কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক মর্মান্তিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ফাতেমা বেগম। গত বছরের এপ্রিলে স্বামী মুহাম্মদ কাশেমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে মামলা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, সেই মামলার বাদী ফাতেমাকেই এখন দেড় বছরের কোলের শিশুকে নিয়ে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন কাটাতে হচ্ছে। একটি ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গত ৩১ আগস্ট রাত থেকে তিনি কারাবন্দী।
ফাতেমা কারাগারে যাওয়ায় তার বড় দুই মেয়ে রাজমিন আকতার ও মিশকাত জান্নাত এখন ঠাঁই পেয়েছে এতিমখানায়। বাবা নেই, মাও কাছে নেই–এমন পরিস্থিতিতে অবুঝ শিশু দুটি সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল কুতুবজোম ইউনিয়নের কামিতার পাড়ায় কবির বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে মুহাম্মদ কাশেমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন তার স্ত্রী ফাতেমা। সেই মামলার অন্যতম আসামি রাসেলের মা নুর জাহান বেগম পরে পাল্টা মামলা করেন ফাতেমা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়, কাশেম হত্যার পর রাসেলের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে নিহতের পরিবার।
তবে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ স্থানীয় বাসিন্দারা। মামলার প্রতিবেদনে যে তিন নারীকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা দাবি করেছেন–তারা এমন কোনো ঘটনার সাক্ষী নন এবং পুলিশকে কোনো জবানবন্দিও দেননি। তাদের নাম কীভাবে প্রতিবেদনে এল, তা নিয়ে তারা নিজেরাও বিস্মিত।
কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহমুদুল হক বলেন, '২৪ মে কোনো ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। কাশেম হত্যার পর তার পরিবারকে চাপে ফেলতেই এই কাল্পনিক মামলা করা হয়েছে।' তবে কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামালের দাবি, কাশেম হত্যার উত্তেজনায় কিছু ভাঙচুর হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই এই মামলা। তিনি অবশ্য মানবিক দিক বিবেচনা করে ফাতেমার জামিনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফাতেমার শাশুড়ি রাশেদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, 'আমার ছেলেকে হত্যা করল, এখন উল্টো আমাদেরই আসামি করে জেলে পাঠাচ্ছে। আমরা এর বিচার কার কাছে চাইব?'
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ফাতেমাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে জেলা লিগ্যাল এইডকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এতিমখানায় থাকা তার দুই সন্তানের দেখভালের জন্য মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
স্বামী হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই কোলের শিশুকে নিয়ে ফাতেমার এই হাজতবাস স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষায়–কবে মুক্তি পাবেন ফাতেমা, আর কবে ফিরে পাবেন তার সন্তানদের।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক মর্মান্তিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ফাতেমা বেগম। গত বছরের এপ্রিলে স্বামী মুহাম্মদ কাশেমকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ন্যায়বিচার চেয়ে মামলা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, সেই মামলার বাদী ফাতেমাকেই এখন দেড় বছরের কোলের শিশুকে নিয়ে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন কাটাতে হচ্ছে। একটি ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গত ৩১ আগস্ট রাত থেকে তিনি কারাবন্দী।
ফাতেমা কারাগারে যাওয়ায় তার বড় দুই মেয়ে রাজমিন আকতার ও মিশকাত জান্নাত এখন ঠাঁই পেয়েছে এতিমখানায়। বাবা নেই, মাও কাছে নেই–এমন পরিস্থিতিতে অবুঝ শিশু দুটি সারাক্ষণ কান্নাকাটি করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল কুতুবজোম ইউনিয়নের কামিতার পাড়ায় কবির বাজার এলাকায় তুচ্ছ ঘটনার জেরে মুহাম্মদ কাশেমকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ১০ জনকে আসামি করে মামলা করেন তার স্ত্রী ফাতেমা। সেই মামলার অন্যতম আসামি রাসেলের মা নুর জাহান বেগম পরে পাল্টা মামলা করেন ফাতেমা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হয়, কাশেম হত্যার পর রাসেলের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে নিহতের পরিবার।
তবে এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ স্থানীয় বাসিন্দারা। মামলার প্রতিবেদনে যে তিন নারীকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা দাবি করেছেন–তারা এমন কোনো ঘটনার সাক্ষী নন এবং পুলিশকে কোনো জবানবন্দিও দেননি। তাদের নাম কীভাবে প্রতিবেদনে এল, তা নিয়ে তারা নিজেরাও বিস্মিত।
কুতুবজোম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মাহমুদুল হক বলেন, '২৪ মে কোনো ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি। কাশেম হত্যার পর তার পরিবারকে চাপে ফেলতেই এই কাল্পনিক মামলা করা হয়েছে।' তবে কুতুবজোম ইউপি চেয়ারম্যান শেখ কামালের দাবি, কাশেম হত্যার উত্তেজনায় কিছু ভাঙচুর হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতেই এই মামলা। তিনি অবশ্য মানবিক দিক বিবেচনা করে ফাতেমার জামিনের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফাতেমার শাশুড়ি রাশেদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, 'আমার ছেলেকে হত্যা করল, এখন উল্টো আমাদেরই আসামি করে জেলে পাঠাচ্ছে। আমরা এর বিচার কার কাছে চাইব?'
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ফাতেমাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে জেলা লিগ্যাল এইডকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি এতিমখানায় থাকা তার দুই সন্তানের দেখভালের জন্য মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
স্বামী হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই কোলের শিশুকে নিয়ে ফাতেমার এই হাজতবাস স্থানীয়দের মনে ক্ষোভ ও বেদনার জন্ম দিয়েছে। সবাই এখন অপেক্ষায়–কবে মুক্তি পাবেন ফাতেমা, আর কবে ফিরে পাবেন তার সন্তানদের।

আপনার মতামত লিখুন