সংবাদ

সুরমার বুকে বৈঠার লড়াই, ফিরল হাওরের সেই ঐতিহ্য


প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ এএম

সুরমার বুকে বৈঠার লড়াই, ফিরল হাওরের সেই ঐতিহ্য
কিশোরগঞ্জের ইতনায় নৌকাবাইচে দুই নৌকার তীব্র প্রতিযোগিতা। ছবি : সংবাদ

ঢোল আর কাঁসরের বাদ্যি, সঙ্গে মাঝিমাল্লাদের সমবেত ‘হেঁইয়ো’ রবে সরগরম কিশোরগঞ্জের ইতনা উপজেলার সুরমা নদীর দুই পাড়। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে ঢল নেমেছিল লাখো মানুষের। বৈঠার ছন্দে আর জলতরঙ্গে মেতে ওঠা এই উৎসব যেন মুহূর্তেই হাওরের আকাশ-বাতাসকে উৎসবমুখর করে তোলে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইতনার ধনপুর বাজার সংলগ্ন সুরমা নদীতে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। ধনপুরবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কিশোরগঞ্জ-৪ (ইতনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা ছিল।

একসময় কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষাকালে নৌকাবাইচ ছিল নিয়মিত আয়োজন। তবে কালক্রমে এবং আয়োজকদের অভাবে এই ঐতিহ্য অনেকটা ম্লান হতে বসেছে। সেই পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতেই এবার বড় পরিসরে এই আয়োজন। খবর পেয়ে কেবল কিশোরগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ ট্রলার ও নৌকা নিয়ে সুরমা নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমান।

প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলা এই লড়াইয়ে মাঝিদের ছন্দবদ্ধ বৈঠার টানে নদীর পানি যেন নাচছিল। এই দৃশ্য দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন দর্শনার্থীরা। সুনামগঞ্জ থেকে আসা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘নৌকাবাইচ দেখে মনটা একদম ভরে গেল। প্রতিবছর যেন এমন আয়োজন হয়, এটাই চাওয়া।’

আয়োজক ও ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভজন কান্দি দাস জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বিকশিত করতে এবং তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার বার্তা দিতেই এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

লড়াই শেষে প্রথম স্থান অধিকার করে ধনপুরের ঘোষপাড়ার নৌকা। দ্বিতীয় হয় সুনামগঞ্জের শাল্লার কান্দিগাঁওয়ের নৌকা এবং তৃতীয় স্থান পায় নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর চানপুর গ্রামের নৌকা। পুরস্কার হিসেবে প্রথম বিজয়ীকে দেওয়া হয় একটি ‘সোনার হরিণ’, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ‘রুপার ময়ূর’ এবং তৃতীয় বিজয়ীকে একটি এলইডি টেলিভিশন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুরমার বুকে বৈঠার লড়াই, ফিরল হাওরের সেই ঐতিহ্য

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ঢোল আর কাঁসরের বাদ্যি, সঙ্গে মাঝিমাল্লাদের সমবেত ‘হেঁইয়ো’ রবে সরগরম কিশোরগঞ্জের ইতনা উপজেলার সুরমা নদীর দুই পাড়। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ দেখতে ঢল নেমেছিল লাখো মানুষের। বৈঠার ছন্দে আর জলতরঙ্গে মেতে ওঠা এই উৎসব যেন মুহূর্তেই হাওরের আকাশ-বাতাসকে উৎসবমুখর করে তোলে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইতনার ধনপুর বাজার সংলগ্ন সুরমা নদীতে এই নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়। ধনপুরবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় কিশোরগঞ্জ-৪ (ইতনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা ছিল।

একসময় কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বর্ষাকালে নৌকাবাইচ ছিল নিয়মিত আয়োজন। তবে কালক্রমে এবং আয়োজকদের অভাবে এই ঐতিহ্য অনেকটা ম্লান হতে বসেছে। সেই পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে আনতেই এবার বড় পরিসরে এই আয়োজন। খবর পেয়ে কেবল কিশোরগঞ্জ নয়, পার্শ্ববর্তী নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা থেকেও হাজার হাজার মানুষ ট্রলার ও নৌকা নিয়ে সুরমা নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমান।

প্রতিযোগিতায় মোট ১০টি সুসজ্জিত নৌকা অংশ নেয়। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলা এই লড়াইয়ে মাঝিদের ছন্দবদ্ধ বৈঠার টানে নদীর পানি যেন নাচছিল। এই দৃশ্য দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন দর্শনার্থীরা। সুনামগঞ্জ থেকে আসা আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘নৌকাবাইচ দেখে মনটা একদম ভরে গেল। প্রতিবছর যেন এমন আয়োজন হয়, এটাই চাওয়া।’

আয়োজক ও ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ভজন কান্দি দাস জানান, গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বিকশিত করতে এবং তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখার বার্তা দিতেই এই নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

লড়াই শেষে প্রথম স্থান অধিকার করে ধনপুরের ঘোষপাড়ার নৌকা। দ্বিতীয় হয় সুনামগঞ্জের শাল্লার কান্দিগাঁওয়ের নৌকা এবং তৃতীয় স্থান পায় নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর চানপুর গ্রামের নৌকা। পুরস্কার হিসেবে প্রথম বিজয়ীকে দেওয়া হয় একটি ‘সোনার হরিণ’, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ‘রুপার ময়ূর’ এবং তৃতীয় বিজয়ীকে একটি এলইডি টেলিভিশন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত