারটি লাইটার জাহাজ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ মিলছে অনেক কম।

শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, প্রতিদিন যেখানে ১৫০ থেকে ২০০টি লাইটারেজ জাহাজ প্রয়োজন, সেখানে গত এক সপ্তাহে গড়ে মাত্র ৪০টি করে জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২০। অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার হোসেন জানান, আগে যে পরিমাণ পণ্য খালাস করতে ৮ থেকে ১০ দিন লাগত, এখন সেখানে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগছে। ফলে প্রতিটি জাহাজকে গড়ে ১৫ দিনের বাড়তি ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। কোনো কোনো জাহাজের ক্ষেত্রে দৈনিক ডেমারেজের পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ঘাটে জাহাজ আটকে থাকা এবং সিরিয়াল না মেনে কিছু জাহাজের চলাচল এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। নিয়ম না মেনে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আগে পণ্য পরিবহনে দেড় থেকে দুই হাজার লাইটারেজ জাহাজ নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে সক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

নৌবাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানান, পণ্য পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে ৫৬টি লাইটার জাহাজের ‘বে-ক্রসিং’ লাইসেন্স স্থগিত করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাসে ধীরগতি, বাড়ছে ডেমারেজ ও লোকসান

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বৈরী আবহাওয়া ও লাইটারেজ জাহাজসংকটে পণ্য খালাসে তীব্র ধীরগতি দেখা দিয়েছে। চাহিদামতো লাইটার জাহাজ না পাওয়ায় বহির্নোঙরে বড় জাহাজ বা মাদার ভেসেলগুলো দিনের পর দিন অলস বসে থাকছে। এতে আমদানিকারক ও শিপিং এজেন্টদের মোটা অঙ্কের বাড়তি মাসুল বা ‘ডেমারেজ’ গুনতে হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাব্যতা-সংকটের কারণে বড় জাহাজগুলো সরাসরি বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারে না। ফলে এসব জাহাজের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পণ্য বহির্নোঙরে লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস করতে হয়। ৫০ হাজার টন পণ্যবাহী একটি মাদার ভেসেলের জন্য প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে চারটি লাইটার জাহাজ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ মিলছে অনেক কম।

শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, প্রতিদিন যেখানে ১৫০ থেকে ২০০টি লাইটারেজ জাহাজ প্রয়োজন, সেখানে গত এক সপ্তাহে গড়ে মাত্র ৪০টি করে জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২০। অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. সারোয়ার হোসেন জানান, আগে যে পরিমাণ পণ্য খালাস করতে ৮ থেকে ১০ দিন লাগত, এখন সেখানে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগছে। ফলে প্রতিটি জাহাজকে গড়ে ১৫ দিনের বাড়তি ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। কোনো কোনো জাহাজের ক্ষেত্রে দৈনিক ডেমারেজের পরিমাণ ২৫ থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত।

ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের কর্মকর্তারা জানান, বৈরী আবহাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ঘাটে জাহাজ আটকে থাকা এবং সিরিয়াল না মেনে কিছু জাহাজের চলাচল এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। নিয়ম না মেনে চলাচলকারী জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আগে পণ্য পরিবহনে দেড় থেকে দুই হাজার লাইটারেজ জাহাজ নিয়োজিত থাকলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে আমদানিকৃত পণ্য খালাসে সক্ষমতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

নৌবাণিজ্য দপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ জালাল উদ্দিন গাজী জানান, পণ্য পরিবহনে অনিয়মের অভিযোগে ইতিমধ্যে ৫৬টি লাইটার জাহাজের ‘বে-ক্রসিং’ লাইসেন্স স্থগিত করেছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত