সংবাদ

‘ঘুষ.সাইট’: কিবোর্ডই এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র


প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রতিনিধি, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ পিএম

 ‘ঘুষ.সাইট’: কিবোর্ডই এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র
ছবি : সংবাদ

মায়ের মৃত্যুর পর তার প্রাপ্য টাকা পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয়েছে ১৭ বছরের কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদকে। কোথাও ফাইল আটকে ছিল, কোথাও ফাইল নাড়াতে চাওয়া হয়েছে ঘুষ। এমনকি নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়েও তাকে দিতে হয়েছে বাড়তি টাকা। নিজের ও পরিবারের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই শাহেদ তৈরি করেছে একটি ওয়েবসাইট - ‘ঘুষ.সাইট’ (GhushSite)। যেখানে সাধারণ মানুষ পরিচয় গোপন রেখে তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে পারছেন।


শাহেদের দাবি, ওয়েবসাইটটি চালুর মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই এতে ১২ হাজার ২০২টি ঘুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দাবি করা ঘুষের পরিমাণ প্রায় ৩৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। তবে এটি কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়; কেবল ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীদের জমা দেওয়া তথ্যের হিসাব।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ বর্তমানে ঢাকার ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলের ছাত্র। বন্ধু ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরকে সঙ্গে নিয়ে গত ২১ আগস্ট তিনি সাইটটি চালু করেন। পরিচয় গোপন রেখে কোন দপ্তরে কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে, তা এখানে বিস্তারিত লেখা যায়। শাহেদ জানান, অভিযোগ প্রকাশের আগে স্ক্রিনিং ও মডারেশনের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শাহেদের মা আমিনা খাতুন ছিলেন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০২২ সালে তার মৃত্যুর পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ও অন্যান্য বকেয়া তুলতে গিয়ে পরিবারকে অন্তত ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীমের। ঘুষ না দেওয়ায় অনেক ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল।

নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে রূপান্তর করা শাহেদ এখন ডিজিটাল প্রতিবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে এই উদ্যোগের পর তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


‘ঘুষ.সাইট’: কিবোর্ডই এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অস্ত্র

প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

মায়ের মৃত্যুর পর তার প্রাপ্য টাকা পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হয়েছে ১৭ বছরের কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদকে। কোথাও ফাইল আটকে ছিল, কোথাও ফাইল নাড়াতে চাওয়া হয়েছে ঘুষ। এমনকি নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়েও তাকে দিতে হয়েছে বাড়তি টাকা। নিজের ও পরিবারের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই শাহেদ তৈরি করেছে একটি ওয়েবসাইট - ‘ঘুষ.সাইট’ (GhushSite)। যেখানে সাধারণ মানুষ পরিচয় গোপন রেখে তাদের ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে পারছেন।


শাহেদের দাবি, ওয়েবসাইটটি চালুর মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই এতে ১২ হাজার ২০২টি ঘুষের অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দাবি করা ঘুষের পরিমাণ প্রায় ৩৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। তবে এটি কোনো সরকারি পরিসংখ্যান নয়; কেবল ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীদের জমা দেওয়া তথ্যের হিসাব।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভার পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহেদ বর্তমানে ঢাকার ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের এ-লেভেলের ছাত্র। বন্ধু ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা সাইফ কবিরকে সঙ্গে নিয়ে গত ২১ আগস্ট তিনি সাইটটি চালু করেন। পরিচয় গোপন রেখে কোন দপ্তরে কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে, তা এখানে বিস্তারিত লেখা যায়। শাহেদ জানান, অভিযোগ প্রকাশের আগে স্ক্রিনিং ও মডারেশনের ব্যবস্থা থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

শাহেদের মা আমিনা খাতুন ছিলেন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। ২০২২ সালে তার মৃত্যুর পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা ও অন্যান্য বকেয়া তুলতে গিয়ে পরিবারকে অন্তত ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম শামীমের। ঘুষ না দেওয়ায় অনেক ফাইল আটকে রাখা হয়েছিল।

নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতাকে শক্তিতে রূপান্তর করা শাহেদ এখন ডিজিটাল প্রতিবাদের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তবে এই উদ্যোগের পর তিনি হুমকির মুখে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। শাহেদের বাবা শরিফুল ইসলাম তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত