গাইবান্ধার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার জেনারেল (সদর) হাসপাতাল। কাগজে-কলমে শয্যা বাড়লেও বাস্তবে হাসপাতালটি ধুঁকছে তীব্র চিকিৎসক সংকট, নোংরা পরিবেশ আর প্রশাসনিক অনিয়মের বেড়াজালে। এখানে সেবা নিতে আসা রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে এক হাজার থেকে ১২০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। অন্তর্বিভাগে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা সব সময়ই বেশি থাকে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে ঠাঁই নিতে হয়েছে মেঝে কিংবা বারান্দায়। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ওয়ার্ডগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। শৌচাগারগুলোর উৎকট দুর্গন্ধে রোগীর স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোই দায় হয়ে পড়েছে। মেঝেতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতাল তো মনে হয় না, ময়লার ভাগাড়। এখানে সুস্থ মানুষ আসলেও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও কার্যক্রম চলছে এখনো পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল নিয়ে। চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। ২০১৮ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া নতুন ভবনের নির্মাণকাজ আজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।
সেবার এমন করুণ অবস্থার পাশাপাশি হাসপাতাল প্রশাসনে কেনাকাটা ও টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ ঠিকাদারি চক্রকে কাজ পাইয়ে দিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্রে অদ্ভুত সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, দরপত্র আহ্বানের নোটিশ প্রকাশের আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য জানাই অসম্ভব ছিল। এ ছাড়া মাত্র ১৬ দিনের নোটিশে তিন বছরের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার অবাস্তব শর্তও দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, গত অর্থবছরেও মন্ত্রণালয় থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও সেই একই সিন্ডিকেটকে কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালী এই চক্রের কারণে সাধারণ ঠিকাদারেরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ এবং টেন্ডার সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে না আনলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়বে।

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাইবান্ধার প্রায় ২৪ লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যার জেনারেল (সদর) হাসপাতাল। কাগজে-কলমে শয্যা বাড়লেও বাস্তবে হাসপাতালটি ধুঁকছে তীব্র চিকিৎসক সংকট, নোংরা পরিবেশ আর প্রশাসনিক অনিয়মের বেড়াজালে। এখানে সেবা নিতে আসা রোগীরা সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ফিরছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে এক হাজার থেকে ১২০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। অন্তর্বিভাগে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা সব সময়ই বেশি থাকে। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী হওয়ায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষকে ঠাঁই নিতে হয়েছে মেঝে কিংবা বারান্দায়। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় ওয়ার্ডগুলোতে সৃষ্টি হয়েছে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। শৌচাগারগুলোর উৎকট দুর্গন্ধে রোগীর স্বজনদের পাশে দাঁড়ানোই দায় হয়ে পড়েছে। মেঝেতে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, ‘হাসপাতাল তো মনে হয় না, ময়লার ভাগাড়। এখানে সুস্থ মানুষ আসলেও অসুস্থ হয়ে পড়বে।’
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও কার্যক্রম চলছে এখনো পুরোনো ১০০ শয্যার জনবল নিয়ে। চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২২ জন। ২০১৮ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া নতুন ভবনের নির্মাণকাজ আজও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে জরাজীর্ণ পুরোনো ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।
সেবার এমন করুণ অবস্থার পাশাপাশি হাসপাতাল প্রশাসনে কেনাকাটা ও টেন্ডার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ উঠেছে, একটি বিশেষ ঠিকাদারি চক্রকে কাজ পাইয়ে দিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) লঙ্ঘন করে দরপত্রে অদ্ভুত সব শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, দরপত্র আহ্বানের নোটিশ প্রকাশের আগে থেকেই নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ টাকা জমা থাকার শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ ঠিকাদারদের জন্য জানাই অসম্ভব ছিল। এ ছাড়া মাত্র ১৬ দিনের নোটিশে তিন বছরের অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার অবাস্তব শর্তও দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, গত অর্থবছরেও মন্ত্রণালয় থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও সেই একই সিন্ডিকেটকে কাজ দেওয়া হয়েছে। প্রভাবশালী এই চক্রের কারণে সাধারণ ঠিকাদারেরা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগ এবং টেন্ডার সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে না আনলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়বে।

আপনার মতামত লিখুন