সংবাদ

লোডশেডিংয়ে বরফসংকট: সাগরে যেতে পারছেন না শরণখোলার জেলেরা


প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)
প্রতিনিধি, শরণখোলা (বাগেরহাট)
প্রকাশ: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

লোডশেডিংয়ে বরফসংকট: সাগরে যেতে পারছেন না শরণখোলার জেলেরা
ছবি : সংবাদ

তীব্র লোডশেডিংয়ে ভয়াবহ বরফসংকট দেখা দিয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলীয় এলাকায়। ইলিশের ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় বরফ না পেয়ে সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন ইলিশ আহরণে নিয়োজিত কয়েক হাজার মৎস্যজীবী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরণখোলা উপজেলার তিনটি বরফকল থেকে এই এলাকার শতাধিক ট্রলার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ, মঠবাড়িয়া ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলার শত শত ট্রলারে বরফ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে এক-তৃতীয়াংশ বরফও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বরফকল মালিকেরা জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান বরফ জমতে টানা ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে চাহিদা অনুযায়ী বরফ উৎপাদন হচ্ছে না।

বরফ না পেয়ে অসংখ্য ট্রলার বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করে আছে। ট্রলার মালিক ও জেলেরা জানান, সংকটের সুযোগে বরফের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে পূর্ণাঙ্গ জমা প্রতি ক্যান বরফের দাম ছিল ১৭০ টাকা, এখন আংশিক জমা বরফই কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকায়। মানসম্মত না হওয়ায় এই বরফ বেশিদিন টেকে না, ফলে ট্রলারের খোন্দকেই তা গলে যাচ্ছে।

শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে বরফ নিতে আসা এফবি মারুফ ট্রলারের মালিক মো. হারুন হাওলাদার বলেন, ‘কারেন্ট না থাকায় বরফ পাচ্ছি না। সময়মতো সাগরে যেতে না পারলে এই গোন (জো) মিস হয়ে যাবে।’ মৎস্য আড়তদার মো. কবির হাওলাদার জানান, লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন তারা লোকসানের আশঙ্কায় আছেন।

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, বরফের অভাবে উপকূলীয় এলাকার শত শত ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে কয়েক হাজার জেলে ও মহাজনদের পথে বসতে হবে। বরফকল মালিক সমিতির নেতা বাবুল দাস জানান, প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বরফ না জমলেও তাদের ঠিকই নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শরণখোলা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম জাহিদ রেজা বলেন, ‘শরণখোলায় প্রতিদিন ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’ এই সংকট দ্রুত কাটবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লোডশেডিংয়ে বরফসংকট: সাগরে যেতে পারছেন না শরণখোলার জেলেরা

প্রকাশের তারিখ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

তীব্র লোডশেডিংয়ে ভয়াবহ বরফসংকট দেখা দিয়েছে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলীয় এলাকায়। ইলিশের ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় বরফ না পেয়ে সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন ইলিশ আহরণে নিয়োজিত কয়েক হাজার মৎস্যজীবী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরণখোলা উপজেলার তিনটি বরফকল থেকে এই এলাকার শতাধিক ট্রলার ছাড়াও পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ, মঠবাড়িয়া ও ভাণ্ডারিয়া উপজেলার শত শত ট্রলারে বরফ সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে এক-তৃতীয়াংশ বরফও উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বরফকল মালিকেরা জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যান বরফ জমতে টানা ৭-৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার কারণে চাহিদা অনুযায়ী বরফ উৎপাদন হচ্ছে না।

বরফ না পেয়ে অসংখ্য ট্রলার বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করে আছে। ট্রলার মালিক ও জেলেরা জানান, সংকটের সুযোগে বরফের দাম বাড়ানো হয়েছে। আগে পূর্ণাঙ্গ জমা প্রতি ক্যান বরফের দাম ছিল ১৭০ টাকা, এখন আংশিক জমা বরফই কিনতে হচ্ছে ২০০ টাকায়। মানসম্মত না হওয়ায় এই বরফ বেশিদিন টেকে না, ফলে ট্রলারের খোন্দকেই তা গলে যাচ্ছে।

শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটে বরফ নিতে আসা এফবি মারুফ ট্রলারের মালিক মো. হারুন হাওলাদার বলেন, ‘কারেন্ট না থাকায় বরফ পাচ্ছি না। সময়মতো সাগরে যেতে না পারলে এই গোন (জো) মিস হয়ে যাবে।’ মৎস্য আড়তদার মো. কবির হাওলাদার জানান, লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে এখন তারা লোকসানের আশঙ্কায় আছেন।

শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, বরফের অভাবে উপকূলীয় এলাকার শত শত ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে কয়েক হাজার জেলে ও মহাজনদের পথে বসতে হবে। বরফকল মালিক সমিতির নেতা বাবুল দাস জানান, প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। বরফ না জমলেও তাদের ঠিকই নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শরণখোলা সাব-জোনাল অফিসের এজিএম জাহিদ রেজা বলেন, ‘শরণখোলায় প্রতিদিন ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া উপায় নেই।’ এই সংকট দ্রুত কাটবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত